News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২

উড়ে এসে জুড়ে বসায় মানেনি ফতুল্লাবাসী, কাসেমীর দম্ভ মিইয়ে গেল


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম উড়ে এসে জুড়ে বসায় মানেনি ফতুল্লাবাসী, কাসেমীর দম্ভ মিইয়ে গেল

এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের ৫ টি আসনের প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে অহংকারী ছিলেন জমিয়তে উলামা ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসেন কাসেমী যিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সদর) আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। আর এই মনোনয়ন পেয়ে অনেক বেশি অহংকারী হয়ে পড়েছিলেন। সবকিছুতেই তিনি ড্যামকেয়ার ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনে ফলাফলের মধ্য দিয়ে তার সকল দম্ভ চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছিল বিএনপি। এর মধ্যে অন্যতম ছিল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। ইসলামপন্থি দলটিকে চারটি আসন ছেড়েছিল তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী দল। আসনগুলো হলো নীলফামারী-১, নারায়ণগঞ্জ-৪, সিলেট-৫ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২। তারা সবাই বিএনপির পূর্ণ সমর্থন সত্ত্বেও জয় ঘরে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভোটে তারা সবাই প্রতিপক্ষের কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।

জানা যায়, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতাকর্মীদের আপত্তি থাকা সত্বেও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি জোটের মনোনয়ন পান মুফতি মনির হোসেন কাসেমী। আর এই মনোনয়ন পেয়েই তিনি অনেক বেশি অহংকারী হয়ে উঠেন। তিনি বিএনপির অনেক নেতাকর্মীদেরই মূল্যায়ন করেননি। সেই সাথে বিএনপি জোটের মনোনয়ন পেয়েই নিজেকে এমপি ভাবতে শুরু করেন। সবকিছুতেই তার অহংকার পরিলক্ষিত হচ্ছিলো।

সবশেষ গত ৯ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন মুফতি মনির হোসেন কাসেমী। সেদিনও তাকে অনেক বেশি অহংকারী পরিলক্ষিত হচ্ছিলো। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অহংকার নিয়ে মনির হোসাইন কাসেমী বলেছিলেন, “আমি শুধু সময় গুনতেছি, ১২ তারিখ আমি বিজয়ের মালা পড়বো।” কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসকল অহংকার আত্মবিশ্বাসের গুড়েবালি হলো।

বিএনপি দলীয় সূত্র বলছে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারটি আসন ছেড়ে দিয়েছিলো বিএনপি। তার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সদর) আসনে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর নাম ঘোষণা করা হয়। আর তার নাম ঘোষণার পর থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়।

বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রথম দিনই মনির হোসাইন কাসেমীর বক্তব্য ছিলো, সবাইকে সাথে নিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাবো এবং নির্বাচনী প্রচারণা চালাবো। তবে এ আসনে বিএনপির কোন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও আমি বিচলিত হবো না। তাকে স্বাগত জানিয়ে আমার প্রচারণা চালিয়ে যাবো। ধানের শীষ বা খেজুর গাছ প্রতীকের বিপরীতে কাউকেই চ্যালেঞ্জের উপযুক্ত বলে মনে করি না।

এদিকে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পাওয়া তার আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ায় বিএনপির দুই নেতাকে বহিস্কার করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। গত ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাদের বহিস্কার করা হয়।

বহিস্কারপ্রাপ্ত বিএনপির দুই নেতা হলেন- সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ শাহআলম। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য তাদেরকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য সহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বহিস্কারের কারণ একমাত্র মনির হোসাইন কাসেমী। তার নির্বাচনের পথ পরিস্কার করার জন্যই বিএনপি থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

তার আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শুরু থেকে নারায়ণগঞ্জ-৪ সংসদীয় এলাকার বিএনপির নেতাকর্মীরাসহ প্রায় সকলেই নিশ্চিত ছিলেন এই আসনে ২০ দলীয় জোটের পক্ষে বিএনপির প্রার্থীকেই ধানের শীষের প্রতিক দেয়া হবে। কিন্তু চূড়ান্ত বাছাই পর্বে হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসেন জমিয়ত উলামার মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মনির হোসাইন কাশেমী। সেই সাথে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে দিনভর নানা জল্পনার পর বিকেলে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় ধানের শীষের মনোনয়ন পত্র।

অথচ তার ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে ছিলো তৎকালিন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্যের সাথে আঁতাতের অভিযোগ। মূলত স্থানীয় ক্ষমতাসীনদের সমর্থনেই তার বেড়ে উঠা এবং একই সাথে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ারও ইচ্ছা পোষণ করেন। এমনকি বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরাসহ অনেকেই তাকে চিনতেনই না।

বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ ছিলো-বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামা হলেও জমিয়ত নেতা মনির হোসাইন কাসেমীকে কেউই চিনতো না। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শুরুতেও তার কোন আলাপ আলোচনাই ছিল না। সংসদীয় এলাকাতেও তার তেমন একটা পরিচিত নেই। অনেকের কাছেই তিনি অপরিচিত। তারপরেও তাকে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়।

কিন্তু এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বিএনপি স্থানীয় পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে পরামর্শ না করেই মনির হোসাইন কাসেমীকেই ২০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতিক পাওয়ার পরেও জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে তিনি কোন যোগাযোগ করেনি। এর আগেও তিনি যোগাযোগ করেনি। ফলে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও মনির হোসাইন কাসের্মীকে প্রায় অনেকটাই বয়কট করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মী।

এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও মনির হোসাইন কাসেমীকে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আর এই মনোনয়ন পেয়েই অহংকারে যেন তার মাটিতে পা পড়ছিলো না। কিন্তু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তিনি একেবারেই মাটিতে মিশে গেলেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা ও জনসাধারণ তাকে বয়কট করেছে।