News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২

ফতুল্লায় কাসেমীর বিদায়ের পর বিএনপির অপরাধীরা আতঙ্কে


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম ফতুল্লায় কাসেমীর বিদায়ের পর বিএনপির অপরাধীরা আতঙ্কে

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু, তেলচোর, মাদক ব্যবসায়ীদের পতনের ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে। এখানে তরুণ এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েই এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারী দিয়েছেন। এ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমীর আশেপাশে দেখা যায় এসব অপরাধীদের। ১২ ফেব্রুয়ারী ভোটের পরদিন কাসেমী এ জনপদ ছাড়ছেন। তিনি ফের চলে যাচ্ছেন বনানীতে তার বাড়িতে। বসবেন বারিধারার মাদ্রাসাতে। শুক্রবার তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে বিদায় চেয়েছেন।

নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে তরুণ প্রার্থী হিসেবে চমক দেখিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আব্দুল্লাহ আল আমিন। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৪০ হাজার ৮১৩ জন। ভোট পড়েছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮ ভোটার। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ১৭৭ টি ভোটকেন্দ্রে আল আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি জোটের মুফতি মনির কাসেমী পেয়েছেন ৮০ হাজার ১৩৮ ভোট। তবে আব্দুল্লাহ আল আমিনের ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করাটা তার জন্য সহজ ছিলো না। নানা রকমের প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেই ভোটের মাঠে লড়তে হয়েছে তাকে। তরুণ বয়সেই তার এই জয় নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস হয়ে থাকবে।

ফতুল্লার রিয়াদ চৌধুরীকে নিয়েও বক্তব্য দেন আল আমিন। তিনি বলেন ফতুল্লার একটি চৌধুরী কারখানা পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। প্রসঙ্গত বছরখানেক আগে এক ডাইং কারখানা মালিককে হুমকির অভিযোগে মামলায় তিনি কারাভোগ করেছিলেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। তখন আন্দোলনকারীদের উপর হামলা ও গুলি ছোড়ার নির্দেশ দেন কুতুবপুরের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়েছে।

কাসেমীর পাশে দেখা গেছে বহুল আলোচিত জোড়া খুন মামলার আসামি ও মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসী শহীদকে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শহীদ কাশিপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইটবালু ব্যবসা, ড্রেজার কার্যক্রম ও মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। বাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব কর্মকান্ড পরিচালনায় তার আলাদা ক্যাডার বাহিনী রয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।

মনির হোসাইন কাসেমীর পাশে দেখা গেছে গিরিধারার একজন চিহ্নিত ভূমিদস্যুকে। বিতর্কিত ওই ব্যক্তির নাম শাহাদাত চৌধুরী ওরফে শাহাদাত পুলিশ। গণমাধ্যমকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে তিনি কারাভোগও করেছেন।

কাসেমীকে ঘিরে রাখেন ফেরদাউসুর রহমান। তিনি শামীম ওসমানের অতি ঘনিষ্ঠ সেটা প্রকাশ্য। নিয়মিত শামীম ওসমানের সঙ্গে তিনি দেখা করতেন। শামীম ওসমানের অন্যতম ক্যাডার শাহ নিজামের নম পার্কের ডেরাতে নিয়মিত দেখা যেত তাকে।

কাসেমীর পাশে দেখা গেছে শহরের চিহ্নিত অস্ত্রবাজ রাসেলকে। গত বছর শহরে প্রকাশ্য গুলি ছুড়েছিল এ সন্ত্রাসী।

এদিকে ফতুল্লার আওয়ামী লীগের পলাতক সন্ত্রাসীদের ফেরানো হয়েছে। থানা বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার আশ্রয়ে আওয়ামী লীগের দুর্ধর্ষ প্রকৃতির নেতাকর্মীরা ফিরতে শুরু করেছে। এতে করে এলাকাতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের কেউ কেউ আবার ক্ষমতাধর নেতাদের সঙ্গে ছবি পোস্ট করছেন। কেউ আবার বিএনপি জোটের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমীর খেজুর গাছের ব্যানার ফেস্টুন সাটিয়েছে। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের এ প্রস্থানে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে।

ছাত্র জনতার উপর প্রকাশ্য গুলি ছোড়া নারায়ণগঞ্জের সাবেক সাংসদ শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানের সহোযোগি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা ইউপি সদস্য আব্দুল বাছেদ ওরফে বাছেদ মেম্বারকে আবারো এলাকাতে দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ আছে থানা বিএনপির একজন শীর্ষ নেতার সমঝোতায় তিনি এলাকাতে ফিরেছেন।