নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় অবস্থিত সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ঐতিহ্যবাহী ‘শহীদ জিয়া হল’ পুন:নির্মাণ করে আধুনিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সে রূপান্তরের দাবিতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং দৈনিক দেশের আলো সম্পাদক ও প্রকাশক আনিসুল ইসলাম সানি।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎ করে তিনি তার লিখিত আবেদন দাখিল করেন।
আবেদনপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় ‘শহীদ জিয়া হল’টি বর্তমানে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যথাযথ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং যে কোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তার স্বার্থে হলটি দ্রুত পুন:নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ৬০ দশমিক ৬২ শতাংশ জমির ওপর ১৯৭৮ সালের ১০ মার্চ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ‘টাউন হল’ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান শহীদ হওয়ার পর ১৯ জুলাই তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার আনিসুল ইসলাম সানির প্রস্তাব অনুযায়ী হলটির নাম ‘শহীদ জিয়া হল’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।
পরবর্তীতে জমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে আনিসুল ইসলাম সানি বাদী হয়ে একটি দেওয়ানি মামলা (নং-১৪৬/০৫) দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায়ের মাধ্যমে ‘শহীদ জিয়া হল’ নামটি স্বীকৃতি লাভ করে। যার কারণে দেশ থেকে পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দোসররা অনেক চেষ্টা করেও ‘শহীদ জিয়া হল’ নামটি পরিবর্তন করতে পারেনি। তারপরও থেমে থাকেনি বিভিন্ন ষড়যন্ত্র; ব্যর্থ হয়ে শহীদ জিয়া হলটি ব্যবহারের অনুপযোগী করাসহ এটাকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকার ফলে বর্তমানে শহীদ জিয়া হলটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যেকোনো মুহূর্তে হলটি ধসে পড়তে পারে! এমতাবস্থায় হলটি পুন:নির্মাণ করে ‘শহীদ জিয়া হল কমপ্লেক্স’ এ রূপান্তর করার জোর দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জবাসীর পক্ষে আনিসুল ইসলাম সানি। হলটির নামকরণের প্রস্তাবকারী ও জমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে মামলার বাদী আনিসুল ইসলাম সানি হলটিতে কার পার্কিংয়ের জন্য দ্বিতীয় তলা বিশিষ্ট বেইজমেন্ট, ৫০০ থেকে ৭০০ আসন বিশিষ্ট একটি এবং ১২০০ থেকে ১৫০০ আসন বিশিষ্ট অপর একটি মোট ২টি অডিটোরিয়াম, ছোট-বড় ২টি আর্ট গ্যালারি, ৪/৫টি ছোট-বড় সেমিনার কক্ষ এবং ১৫/২০টি নাটক ও সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য মহড়া কক্ষ রাখার কথা উল্লেখ করে শহীদ জিয়া হল কমপ্লেক্সটিতে একাধিক লিফট ও সিঁড়িসহ সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের কথাও বলেন তিনি।
এই কমপ্লেক্স বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জবাসী পাবে একটি অত্যাধুনিক সাংস্কৃতিক ও বিনোদন কেন্দ্র, যেখানে নতুন প্রজন্ম ইতিহাস, আদর্শ ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংযুক্ত হবে এবং শিল্পী, কবি-সাহিত্যিক, নাট্য ও সাংস্কৃতিককর্মী এবং সংগঠনগুলো পাবে একটি মর্যাদাপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
মন্ত্রী বরাবর আবেদনটি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সচিব, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান স্থপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন আনিসুল ইসলাম সানি।


































আপনার মতামত লিখুন :