বিগত আওয়ামীলীগ সরকার বিরোধী কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে পুলিশী নির্যাতনের শিকার নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল।
দীর্ঘদিন আমেরিকায় চিকিৎসা শেষে গত বছর ডিসেম্বর এসেছিলেন পরিবার নিয়ে। বাকি চিকিৎসা সম্পন্ন করতে বুধবার দুপুরে স্ত্রীকে নিয়ে আমেরিকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্পন্ন করে দ্রুতই দেশে ফিরে আসবো বলে জানিয়েছেন এটিএম কামাল।
তিনি বলেন, দেশ ও দলের প্রয়োজনে আমি জীবনভর নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি, করে যাবো। সুস্থতার জন্য নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন এটিএম কামাল। শিঘ্রই দেশে ফিরে আসবেন।
এটিএম কামাল তার ফেসবুকে একটি বার্তা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জবাসী উদ্দেশ্যে, আসসালামুয়ালাইকুম, পবিত্র রমজান মোবারক। শুরুতেই মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তারেক রহমানেরে নেতৃত্বে বাংলাদেশ নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করবে এবং বিশ্বমঞ্চে মর্যাদার সঙ্গে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে আমি এ বিষয়ে আশাবাদী। দলের প্রয়োজনে গত ১৭ বছর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে সক্রিয় থেকেছি। দুঃসময়ে পাশে থাকা আমার দায়িত্ব ছিল, সুসময় দেখা আমার প্রাপ্তি। দল ও দেশের জন্য কাজ করতে পারাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।
তিনি লিখেন, শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে চার বছর আমি দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বহিষ্কৃত ছিলাম। দলের সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান জানিয়েছি। তবে শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়ে আমার অবস্থান আপনারা সবাই জানেন-দলের সিনিয়র নেতৃত্ব ও সহকর্মীদের সঙ্গে থেকে তাদের দায়িত্ব ও কর্মকাণ্ডকে নিজের দায়িত্ব মনে করে কাজ করেছি। পরিবারের দায়িত্ব, পঞ্চাশের অধিক মামলা এবং নির্যাতনের কঠিন বাস্তবতায় অসুস্থ সহধর্মিনীকে নিয়ে চিকিৎসার প্রয়োজনে আমাকে যুক্তরাষ্ট্রে মেয়ের কাছে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। নিজের ও স্ত্রীর চিকিৎসা ব্যয় বহনের জন্য সেখানে নিরলস পরিশ্রম করেছি। দেশে ফেরার পরিস্থিতিও তখন ছিল না। ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর থেকেই দেশে ফেরার তীব্র আকাঙ্ক্ষা অনুভব করি। তবে দেশে জীবিকা ও জীবন ধারণ নিয়ে অনিশ্চয়তা, উপরন্তু বহিষ্কারাদেশও বহাল ছিল। অবশেষে ডিসেম্বরে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশে ফেরার উদ্যোগ গ্রহণ করি। কোনো পদ-পদবি ছাড়াই নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের সর্বত্র দলের পক্ষে কাজ করেছি। কতটুকু করতে পেরেছি, তার মূল্যায়ন জনগণই করবেন। দলের নিরঙ্কুশ বিজয় আমার দীর্ঘ সংগ্রামের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করেছে। এটিই আমার জীবনের বড় স্বার্থকতা।
কামাল বলেন, দেশে ফেরার সময় আমার সহধর্মিনীর পায়ের একটি জটিল অস্ত্রোপচার বাকি ছিল। দলের সিদ্ধান্তের পর সবকিছু স্থগিত রেখে দেশে চলে আসি। বর্তমানে তিনি শয্যাশায়ী। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, অন্যথায় স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তাকে নিয়ে অল্প কিছুদিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্পন্ন করে দ্রুতই দেশে ফিরে আসবো, ইনশাআল্লাহ। দেশ ও দলের প্রয়োজনে আমি জীবনভর নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি, করে যাবো।
































আপনার মতামত লিখুন :