বেশি বেতনের আশায় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বিদেশের মাটিতে গিয়ে ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে চেয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জে বন্দরের কয়েকজন শ্রমিক। কিন্তু সেই ভাগ্যের চাকা আর ঘুরেনি। বরং কারাগারে বন্দি অবস্থায় তাদের দিন পার করতে হচ্ছে। আর তাদের অনুপস্থিতে পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন অনিশ্চয়তায়।
স্থানীয় পর্যায়ে কথা বলে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে বন্দর সহ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার দক্ষ পোশাক শ্রমিক এবং বেকার লোকদের টার্গেট করে একটি অসাধু পাচারকারী চক্র। মাসে মোটা অংকের বেতন ও উন্নত জীবনযাত্রার প্রলোভন দেখিয়ে ফুসলিয়ে তাদের অবৈধ পথে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্ত ভারতে যাওয়ার পর থেকেই তারা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
বন্দরের পদুঘর, কুশিয়ারা, তিনগাঁ সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন খবর জানা গেছে। কারও স্বামী, কারও সন্তান আবার কারও বাবা নিখোঁজ। তবে কতজন নিখোঁজ তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেনি। সেই সাথে প্রশাসনের কাছেও নিখোঁজের কোনো তথ্য নেই। ভুক্তভোগীরা কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।
এদের মধ্যে বন্দরের পদুঘর বাড়িখালি এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে তিন সন্তানের জনক নূরনবী, কুশিয়ারা এলাকার আজিজুল হাকিমের ছেলে দুই সন্তানের জনক শামীম ও আবদুল কুদ্দুসের ছেলে দিদার হোসেন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে কাজের উদ্দেশ্যে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন।
ভারতের চেন্নাইয়ের কারাগারে বন্দি নূরনবী, দিদার ও শামীম দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানাতে পেরেছেন ভারতে তাদের জেল জীবনের দুঃখ-দুর্দশার কথা।
নিখোঁজ নূরনবীর স্ত্রী বিলকিস বেগম বলেন, আমার স্বামীকে ভালো বেতনের প্রলোভন দিয়ে ভারতে নিয়ে যায় দালালরা। এরপর ৭ মাস ধরে চেন্নাই কারাগারে আটক রয়েছেন তিনি। কিন্তু কি কারণে আটক করা হয়েছে তা জানি না। আমার স্বামীই ছিলেন আমার সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। বর্তমানে স্বামী ছাড়া আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি।
নিখোঁজ শামীমের স্ত্রী নিপা বলেন, কাজের সন্ধানে দালালের মাধ্যমে ভারত গিয়ে আমার স্বামী এক বছর ধরে একটি কারাগারে বন্দি আছেন। তিনি সেখানে অনেক কষ্টে আছেন। তাকে অনেক অত্যাচার করা হয়।
দিদার হোসেনের স্ত্রী খাদিজা বলেন, দালালরা বলেছিল ভালো কাজ দিবে। কিন্তু যাওয়ার পর শুনি পুলিশ ধরেছে। বর্তমানে আমাদের দেখার কেউ নেই। স্বামীরও খবর নিতে পারছি না।
এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিবানী সরকার বলেন, আমি আসার পর এরকম অভিযোগ কেউ করেনি। আমাদের কাছেও এরকম কোনো তথ্য নেই। এখন শুনছি এই বিষয়টি। আমরা এই বিষয়ে স্থানীয়ভাবে স্বজনদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।




































আপনার মতামত লিখুন :