নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বিসিক শিল্পাঞ্চলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের বক্তব্য এখন নারায়ণগঞ্জের আলোচিত বিষয়। অনুষ্ঠানটিতে নিট পোশাকশিল্প মালিক সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম উপস্থিত ছিলেন। বক্তৃতার সময় আল আমিন তাঁকে “ফ্যাসিস্টের দোসর” বলে আখ্যায়িত করেন। এ থেকেই শুরু হয় উত্তেজনা। এ ঘোষণার পর হাতেম অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যান এবং তাঁর সমর্থকরা সেখানে ভিড় জড়ো করে দ্রুত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপিকে দুই ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখেন। যেই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া সংগঠন ও ব্যক্তিরা।
হাতেমকে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দেয়া এবং তার পরবর্তীতে এমপিকে অবরুদ্ধ করার ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। শুধুমাত্র নারায়ণগঞ্জের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। দেশজুড়ে আলোচিত ঘটনা হিসেবে উঠে এসেছে এই বিষয়টি। এনসিপির কেন্দ্রীয় আহবায়ক নাহিদ ইসলাম এই ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছেন। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় সকল পক্ষ এই ঘটনায় আল আমিনের পক্ষে অবস্থান ব্যক্ত করেছে।
জুলাই আন্দোলন চলাকালে নারায়ণগঞ্জের নেতৃত্ব দিয়েছেন রাজনৈতিক কর্মী ও ছাত্রনেত্রী ফারহানা মানিক মুনা। আল আমিনকে অবরুদ্ধ রাখার ঘটনায় তিনি এবং গণসংহতি আন্দোলনের নেতৃবৃন্দরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বিবৃতিতে তুলে ধরেছেন যে, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও কাউকে হুমকি, বাধা বা ভয়ভীতি দেখিয়ে অবরুদ্ধ করার কোন সংস্কৃতি গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখে না।
ফারহানা মুনা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে 'তান্ডব' বলে গণহত্যাকারীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া বিকেএমইএ সভাপতি মো. হাতেমের লোকজন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিনকে বিসিকে অ'বরু'দ্ধ করে রেখেছিল। তাঁর অনুসারী এনসিপি নেতাকর্মীদেরও মারধর করা হয়েছে। দুই ঘন্টারও বেশি সময় ধরে একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে এভাবে অবরুদ্ধ রাখা প্রশাসনের সক্ষমতা ও আন্তরিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আমরা বলতে চাই, এটি স্পষ্টতই ঔদ্ধত্য। এই ঔদ্ধত্য্যের ইতি টানতে হবে। জুলাইয়ের সকল হত্যাকারী ও অপরাধীর বিচার করতে হবে। পাশাপাশি হ'ত্যার সঙ্গে যারা জড়িত নয়, তাদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই কেবল বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার একটি উন্নত ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র বিনির্মাণের পথে হাটতে পারে।
অন্যদিকে গণসংহতি আন্দোলন মহানগর শাখা তাদের বিবৃতিতে বলেন, সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন প্রকাশ্যে হাতেম আলীকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যায়িত করেন এবং তার সঙ্গে একই টেবিলে ইফতার করতে অস্বীকৃতি জানান। সংসদ সদস্যের এমন অবস্থানকে আমরা গণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারবিরোধী রাজনীতির ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছি।
কিন্তু উক্ত বক্তব্যের জের ধরে হাতেমের সমর্থকরা বিসিক শিল্পাঞ্চল এলাকায় সাংসদ আল আমিনকে প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখে। একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও সক্ষমতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। গণতান্ত্রিক দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সাংবিধানিক অধিকার। রাজনৈতিক মতভেদের কারণে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে অবরুদ্ধ করে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এনসিপির এমপিকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় থাকা পক্ষগুলোর সম্মিলিত প্রতিবাদ প্রমান করে ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ে তাদের অবস্থান ঐক্যবদ্ধ। যা আগামীতেও তাদের রাজনৈতিক লড়াইয়ে নিজেদের মধ্যে ঐক্য জিইয়ে রাখবেন।




































আপনার মতামত লিখুন :