নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নতুন সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের প্রতি এলাকার মানুষের প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। বর্ষা মৌসুম সামনে আসতেই ফতুল্লার লালপুরসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বছরের পর বছর ধরে চলমান এই দুর্ভোগ নিরসনে এবার কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এমপি আল আমিন। সম্প্রতি তিনি জাতীয় সংসদে ডিএনডি এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি নতুন ও সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের দাবি তুলেছেন। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় স্পিকারের মাধ্যমে পানিসম্পদ মন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিক নোটিশও জমা দিয়েছেন তিনি।
সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, তার নির্বাচনী এলাকার বহু সড়ক বছরের বেশিরভাগ সময়ই পানির নিচে ডুবে থাকে। বিশেষ করে বর্ষা এলেই পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। যদিও ২০১৭ সালে একনেকে একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছিল এবং সেটি ২০২৪ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে তার সুফল পাননি এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে অনিয়ম ও দুর্বল বাস্তবায়নের কারণে প্রকল্পটি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
এই বাস্তবতায় নতুন করে খাল পুনঃখনন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছেন এমপি আল আমিন। তার ভাষায়, “এটি শুধু উন্নয়ন নয়, সরাসরি জনস্বার্থের সঙ্গে জড়িত একটি জরুরি বিষয়।”
অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিজ্ঞতা ভিন্ন বাস্তবতার কথা বলে। তাদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই ড্রেন উপচে পানি রাস্তায় উঠে আসে, অনেক সময় ঘরবাড়িতেও ঢুকে পড়ে। লালপুর, পৌষপুকুরপাড়সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বছরের পর বছর ধরে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। নোংরা পানির মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যাটির পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল-ড্রেন দখল, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। ফলে প্রতি বছর বর্ষা এলেই পরিস্থিতি নতুন করে ভয়াবহ রূপ নেয়।
জলাবদ্ধতার প্রভাবও বহুমাত্রিক। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুলে যাওয়া ব্যাহত হয়, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দেয়, আর সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন, কারণ তাদের ঘরবাড়ি অল্প বৃষ্টিতেই পানির নিচে তলিয়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত দেড় দশকে অনেক প্রতিশ্রুতি এলেও স্থায়ী সমাধান চোখে পড়েনি। মাঝে মাঝে ড্রেন পরিষ্কার বা পাম্প বসানোর মতো উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কোনো ফল দেয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় নতুন করে দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটে।
তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। নতুন সংসদ সদস্য হিসেবে আব্দুল্লাহ আল আমিন এখন সরাসরি জনদৃষ্টিতে রয়েছেন। তার প্রতিটি উদ্যোগ, প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা যেমন বাড়ছে, তেমনি নজরদারিও বাড়ছে। দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারলে তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবেন এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে ব্যর্থ হলে সমালোচনার মুখে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা। খাল ও ড্রেন দখলমুক্ত করা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা, আধুনিক পাম্পিং ব্যবস্থা চালু করা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা এসব পদক্ষেপ একযোগে বাস্তবায়ন করতে হবে। শুধু সাময়িক পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নয়, টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলাই হতে পারে স্থায়ী সমাধানের পথ।
বর্ষা আসতে বেশি দেরি নেই। এর আগেই কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে আগের মতোই জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হবে ফতুল্লার বিস্তীর্ণ এলাকা এমন আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা। তাদের স্পষ্ট কথা, প্রতিশ্রুতি নয়, এবার তারা দেখতে চান বাস্তব কাজের প্রতিফলন।
সব মিলিয়ে, ফতুল্লার জলাবদ্ধতা সমস্যা এখন শুধুই একটি অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ নয়; এটি নতুন এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিনের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক পরীক্ষাও। এই পরীক্ষায় তার সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে তার প্রতি জনগণের আস্থা কতটা দৃঢ় হবে।




































আপনার মতামত লিখুন :