News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২

হকার ইস্যুতে ব্যবসায়ী নেতা মোরশেদ সারোয়ার সোহেলের যত পরামর্শ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১০:১৩ পিএম হকার ইস্যুতে ব্যবসায়ী নেতা মোরশেদ সারোয়ার সোহেলের যত পরামর্শ

হকার উচ্ছেদ ইস্যুসহ নগরের স্থায়ী উন্নয়ন ও যানজট নিরসনে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতা মোরশেদ সারোয়ার সোহেল।

বুধবার ৮ এপ্রিল সকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কনফারেন্স রুমে নগরের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এমন পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, হকার সমস্যার সমাধানে একদিন বা এক সপ্তাহের উচ্ছেদ কার্যক্রম কোনো স্থায়ী ফল বয়ে আনে না। অতীতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। তাই এ সমস্যার টেকসই সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক বাস্তবায়ন জরুরি।

হকার সমস্যাকে নগরের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহরে প্রায় দুই হাজার বা তার কিছু বেশি হকার রয়েছে। কিন্তু এই তুলনামূলক কম সংখ্যক হকারের কারণে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা ক্ষেত্রে ভোগান্তিতে পড়ছে।

শুধুমাত্র সহানুভূতির জায়গা থেকে হকারদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সমুচিত নয়ত্মবরং একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান প্রয়োজন।

তবে তিনি হকারদের গুরুত্বও অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, হকাররা সমাজের একটি প্রয়োজনীয় অংশ এবং তাদের কারণে সাধারণ মানুষ স্বল্প দামে বিভিন্ন পণ্য কিনতে পারে। তাই তাদের জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

সমাধান হিসেবে তিনি হকারদের জন্য বিকল্প স্থানে পুনর্বাসনের প্রস্তাব দেন।

পাশাপাশি বিদেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অনেক দেশে নির্দিষ্ট দিন ও নির্দিষ্ট স্থানে হকার বসার ব্যবস্থা রয়েছে। সেই মডেল অনুসরণ করে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট জায়গায় হকার বসার সুযোগ করে দিলে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন না ঘটিয়ে একটি সমন্বিত সমাধান পাওয়া সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, এই সমস্যার সমাধান এককভাবে সম্ভব নয়। সিটি করপোরেশন, প্রশাসন, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই কার্যকর সমাধান আসতে পারে। সিটি করপোরেশন ও প্রশাসন যেভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করছে, সে অনুযায়ী সবাইকে সহযোগিতা করা উচিত।

যানজট নিরসনে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর ভূমিকার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, বিকেএমইএ ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ সবসময়ই এ বিষয়ে সহযোগিতা করে আসছে। বিশেষ করে রমজান মাসে ১২০ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ দিয়ে তারা যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন। ৫ আগস্টের পর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে সিটি করপোরেশন যে উদ্যোগগুলো নিচ্ছে, সেগুলো যদি ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সহায়তা প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে প্রয়োজন হলে তারা সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

সবশেষে ওয়াসার পানির সংকট প্রসঙ্গে তিনি শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ রোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নদীর পানি ব্যবহারযোগ্য করতে হবে এবং যেসব কলকারখানা ও মিলের ডাইং কেমিক্যাল বর্জ্যে নদী দূষিত হচ্ছে, সেগুলো চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিকেএমইএ ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার সিটি করপোরেশনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।