News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২

নারায়ণগঞ্জে পানির সঙ্কট বাড়ছে


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১০:২৩ পিএম নারায়ণগঞ্জে পানির সঙ্কট বাড়ছে

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাতেই পানির সমস্যা রয়েছে। সেই সাথে দিন দিন যেন এটা প্রকট আকার ধারণ করছে। আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা পানির এই সমস্যাকে মানিয়ে নিতে পারলেও বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান থাকা অবস্থায় এই পানির সমস্যা আর সহ্য করতে পারছেন না। পানির এই সমস্যা দিন দিন অহনীয় হয়ে পড়েছে।

ফলে পানির এই সমস্যা ভোগাবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে। তিনি এই সমস্যার সমাধান না করতে পারলে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের ফুসিয়ে তুলবে পানির এই অসহনীয় ভোগান্তি। জনসাধারণ কোনো রকমের প্রতিবন্ধকতার কথা শুনতে চাইবে না। তারা তাদের সমস্যার সমাধানকেই বেশি অগ্রাধিকার দিবেন।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, যে সকল এলাকার পানির সমস্যা আছে আমরা সে সকল এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পানি সরবরাহের কথা বলেছি। সেই সাথে পাম্পের কিছু সমস্যা রয়েছে; সেগুলো অতিদ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি। আশা করছি পানির সমস্যা থাকবে না।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় পানির জন্য যেন হাহাকার চলছে। নিত্য প্রয়োজনীয় কাজ থেকে শুরু করে খাওয়ার পানি পর্যন্ত পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। সাময়িকভাবে সিটি করপোরেশন পক্ষে থেকে পানি সরবরাহ করলেও সেই পানি দিয়ে তাদের নূন্যতম পানির চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। বিশেষ করে তীব্র গরমের মৌসুম আসার সাথে সাথে পানির সমস্যা যেন প্রকট আকার ধারণ করেছে।

বিভিন্ন এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই কিছু কিছু এলাকায় এই পানির সমস্যা চলছে। বিশেষ করে বিগত রমজান মাস তাদের অনেক কষ্ট করে অহিবাহিত করতে হয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধান হলেও সেটা বেশিদিন স্থায়ী হয় না। কিছুদিন পর আবারও সেই পানির সংকট দেখা দেয়।

এদিকে বন্দর এলাকার পাশ দিয়েই বয়ে গেছে শীতলক্ষ্যা নদী। কিন্তু এই শুষ্ক মৌসুমে সেই নদীর পাশ দিয়ে যাওয়াই যেন দায় হয়ে যায় দুর্গন্ধ ও ময়লাযুক্ত পানির কারণে। আর সেই নদীর পানি দিয়ে দৈনন্দিন কাজকর্ম করার তো সুযোগই নেই। তারপরও এলাকাবাসী অনেকটা অপারগ হয়েই নদীর পানি দিয়েই গোসল করেন।

বন্দরের সসূলবাগ এলাকার বাসিন্দা টিটু নামে একজন বলেন, নদীর ময়লা পানি দিয়েই আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে যে পানি দেয়া হয় সেটাতে চাহিদা পূরণ হয় না।

কবিলের মোড় এলাকার বাসিন্দা এমদাদুল হক দিপু বলেন, আমাদের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পনির সমস্যা জর্জরিত সাধারণ মানুষজন। পানি আসে তো আসে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা বিভিন্ন রকমের তালবাহানা করছে। আমাদের ভোগান্তির যেন কোনো শেষ হচ্ছে না।

বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শাহিদুল হক লিপু বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের পানির সমস্যা চলছে। বিশেষ করে রমজান মাসে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। পানি ছাড়া জীবন যাপন করাটা কতটা কস্টের সেটা বলে বুঝানো যাবে না। নদীর পানি ময়লা; নদীর পানিও ব্যবহার করা যায় না। গোসল পর্যন্ত  করা যায় না। আমাদের অসহনীয় অবস্থার মধ্য দিয়ে দিন পার করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনের নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমরা স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে তার সাথে যোগাযোগ করেছি। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে গাড়ি দিয়ে পানি সরবরাহ করছে। তবে এই পানি দিয়ে আমাদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। শুধুমাত্র কোনো রকম রান্নার কাজে ব্যবহার করা যায়। আমাদের দাবী অতিদ্রুত যেন পানির ব্যবস্থা করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশা বলেন, লোডশেডিংয়ে কারণে পাম্প পরিমাণ অনুযায়ী চালাতে পারছে না। সেই সাথে পানির লেয়ায় নিচে নেমে গেছে। একই সাথে ব্যবস্থাপনার কিছু ঘাটতি আছে। ওয়াসাকে সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন নিয়ে গেলেও সে পরিমাণ জনবল নিয়োগ করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ওয়াসার দক্ষ জনবল ছিলো যেটা সিটি কর্পোরেশনের এখনও হয়নি। সবমিলিয়েই পানির সংকট দেখা দিয়েছে। কিছু কিছু এলাকার মানুষের কষ্ট দেখলে কান্না চলে আসে। তাদের পানির জন্য অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। এই সমস্যার সমাধানের জন্য সকলকেই সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পানির অপচয় রোধ করতে হবে।