নারায়ণগঞ্জ শহরের যানজট কমাতে চাষাঢ়া মহিলা কলেজ থেকে শুরু করে দুই নম্বর রেলগেট পর্যন্ত প্রস্তাবিত বাইপাস সড়ক বাস্তবায়নে অনেকদিন ধরেই আলাপ আলোচনা ছিলো। ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত দাবিতে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকেই যাচ্ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন সেই আলাপ-আলোচনা আবার থেমে গেছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবানের কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
এরই মধ্যে এ বিষয়টি আবারও সকলের নজরে আনার চেষ্টা করছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার। তিনি আবারও এই বাইপাস সড়কটি চালুর কথা বলেছেন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে হকার উচ্ছেদ প্রসঙ্গে এক প্রতিক্রিয়ায় মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, নগরীকে যানজটমুক্ত রাখার জন্য দুইনং রেলগেইট এলাকা দিয়ে বাইপাস সড়কের কথা বলা হচ্ছিলো। অনেকদিন ধরেই এই আলোচনা চলমান ছিলো। এতে সকলেই একমত ছিলো। আমরাও একমত ছিলাম।
তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসন এবং সিটি কর্পোরেশন এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছিলেন। হকার এবং অটোরিক্সা উচ্ছেদের মধ্য দিয়েই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে বলে মনে হয় না। বাইপাস সড়কটা চালু করতে পারলে সমস্যা সমাধান হবে বলে মনে করি।
এর আগে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালিন প্রশাসক ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে প্রস্তাবিত সড়ক এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন। পাশাপাশি ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রেলসেবার উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত সভায় এই বাইপাস সড়ক চালুর বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা ইতিবাচক মত দিয়েছিলেন।
যেহেতু প্রস্তাবিত সড়কটি রেলওয়ের জমির ওপর দিয়ে যাবে, তাই রেল কর্তৃপক্ষের সম্মতিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছিলেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এরপর আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাইপাস সড়কটি চালু হলে চাষাঢ়া, মহিলা কলেজ ও দুই নম্বর গেট এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট অনেকটাই কমবে। এতে নগরবাসীর সময় বাঁচবে, জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং নারায়ণগঞ্জ শহরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল বলেছিলেন, নারায়ণগঞ্জ আজ শুধু একটি শিল্প ও বাণিজ্যিক শহর নয়, এটি লাখ লাখ মানুষের বসবাসের জায়গা। কিন্তু আমাদের সড়ক সেই চাপ নিতে পারছে না। এই বাইপাস সড়ক শুধু আরেকটি রাস্তা নয়, এটি শহরের ভেতরের চাপ কমানোর একটি বাস্তব সমাধান। এটি চালু হলে সময় বাঁচবে, জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে।





































আপনার মতামত লিখুন :