প্রায় আড়াইশ বছর ধরে বাংলা নতুন বছরের শুরুতেই হয় পুরনো হিসাব চুকিয়ে ফেলে ব্যবসায়ীদের নতুন খাতা খোলার উৎসব যা ‘হালখাতা উৎসব’ নামে পরিচিত| বাণিজ্য নগরী নারায়ণগঞ্জে হালখাতা উৎসবের ইতিহাস সুদীর্ঘ ২৪৯ বছরের| দুই যুগ আগেও কার্ড ছাপা হতো হালখাতা উৎসবের| তবে কালের বিবর্তনে ও আধুনিকতার ছোয়ায় হারিয়ে গেছে সেই ঐতিহ্য আর জৌলুষ| এখনো কোন কোন ব্যবসায়ী সেই পুরনো ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন| নারায়ণগঞ্জ শহর ও শহরতলীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে হালখাতা উৎসবের প্রস্তুতি| চলছে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ| পঞ্জিকাতে এবছর দু’দিন ব্যাপী পালিত হচ্ছে হালখাতা উৎসবের|
জানা গেছে, প্রাচ্যের ডান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জ শহরের টানবাজারে দেশের অন্যতম বৃহৎ সুতার বাজারে রয়েছে সহস্রাধিক সুতা ব্যবসায়ী ও দু’শতাধিক রঙ কেমিক্যাল ব্যবসায়ী| নয়ামাটি ও উকিলপাড়াতে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ হোসিয়ারী পল্লীতেও রয়েছ অন্তত দুই হাজারের বেশী হোসিয়ারী পণ্য বিক্রি ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান| শহরের কালিরবাজার ও মিনাবাজার ¯^র্ণপট্টিতে অবস্থিত পাঁচ শতাধিক ¯^র্ণালংকার বিক্রির দোকানেও হালখাতা উৎসব পালিত হয়ে থাকে| নিতাইগঞ্জ ও ডালপট্টির পাইকারী ব্যবসাকেন্দ্রে অন্তত রয়েছে সহস্রাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান| রয়েছে অসংখ্য আটা-ময়দা ও লবন কারখানাও| ওইসকল প্রতিষ্ঠান চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটা ময়দা, লবনসহ খাদ্যদ্রব্য পাইকারী বিক্রি করে থাকে| এছাড়া নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সিমেন্ট কারখানাও হালখাতা উৎসব পালন করে থাকে|
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৭৭৭ সালে শহরের দেওভোগে শ্রী শ্রী রাজা লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া প্রতিষ্ঠার পর ওই আখড়ার নামেই নামকরণ হয় নারায়ণগঞ্জের| ওই আখড়া প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর হিন্দু ব্যবসায়ীরা তাদের বাংলা বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা ˆবশাখে আখড়ার ঠাকুরের চরণ ছুঁয়ে হালখাতা খুলত| ক্রেতারা দোকানে এসে বাকীর টাকা পরিশোধ করে মিষ্টি বাড়িতে নিয়ে যেত| ব্যবসায়ীরা পুরনো খাতার হিসেব নতুন খাতায় ওঠাতো| এই হালখাতা খোলার উৎসবের পাশাপাশি শুরু হয় বৈশাখী মেলা| যা আজও চলে আসছে| নারায়ণগঞ্জে হালখাতা উৎসব পালিত হয় দু’দিন ব্যাপী|
ব্যবসায়ীরা জানান, হালখাতা উৎসব এখন মিয়ম্রান হয়ে পড়েছে| আগে হালখাতা উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করা হতো| মিস্টিমুখ করানো হতো| মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হতো| কিন্তু এখন আগের মতো আর হালখাতা উৎসব পালন করা হয়না| তারপরেও অনেকে ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন|









































আপনার মতামত লিখুন :