অবশেষে ঘোষিত সময় অনুযায়ী ১৩ এপ্রিল থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরে শুরু হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত হকার উচ্ছেদ কার্যক্রম| তবে বাস্তবে উচ্ছেদের দিনটি যেন পরিণত হয় এক ভিন্ন চিত্রে যেখানে হকারদের অনুপস্থিতিতে রাজনীতিক ও নেতাকর্মীদের উপস্থিতিই হয়ে ওঠে মূল দৃশ্য| ফলে যে কর্মসূচি শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করার কথা ছিল, সেটি অনেকটাই রূপ নেয় সমাবেশমুখী আয়োজন হিসেবে|
সোমবার দুপুরে চাষাঢ়া এলাকায় শুরু হওয়া এ কার্যক্রমে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত ইসলাম খানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত হন| তাদের মধ্যে ছিলেন সংসদ সদস্য আবুল কালাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মাসুম বিল্লাহ, গণসংহতি আন্দোলনের তরিকুল সুজন, ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ফারহানা মানিক মুনা, জামায়াতের নেতা ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসেন এবং নারায়ণগঞ্জ চে¤^ারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল|
বিশেষ করে মহানগর বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো| কর্মসূচির এক পর্যায়ে তারা মিছিলের আদলে জড়ো হয়ে বক্তব্য দেওয়া শুরু করলে পরিবেশটি অনেকটাই রাজনৈতিক সমাবেশের রূপ নেয়| একের পর এক বক্তব্য, স্লোগান ও উপস্থিতির ভিড়ে মূল কার্যক্রমটি অনেকটাই আড়ালে পড়ে যায়|
অদ্ভুত বিষয় হলো, যে হকারদের উচ্ছেদ করতে এ আয়োজন তাদের কাউকেই সেদিন দেখা যায়নি| ভোর থেকেই শহরের প্রধান সড়ক ও ফুটপাতগুলো ছিল ফাঁকা| কোথাও ছিল না অস্থায়ী দোকান বা দখল করা স্থাপনা| সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সিটি করপোরেশনের আগাম ঘোষণার পর থেকেই হকারদের মধ্যে এক ধরনের চাপা আতঙ্ক ˆতরি হয়| অভিযানের মুখোমুখি না হয়ে অনেকেই ¯ে^চ্ছায় তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নেয়|
এদিকে কর্মসূচির কারণে চাষাঢ়া ও আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট| যেখানে যানজট নিরসনের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ, সেখানে উল্টো জনসমাগম ও যানবাহনের চাপ শহরবাসীর দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়| সাধারণ মানুষ এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন|
পথচারীরা অবশ্য ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় কিছুটা ¯^স্তি প্রকাশ করেছেন| উত্তর চাষাঢ়া এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “অনেকদিন পর ¯^াভাবিকভাবে হাঁটতে পারলাম| আগে এখানে হাঁটা প্রায় অসম্ভব হয়ে যেত| তবে এটা যেন সাময়িক না হয়ে স্থায়ী হয়, সেটাই চাই|”
এর আগে ৮ এপ্রিল নগর ভবনে আয়োজিত এক ˆবঠকে নাসিক প্রশাসক ঘোষণা দিয়েছিলেন, ১৩ এপ্রিল থেকে চাষাঢ়ার শহীদ জিয়া হল প্রাঙ্গণ থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে এবং তা ধারাবাহিকভাবে চলবে| তিনি জানান, পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের প্রায় ১০০ জন কর্মী এ কাজে নিয়োজিত থাকবে| প্রকৃত হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হবে| তবে বিবি রোডকে সম্পূর্ণ হকারমুক্ত রাখার বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানান|
এই ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নগরজুড়ে শুরু হয় আলোচনা| কারণ, অতীতে একাধিকবার চেষ্টা করেও নারায়ণগঞ্জ শহরকে স্থায়ীভাবে হকারমুক্ত করা সম্ভব হয়নি| সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর সময়েও এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে রাজনৈতিক নানা বাধার কারণে তা সফল হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন|
বর্তমান প্রশাসনের উদ্যোগে প্রথম দিনেই দৃশ্যত হকারশূন্য ফুটপাত নগরবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে| অনেকেই মনে করছেন, যদি এ অভিযান ধারাবাহিকভাবে চালানো যায়, তাহলে শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে|
তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে প্রথম দিনের মতো পরবর্তী দিনগুলোতেও কি হকাররা ¯ে^চ্ছায় সরে থাকবে, নাকি আবারও পুরনো চিত্র ফিরে আসবে| পাশাপাশি রাজনৈতিক উপস্থিতি ও প্রভাবমুক্ত থেকে প্রশাসন কতটা কার্যকরভাবে এ অভিযান পরিচালনা করতে পারবে, সেটিও এখন দেখার বিষয়|
সব মিলিয়ে, হকার উচ্ছেদের প্রথম দিনের কার্যক্রম শহরবাসীর কাছে যেমন ¯^স্তির বার্তা দিয়েছে, তেমনি ভবিষ্যৎ নিয়ে রেখে গেছে নানা প্রশ্নও|







































আপনার মতামত লিখুন :