নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানকে উদ্দেশ্য করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নাসিক ২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন আক্ষেপের সুরে বলেন, “সিদ্ধিরগঞ্জবাসীকে আপনি ওয়াদা করেছিলেন, ঈদের পর আপনি সুষম বন্টন করে দিবেন| আমি আশা করছি, আপনি এখনো সেই অবস্থানে আছেন| নয়তোবা সিদ্ধিরগঞ্জের নেতাকর্মীরা যাদের প্রাপ্য হোক তারা ইনশাআল্লাহ আদায় করে নিবেন| এখনই অনেক নেতাকর্মী ফুঁসে উঠেছে| সোনারগাঁয়ের অনেক লোক সিদ্ধিরগঞ্জে এসে মাস্তানি করেন| আপনি জানেন কিনা জানিনা| আপনার অগোচরে আপনার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ফ্যাক্টরি থেকে হিস্যা নিয়ে নিচ্ছে| যারা জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে লুটপাট করে গেছেন তারা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন| আদমজী ইপিজেডের ১২টা, ১৭টা ফ্যাক্টরি এখনো তারা ভোগ করছেন| এখনো তারা কিভাবে ভোগ করেন? আপনার ডিও লেটারের মাধ্যমে এর সুষম বন্টন হবে এমনটাই প্রত্যাশা আমাদের|”
গত ১৭ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জের নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন| সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ভাইরাল হয়| যা নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে|
এদিনের বক্তব্যে এমপি মান্নানকে উদ্দেশ্য করে ইকবাল হোসেন আরও বলেন, “সিদ্ধিরগঞ্জের যে ১১টি অঙ্গসংগঠন রয়েছে তাদের সঙ্গে আপনার আলোচনা করা উচিত| ৫ আগস্টের পূর্বে কারা আন্দোলন সংগ্রামে ছিল, ৫ আগস্টের পরে কারা রাজনীতি করছে, কারা নির্যাতিত হয়েছে, কারা মামলা খেয়েছে, হামলার শিকার হয়েছে তাদের তালিকা বের করে করে একেকটা অঙ্গসংগঠনকে একেকটা ফ্যাক্টরি বুঝিয়ে দেওয়া| এতে করে দীর্ঘ ১৭ বছর যারা কষ্ট করেছেন তাদের মূল্যায়ন করা হবে| আপনি যদি সে ব্যবস্থা না করে দেন, আমরা যারা সিদ্ধিরগঞ্জের নেতৃত্বাস্থানীয় পর্যায়ে রয়েছি, তারা কর্মীদের কাছে লজ্জিত হই| আমরা লজ্জিত হই সাধারণ মানুষের কাছে|”
ইকবাল হোসেন আরও বলেন, “প্রতিটি ফ্যাক্টরি থেকে যারা ৫ তারিখের পর ভোগ করছেন তারাই সমঝোতা করে সোনারগাঁয়ে বসে, বসুন্ধরায় বসে কমিশন বাণিজ্য করে নিয়ে যান| কাকপাখির মতোন নিজেদের চালাক মনে করবেন না| কাক যেমন চোখ বন্ধ করে লুকিয়ে রাখে, মনে করে কেউ তাকে দেখে নাই| আমাদের তা মনে করা বোকামি| বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জের কোন ফ্যাক্টরি কে ভোগ করছেন, কাদের কাছ থেকে কে কতটুকু কমিশন পাচ্ছেন, বন্দরের লোক কিভাবে সিদ্ধিরগঞ্জের কমিশন খায় এমন প্রশ্ন থেকেই যায়| যারা আপনার সঙ্গে আছেন তারা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা নন| আপনার নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় যারা যেমন পরিশ্রম করেছেন তাকে সেভাবেই মূল্যায়ন করবেন| সেজন্য কি পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মতোন ˆবষম্য সৃষ্টি করে সবকিছু সোনারগাঁয়ে নিয়ে যাবেন? আপনারাই লুটপাট করে খাবেন? আর এখানে সিদ্ধিরগঞ্জের ১১টি সংগঠন যারা দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করেছে, রাজপথে রক্ত ঝরিয়েছে, বিভিন্ন মামলা খেয়ে কারাবন্দী হয়েছে, পরিবারের অর্থ নষ্ট করে, জমিজমা বিক্রি করে ১৭ বছর জীবনযাপন করে গেছেন তাদের কি হবে? এখনো কি চান আপনার জন্য, দলের জন্য সম্পত্তি বিক্রি করে রাজনীতি করি| তাহলে আপনারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন|




























আপনার মতামত লিখুন :