নারায়ণগঞ্জ শহরে আবারো হকাররা এক হয়ে ফুটপাতে দোকান বসানোর চেষ্টা শুরু করেছে। শুক্রবার ১৭ এপ্রিল কয়েক জায়গাতে বিক্ষিপ্তভাবে দোকান বসালেও সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদকারী দল বাধা দেয়। এসব কারণে তারা গুটিয়ে নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। হকারদের একাধিক সূত্র বলছেন তারা এবার আক্রমনে যাবেন। উচ্ছেদকারী দল আসলে তাদের উপর হামলা করবেন। হকাররা এবার হামলা করে সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদকারী দলকে মানসিকভাবে চাপে রাখতে চাচ্ছেন। তারা মনে করেন কয়েকটি হামলা হলে উচ্ছেদকারী দল পিছু হটবে।
গত ১৩ এপ্রিল শহরের সকল সড়কের ফুটপাতের হকারদের উচ্ছেদ করে সিটি করপোরেশন। যদিও আগে থেকে ঘোষণা থাকায় সেদিন কোন হকার বসেনি। এর পর শুক্রবার পর্যন্ত মোটামুটি শহরের ফুটপাত ছিল ফাঁকা। হকারদের বিভিন্ন স্থানে জটলা পাকিয়ে আলোচনা করতে দেখা গেছে। চাষাঢ়া, গির্জার সামনে, গ্রীন্ডলেজ ব্যাংক মোড় সহ বিভিন্ন স্থানে তারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন।
হকার না থাকায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নগরবাসী। ফলে গত কয়েকদিন ফুটপাতে মানুষের চলাচল বেড়েছে। দ্রুত সময়ে হাঁটার কারণে তারা সিটি করপোরেশনের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
হকারদের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানান, এবার হকারদের পক্ষে দৃশ্যমান কেউ নাই। বিগত সময়ে যখন আইভী হকার উঠাতেন তখন শামীম ওসমানের মত শক্তিশারী মানব পক্ষ নিতেন। এবার সে ধরনের কেউ নাই। পেছন থেকে কেউ কেউ কলনাঠি নাড়ছেন। কিন্তু সরকার ও প্রশাসন ফুটপাত হকারমুক্ত রাখার জন্য বদ্ধপরিকর। স্থানীয় এমপি ও সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদেরাও হকারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এ অবস্থায় হকাররাও সভা সমাবেশের আগে ভিন্ন পথ অবলম্বন করতে যাচ্ছেন। তারা এবার সংঘবদ্ধ হয়ে হকার উচ্ছেদকারী দলের উপর আক্রমন করতে পারেন। তারা চাচ্ছেন একটি বিশৃঙ্খলা ঘটিয়ে শহরকে অশান্ত করে ফুটপাতে বসার ফায়দা নিতে।
জানা গেছে, জেলা পুলিশ প্রশাসন ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর থেকে হকারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে গিয়ে ফুটপাত ফাকা করে দেয়। আর প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান মেয়র আইভী। কোন ভাবেই ফুটপাতে বসতে ব্যর্থ হয়ে আন্দোলন শুরু করেন হকাররা। এর ধারবাহিকতায় ৩১ ডিসেম্বর মেয়র আইভীকে স্মরকলিপি প্রধান করেন। ওই বক্তব্যের পরই কঠোর হয়ে হকাররা। একের পর এক কর্মসূচি ও স্থানীয় এমপি শামীম ওসমান এবং সেলিম ওসমানের কাছে যান। ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি হকারদের সমাবেশে শামীম ওসমান হকারদের বঙ্গবন্ধু সড়কে বসার জন্য পক্ষে বক্তব্য দেন। আর পরদিনই হকারা মেয়র আইভীর উপর হামলা চালায়। যেখানে যুক্ত হয় শামীম ওসমানের অনুগামী নেতাকর্মীরাও। ইট পাটকেলের সঙ্গে গুলি করা হয় মেয়র আইভীকে লক্ষ্য করে। সেসময় মেয়র আইভী সহ অর্ধশতাধিক তার অনুগামী নেতাকর্মী আহত হয়। এছাড়া পরেও প্রায়শই হকারদের পক্ষেই কথা বলেন শামীম ওসমান।
ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হত্যাচেষ্টার পর পুলিশকে হত্যার চেষ্টা করেন বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে বসা হকাররা। সদর মডেল থানায় একটি মামলা করে পুলিশ।
২০২১ সালের ৯ মার্চ বিকেলে ফুটপাতে বসার দাবীতে হকাররা বিক্ষোভ করে। সেদিন পুলিশের সাথে মারামারির ঘটনা ঘটে।
হকারদের একটি অংশ জানান, তাদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে আবার বসার চেষ্টা করছেন।
নারায়ণগঞ্জবাসী একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, যানজটমুক্ত ও হাঁটাচলার উপযোগী শহর চান। কিন্তু সেই সঙ্গে দরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। উচ্ছেদ অভিযানের সাফল্য ধরে রাখতে হলে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা, জড়িতদের চিহ্নিতকরণ এবং হকারদের জন্য বাস্তবসম্মত পুনর্বাসন ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি।




































আপনার মতামত লিখুন :