News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

তেল সঙ্কট সেন্ট্রাল ঘাটে ট্রলার চলাচল বন্ধের আশঙ্কা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম তেল সঙ্কট সেন্ট্রাল ঘাটে ট্রলার চলাচল বন্ধের আশঙ্কা

জ্বালানী তেলের সংকটের কারণে রোববার ১৯ এপ্রিল সকাল থেকে বন্ধ হয়ে যেতে পারে সেন্ট্রাল খেয়াঘাটের নদী পারাপারের ট্রলার সার্ভিস। এমনটাই নিশ্চিত করেছেন ঘাটটির ইজারাদার দিদার খন্দকার। ঘাটটিতে প্রতিদিন ৭টি ট্রলার যোগে যাত্রীদের নদী পারাপার করা হয়ে থাকে। এই সাতটি ট্রলার পরিচালনায় প্রয়োজন হয়ে থাকে প্রতিদিন ১৩৫ থেকে ১৪০ লিটার ডিজেল। প্রয়োজনের মোতাবেক ডিজেল না পাওয়ায় এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে শনিবার ১৮ এপ্রিল বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শিবানী সরকারের সহযোগিতায় ১০০ লিটার ডিজেল এর ব্যবস্থা করে দিয়ে ট্রলার চলাচল অব্যাহত রাখা হয়েছে।

ঘাটের ইজারাদার দিদার খন্দকার জানান, টোল সংগ্রহের হিসেবে দৈনিক এ ঘাট দিয়ে অন্তত ৩০ হাজার যাত্রী কেবল ট্রলার দিয়েই পারাপার হন। ঘাটটি প্রতিবছর ইজারা দেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

তিনি বলেন, এতদিন পর্যন্ত যে জাহাজ থেকে তেল নিতাম তা গত একমাস ধরে বন্ধ আছে। কোথাও তেল পাচ্ছি না। গত কয়েকদিন ১২২ থেকে ১৩০ টাকায় ডিজেল কিনেছি। কিন্তু এ মুহূর্তে তেলের খুবই সংকট। এ ঘাটে সাতটি ট্রলার সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত টানা যাত্রী পারাপার করে। এতোদিন কোনো রকম করে ডিজেল সংগ্রহ করে ট্রলার চালানোর ব্যবস্থা করলেও গতকাল থেকে কোথাও ডিজেল না পেয়ে আমি জেলা প্রশাসক, বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, আমাদের স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা, মহানগর বিএনপি নেতা জাকির খান, বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগতি করেছি। আজকে সকালে বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদের ১০০ লিটার তেলের ব্যবস্থা করে দিয়েছে অন্য এক জায়গা থেকে আমি ৫০ লিটার তেল সংগ্রহ করেছি সেগুলো দিয়ে আজকে ট্রলার চালাচ্ছি, আগামীকাল সকাল ১০টা পর্যন্ত ট্রলার চালানো যাবে। এরপর ডিজেল না পাওয়া গেলে হয়তো ট্রলার চলাচল বন্ধ থাকবে। আমি সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। অপরদিকে যদি ডিজেল সংকটের কারণে ট্রলার বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আনাকাঙ্খিত এই ঘটনার জন্য আমি নারায়ণগঞ্জ এবং শহরবাসীর কাছে দু:খ প্রকাশ করছি।

এদিকে ট্রলার বন্ধ হয়ে সৃষ্ট উদ্বুত্ত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেন্ট্রাল খেয়াঘাট দিয়ে চলাচলকারী নৌকার মাঝিদের নিয়ে মত বিনিময় করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা।

তিনি মাঝিদের বলেন, যদি কোনো কারণে ট্রলার সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায় তাহলে আপনারা আপনাদের নৌকা গুলো চালু রাখবেন। যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করবেন। কিন্তু যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ নিবেন না।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এর রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশা জানান, এখন যে সংকটটি তৈরি হয়েছে এটা অভ্যন্তরীন নয়। এই সমস্যাটি সমস্ত পৃথিবী জুড়ে। আপাতত আমরা চেষ্টা করছি ডিজেল সংগ্রহ করে ট্রলার চলাচল স্বাভাবিক রাখার।

অপরদিকে নৌকার মাঝিদের সাথে কথা বলেছি উনারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন ওনারাও সর্বোচ্চটা দিয়ে যাত্রীদের নদী পারাপার অব্যাহত রাখবেন।

নারায়ণগঞ্জ বিআইডাব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। আগামীকাল থেকেই ট্রলার বন্ধ হয়ে যাবে এমনটা নয়। যদি তারা ডিজেলের ব্যবস্থা করতে পারে তাহলে ট্রলার চলবে। উনারা স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানিয়েছেন, ওনারা চেষ্টা করছেন। আমাদের পক্ষ থেকেও জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবগত করা হবে।

যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় খেয়াঘাট দিয়ে শহর ও বন্দরের যাত্রীরা নিয়মিত পারাপার হন। ইঞ্জিনচালিত ট্রলারের পাশাপাশি নৌকা দিয়েও এ ঘাট পার হন লোকজন। ট্রলারে জনপ্রতি ২ টাকা এবং নৌকায় জনপ্রতি ১০ টাকা দিয়ে পার হন তারা। সেই সাথে যাত্রীর তুলনার নৌকার সংখ্যা খুবই অপ্রতুল। যদি ডিজেল সংকটের কারণে ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে যায় তাহলে উভয় পাড়ের মানুষকেই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে। তৈরি হতে পারে বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।

জানা গেছে, প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে জীবিকার তাগিদে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করে থাকে। বিশেষ করে গার্মেন্ট শিল্পে হাজার হাজার শ্রমিক সহ বন্দর থানা এলাকা বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ এই ঘাট দিয়ে চলাচল করে থাকে।