News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ৩১ চৈত্র ১৪৩৩

ছাত্রশক্তি শিবিরের বি টিম


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম ছাত্রশক্তি শিবিরের বি টিম

ছাত্রত্ব নিয়ে প্রশ্ন ও আদু ভাই ডাকা প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রাজিব বলেন, “২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে আমি তোলারাম কলেজে ভর্তি হই। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সময় আমার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ফ্যাসিবাদের ওই সময়ে আমরা কোনো রাজনীতি করার সুযোগ পাইনি। এখন এই সুযোগ আমরা কাজে লাগাতে চাই। বর্তমানে আমি মাস্টার্সে অধ্যয়নরত রয়েছি। এই বিষয়ে আমার কিছু বলাই নেই। যারা আমার এসব নিয়ে কথা বলছে সেটা ব্যক্তিগত আক্রমণ। যারা ৫ তারিখের পরে যারা এই কলেজ ক্যাম্পাসকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল, যাদের কথাতে প্রিন্সিপাল পরিবর্তন হয়েছে, যাদের কথাতে সচিব পরিবর্তন হয়েছে, যাদের কথায় কলেজ পরিচালিত হয়েছে কিন্তু বর্তমানে কলেজে আমার নেতৃত্বে বিকশিত হওয়ার ফলে এখন ওই সমস্ত মানুষগুলোর কাছে আমি থ্রেটে পরিণত হয়েছি। আমাকে দমাতে না পেরে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে। বিগত সময় আমরা অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমি বিগত সময়ে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে কথা বলেছি, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলেছি, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বলেছি কিন্তু কখনো কোনো নেতার বিরুদ্ধে অশালীন কথা বলে নি। আমাদের ছাত্রদল কখনো এগুলো করে নাহ। যারা যারা এই জিনিসগুলো করছে সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সবাই দেখছেন। যারা আমাকে আদু বলে তাদের প্রতি অনুরোধ তারা যেনো ভালো কাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছায়। মূলত ছাত্রশক্তি, এনসিপি ও বট বাহিনীরা এগুলো করছে। আর ছাত্রশক্তি হচ্ছে শিবিরের বি টিম। যারা এখন ছাত্রশক্তি করছে তারা একসময় ছাত্রশিবির করতো। ”

নিউজ নারায়ণগঞ্জকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

এক কুকুরের সঙ্গে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর তুলনা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ কিনা এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একজন ব্যক্তিকে নিয়ে যখন দিনের পর দিন বারবার টিজ করা হয়, বারবার যদি ব্যক্তিগত চরিত্র হরণ করা হয় এবং এটার যদি পাল্টা উত্তর দেওয়া না হয় তাহলে এর শেষ কোথায় হবে। নাসির উদ্দিনকে দেখলাম তিনি হজ্ব করে আসলেন, তিনি নাকি আর উল্টাপাল্টা বক্তব্য দিবেন নাহ। কিন্তু পরবর্তীতে বক্সিং করা অবস্থায় মির্জা আব্বাস বলে ঘুষি দিলো। এই বিষয়টি আমার প্রচন্ড রকমের খারাপ লেগেছে। এই ভদ্রলোকতে তিনি টিজ করতে করতে প্রায় মেরে ফেলার মতোন অবস্থা করেছেন। শুধু মির্জা আব্বাস নয় আমাদের প্রধানমন্ত্রীকেও তিনি ছাড়েনি। নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী যদি বক্সিংয়ে ঘুষি দিয়ে মির্জা আব্বাসের নাম নেয় তাহলে আমিও কুকুরকেও রুটি খাইয়ে নাসির উদ্দিনের নাম নিতে পারি। একটা সময় ছাত্রলীগ ৬মাস পর পর হামলা করতো আর ওরা প্রতিদিন খোঁচায়। আমাদের তো কোনো শান্তি নাই। বিগত সময়ের আমরা সুস্থ পরিবেশে রাজনীতি করতে পারি নাই এখন ওদের কারণে আমরা রাজনীতি করতে পারছি নাহ। এখন যদি আমরা চুপ থাকি তারা যদি চুপচাপ হয়ে যায় তাহলে আমরা চুপ হয়ে যাবো।”

তোলারাম কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে অতিথির তালিকা কে তৈরি করেছেন এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের হয়ে বারবার আমি প্রিন্সিপালের কাছে গিয়েছি আপনারা দয়া করে নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজনটা করেন। কিন্তু তারা দায়িত্ব নিচ্ছিল না। পরবর্তীতে আমি নবীন বরণ আয়োজন করার দায়িত্বটা নিলাম। এই নবীন বরণটা হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালে। কিন্তু ৭-৮ মাস ধরে এটি আটকে ছিল। এই সময়েই প্রিন্সিপাল পরিবর্তন হয়েছে। নতুন প্রিন্সিপাল আসার পরে আমাদের শিক্ষার্থীরা দাবি জানালো যেভাবেই হোক আপনি দায়িত্ব নিয়ে নবীন বরণের আয়োজন করেন। আমি দায়িত্ব নেওয়ার মূল কারণই ছিল ফান্ডিং। মূলত ফান্ডিংয়ের কারণেই নবীন বরণ হচ্ছিল না। কলেজের কোনো ফান্ড ছিল না। যা ছিল তা খুবই সীমিত। এমন প্রোগ্রাম করতে গেলে ৮-১০ লাখ টাকার প্রয়োজন লাগে। কিন্তু আমাদের মাত্র ২ লাখ টাকার ফান্ড ছিল। তখন ফান্ডিংয়ের জন্য যার যার কাছে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল সবার কাছে গিয়েছি। তাদেরকেই আবার অতিথি করা হয়। তাদের চাহিদা ছিল না কোন নেতা আসবে, কোন নেতা আসবে না।”

দুই এমপিকে দাওয়াত দেওয়া হলো কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিনকে কেনো দাওয়াত দেওয়া হলো নাহ এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দিপু ভূঁইয়াকে চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হিসেবে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল এমপি হিসেবে নয়। চেম্বার অব কমার্স থেকে আমাদের সহায়তা করা হয়েছিল। বড় আয়োজন করতে গিয়ে আমাদের ভুলত্রুটি থাকতেই পারে, আমি তা মেনে নিয়েছি। যারা এটার সমালোচনা করছে কেনো তাদের নেতাদের দাওয়াত দেওয়া হয়নি, তাদের আমি আহ্বান করে বলতে চাই আপনারা পারলে ৫-১০ লাখ টাকা কালেক্ট করে একটি ভালো বিদায় কিংবা নবীন বরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। আর সবাইকে তো গণহারে দাওয়াত দেওয়া যায় না। তাহলে তো অনুষ্ঠান অনেক বড় হয়ে যেতো।”

অনিক নামের ছাত্রদলের যে নেতা রয়েছেন তার প্রকাশ্যে অস্ত্র বের করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখানে কোন অনিকের কথা বলা হয়েছে তা আমার জানা নেই। আর তিনি কখনো এসবের সঙ্গে জড়িত নয়।”

নবীন বরণে ছাত্রশক্তির মাহফুজকে বক্তব্য প্রদানে বাধার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ওরা প্রথমে প্রচার শুরু করলো কেন শুক্রবার নবীনবরণের আয়োজন করা হলো। এর ফলে তারা নাকি নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করছেন। যখন লালন গান গাইলো তখন তারাই আবার ধুমছে নাচানাচি শুরু করলো। তখন তারা আরও প্রচার করা শুরু করলো আমরা নাকি এই অনুষ্ঠানকে একদলীয় করেছি। সবকিছু দখল করে নিয়েছি। তারা প্রিন্সিপালকে পর্যন্ত হুমকি প্রদান করলো। ওই গ্রুপগুলোই তারা হুমকি দিয়েছে যেনো নবীন বরণ না হয়। আবার তারাই রাতের বেলায় ব্যানার টানিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। পরবর্তীতে তাদের সকালবেলায় বক্তব্য প্রদানের সুযোগ করে দেওয়া হলো। আবার যখন অতিথিরা আসলো তখন প্রতিটি ছাত্রসংগঠন থেকে দুইজনকে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ করে দেওয়া হলো। কিন্তু আমার সংগঠনের মাত্র একজন বক্তব্য দেয়। সঞ্চালনার স্বার্থে আমার সবাইকেই বলতে হয়েছিল বক্তব্য শর্ট করতে। তাই বলে আমাকে ফ্যাসিস্ট বানিয়ে দিতে পারে না। তারা চাইলে আরও ভালো করে বক্তব্য দিতে পারতো। আমরা যদি সত্যিই ফ্যাসিস্ট হতাম তাহলে তারা কলেজেই ঢুকতে পারতাম নাহ। যখন শামীম ওসমান ছিল তখন তাদের এই বিপ্লবীপনা কোথায় ছিল। তখন আমরাই বিপ্লব করেছিলাম। কোনো ছাত্রদল নেতার পিছনে ঘুরি নাই। তখন আমরা বঙ্গবন্ধুর পক্ষে রচনা লিখি নাই। তারপরও তারা আমার বিরুদ্ধে নানাভাবের নোংরামি করেছেন। আমি যদি আমাদের নেতাদের এনে কলেজের কোনো উন্নয়ন কাজ করাতে পারি তাহলে সমস্যাটা কোথায়? তাহলে তোমরা পারলে তোমাদের নেতাদের এনে কলেজের উন্নয়ন ঘটাও। যারাই নবীন বরণের বিরোধীতা করেছিল তারাই বলেছিল এই কলেজে তারা ছাত্ররাজনীতি চায় না। আজ তারা আবার রাজনৈতিক অধিকার চায়। শিবিরও তো কলেজে কাওয়ালি সন্ধ্যার আয়োজন করেছিল তখন তো আমরা বলি নাই যে কলেজে ছাত্ররাজনীতি চাই নাহ। গত ৫ই আগস্টের পর জামায়াতের যে ব্যবসায়ীক সংগঠন রয়েছে তারা কলেজে এক মেলার আয়োজন করেছিল। যেখানে হাতেম সাহেব উপস্থিত ছিল। কিন্তু তখন আমরা তো চিল্লাচিল্লি করি নাই।”

ছাত্রশক্তির নেতাদের মোবাইলে হুমকি প্রদানের বিষয়ে তিনি বলেন, “যদি বারবার আমাদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয় তাহলে আমরা তা মানবো না। রাজনীতি করতে গেলে আমার গঠনমূলক সমালোচনা করতে হবে। তাতে কোনো আপত্তি নাই। আপনাদের মাত্র জন্ম হয়েছে। আমরা আভিজাত্য নিয়ে রাজনীতি করি। আমার এই ভিডিও বক্তব্যতেও দেখবেন আমাকে কিভাবে নোংরামির সাথে কথা বলা হয়।”