News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩

এক ঘাটে চার পশুর হাট


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মে ১১, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম এক ঘাটে চার পশুর হাট

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও বন্দর উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়হীনতায় এক ঘাটে চারটি কুরবানীর পশুর অস্থায়ী হাটের দরপত্র আহবান করা হয়েছে। চারটি পশুর হাটের ট্রলারই এক ঘাটে (কয়লা ঘাট) আসার সম্ভাবনা থাকায় সেখানে ট্রলার ভেড়ানো এবং পশু নিজেদের হাটে নেওয়া নিয়ে ইজারাদারদের লোকজনের মধ্যে রশি টানাটানি ও হাতাহাতিসহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের প্রবল সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতিমধ্যে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ফরাজিকান্দা বালুর মাঠে অস্থায়ী পশুর হাটটি ইজারা নিয়েছেন গতবারের মত এবারো কলাগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি শাহাদুল্লাহ মুকুল। গতবারের মত এবারো এই হাট প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা সর্বোচ্চ দরে তিনি ইজারা পান। এর উত্তরে সিটি কর্পোরেশনের ২০নং ওয়ার্ডের ফরাজিকান্দা উত্তরপাড়া বালুর মাঠ হাটে দরপত্র দিয়েছে। যার কাক্সিক্ষত মূল্য ধরা হয়েছে ৭ লাখ টাকা।

এদিকে এই দুটি হাটের পশ্চিম দিকে ১৯নং ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা ব্রীজের নিচের খালি জায়গা ও পাওয়ার হাউজ সংলগ্ন খালি জায়গায় দরপত্র দেয়া হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের বিজ্ঞপ্তিতে দুইটি হাটের কাক্সিক্ষত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ টাকা। যার কারণে উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম মিলে এক স্থানের চারদিকে চারটি হাটের একটি ঘাট হলো কয়লা ঘাট। যার কারনে গরুর ট্রলার নিয়ে বিশৃঙ্খলা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। নদীর পথে ৩০০ গজে দূরত্ব মধ্যে ২০নং ওয়ার্ডের সোনাকান্দা মাঠের পশ্চিম পার্শ্বের খালি জায়গায় নাসিকের অন্যতম সর্বোচ্চ কাক্সিক্ষত মূল্য ধরা হয়েছে ২৭ লাখ টাকা।

এর ফলে আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উদযাপনে গরু হাটে পশু উত্তোলন নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের আশংকা করা হয়েছে। জানা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর কয়লা ঘাটে হাটে উঠানো জন্য গরু-ছাগল ট্রলার থামবে। এতে এই ঘাটের পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনের ১৯নং ওয়ার্ডের দুইটি হাট ও বন্দর উপজেলার ফরাজিকান্দায় দুইটি টানাটানি হওয়া সম্ভবনা দেখছেন ইচ্ছুক ইজারা নেয়া ব্যক্তিরা। যার কারণে টেন্ডার হওয়ার আগে চারটি হাটকে কমিয়ে নেয়ার আহবান জানিয়েছেন তারা।

ইচ্ছুক ইজারা গ্রহীতারা জানিয়েছেন, এত অল্প জায়গায় এবং একই ঘাটের উপর ভিত্তি করে চারটি হাটের অনুমোদন দেওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। টেন্ডার চূড়ান্ত হওয়ার আগেই হাটের সংখ্যা কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে আনার জন্য তারা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় কোরবানির হাটে পশুর সরবরাহের চেয়ে বিশৃঙ্খলা ও জানমালের ক্ষতির ঝুঁকিই বেশি থাকবে।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোঃ রায়হান কবির জানান, অস্থায়ী গরু হাট বসার আগে আমাদের আইনশৃঙ্খলার মিটিং হবে এ ব্যাপারে। সেখানে আমরা এ বিষয়গুলো আলোচনায় আনবো। কোরবানির পশুর ক্রেতা, বিক্রেতাসহ সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা তৎপর আছি। এ বিষয়টি নিয়েও মিটিংয়ে আলোচনা করে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।