News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিতর্কিত হচ্ছে যুবদল


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম বিতর্কিত হচ্ছে যুবদল

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জে বিএনপি সহ তাদের অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা যেন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। সেই সাথে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারা যেন আরও বেশি বেপোরোয়া হয়ে পড়েছেন। কোনোভাবেই যেন তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। 

সবশেষ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীরা কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়েছেন যা যুবদলকে বিতর্কিত করে তুলছে। যদিও তাদের দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। কিন্তু এই বহিস্কারেও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরকে থামানো যাচ্ছে না। সুযোগ পেলেই নানারকম বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যাচ্ছেন। 

জানা যায়, গত ৪ জুন দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সিটি কর্পোরেশনের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার ওপর যুবদল কর্মীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় বিএনপি নেতা ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়াকে ব্যাপক মারধর করা হয়। সেই সাথে তার পড়নে থাকা জামা কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়। পরে অন্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। 

উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি  জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিলো- স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষ মেলা, বই মেলা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও জিয়াউর রহমানের দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনী।

আর এই কর্মসূচি উপলক্ষ্যে জেলা পরিষদে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আসেন। আর এই কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠান চলাকালে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি ও বিএনপি নেতা ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার তর্ক বিতর্কে ঘটনা ঘটে। এসময় মশিউর রহমান রনি উপস্থিত সকলের সামনেই ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়াকে উদ্দেশ্য বিরূপ মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে আবার এই তর্ক বিতর্কের জের ধরেই ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়াকে কার্যালয় প্রাঙ্গনে একা পেয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। পরে অন্যরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। 

বিএনপি নেতা ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, অনুষ্ঠানের শুরুতে মশিউর রহমান রনির সাথে আমার তর্ক বিতর্ক হয়। পরে জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ সহ অন্যান্য নেতারা একত্রে বসে আমাদের মিলিয়ে দেন। এরপর আমি জেলা পরিষদের কার্যালয় প্রাঙ্গনে আসার সাথে সাথেই আমার ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করা হয়। 

তবে এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, প্রথমে আমাদের দুইজনের মাঝে একটা ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিলো। পরে আমরা এ বিষয়ে উভয়পক্ষ মিলে সমাধান করি। কিন্তু অতি উৎসাহী কিছু কর্মী কার্যালয় প্রাঙ্গনে গিয়ে এই ঘটনা ঘটায়। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যুবদল থেকে বহিস্কার করে দেয়া হয়েছে।  

এই ঘটনার কয়েকদিন পরেই সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদা না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জাফরুল হাসান লিসানকে লোহার শাবল দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গত ৭ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

লিসান থানায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করেন, গোদনাইল এলাকায় নিজের জমিতে দোকান নির্মাণ করতে গেলে যুবদল নেতা আনোয়ার তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শনিবার সকালে আনোয়ার ও তার সহযোগীরা আবারো এসে বাধা দেন। এর প্রতিবাদ করায় আনোয়ার হাতে থাকা লোহার শাবল দিয়ে লিসানের মাথায় ও শরীরে আঘাত করে রক্তাক্ত করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এর আগে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ডাকাতি মামলায় যুবদল নেতা সহ ১০ জনকে ৭ বছরের কারাদÐ দিয়েছিলেন আদালত। একই সাথে তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত। ২০২৫ সালের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, ১ম আদালতের বিচারক মো. মোমিনুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেছিলেন। 

সাজাপ্রাপ্ত মামলার বিবরণীতে ছিলো, ২০০৬ সালের ৩১ জুলাই রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের এনায়েতনগর গোদনাইল এলাকার অ্যাডভোকেট মফিজুল ইসলামের ভাড়াটিয়া বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় অ্যাডভোকেট মফিজুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা আসামী করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত করে দÐপ্রাপ্তদের সনাক্ত করে এবং জবানবন্দী গ্রহণ করে। সেই মামলায় আদালত এই রায় ঘোষণা করেছিলেন। 

সেই সাথে এই মামলায় মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ায় কয়েকদিন সাজা ভোগ করে কারামুক্তি পেয়ে যান। আর সে সময় তাকে মহানগর যুবদলের পক্ষ ফুলের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছিলো। ডাকাতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হলেও তাকে ফুলের মালা দিয়ে শুভেচ্ছা জানান মহানগর যুবদলের নেতারা। আর তাকে সংবর্ধনা দিয়ে যেন এই কাজের জন্য আরও বেশি উৎসাহিত করা হয়। 

এভাবেই জেলা ও মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীরা নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। এমনকি শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতাও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত হচ্ছেন। যা সবমিলিয়ে যুবদলকে ইমেজ সংকটে ফেলে দিচ্ছে।