News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বার বার বিতর্কে সুলতান মাহমুদ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম বার বার বিতর্কে সুলতান মাহমুদ

নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি সুলতান মাহমুদ। যোগ্যতার দিক থেকে সভাপতি হবার মত যোগ্য ধরা হয় তাকে। ৫ আগস্টের পূর্বে নিজের রাজনৈতিক লড়াই সংগ্রাম চোখে পড়ার মত। কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকে বিতর্কে জড়িয়ে যাচ্ছেন অহেতুক। রাজনীতির ভুল পদক্ষেপ আর পুরোনো কায়দায় রাজনীতি চালাতে গিয়ে হোঁচট খেতে হচ্ছে বার বার। 

সুলতান মাহমুদ রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়ন থেকে উঠে এসে পুরো জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। হরতাল অবরোধের সময় সুলতান, আবু মাসুম, মাসুদুর এই নামগুলো ছিলো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাছে দুশ্চিন্তার মত। যেখানে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের খুজে পাওয়া যেত না। সেখানেই এই ছাত্র নেতারা হরতাল সফল করতেন নানান কায়দা কৌশলে। যেই অতীত স্মরণ করে এখনও গর্ববোধ করেন তাদের অনুসারীরা।

কিন্তু ৫ আগস্টের পর বিতর্কে জড়িয়েছেন সুলতান মাহমুদ। একই পথে হেঁটেছেন আরেক সাবেক ছাত্রদল নেতা মাসুদুর। সবশেষ ছোট একটি কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছেন সুলতান। অথচ তিনি হতে পারতেন এই অঞ্চলে উদার রাজনীতি এবং আওয়ামী বিরোধী সকল রাজনৈতিক শক্তির অন্যতম আদর্শ।

গত শনিবার রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়নে ফল উৎসবের আয়োজন করে এনসিপির নেতাকর্মীর। প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রন জানানো হয় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে। শুক্রবার রাতেই দুই দফা হামলা চালানো হয় অনুষ্ঠানস্থলে। সেই সাথে আয়োজকদের মুঠোফোনে নানান ভাবে হুমকি ধামকি দেয়া হতে থাকে। আয়োজকদের দাবি, সাবেক জেলা ছাত্রদল নেতা সুলতান মাহমুদ ও তার অনুসারীরা এসব কাজ করে যাচ্ছেন। 

ভয়ভীতি উপেক্ষা করে পুলিশের উপস্থিতিতে শুরু হয় অনুষ্ঠান। কিন্তু নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী আসার আগে আরেকদফা হামলা চালানো হয় অনুষ্ঠানস্থলে। ভেঙ্গে ফেলা হয় মঞ্চ, চেয়ার। ছিঁড়ে দেয়া হয় প্যান্ডেল। মারধর ও রক্তাক্ত করা হয় এনসিপির কর্মীদের। এবারও অভিযোগ সেই সুলতাম মাহমুদের দিকেই। সেই ভাঙাচোরা মঞ্চে উঠেই বক্তব্য রাখেন নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী। অর্থ্যাৎ নিজেদের অনুষ্ঠান সফল করেই ছেড়েছেন তারা।

এদিকে পুলিশের সামনে হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয় রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হামলা চালানোর ঘটনায় ইমেজ সংকটে পড়ে পুলিশ। জানা যায়, এই ক্ষুব্ধ হবার যের ধরে ঘটনাস্থল থেকে দুই ছাত্রদল কর্মীকে আটক করা হয়। যাদের পরবর্তীতে মামলার আসামী করে চালান দেয়া হয় কোর্টে। 

মামলায় আসামি করা হয় সুলতান মাহমুদ সহ ২০ জনকে। সেই সাথে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে একশত। স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জানান, মামলার আসামিরা অধিকাংশই সুলতান মাহমুদের অনুসারী। নিজে আসামি হবার সাথে সাথে কর্মীদেরও আসামী হতে হয়েছে মামলার। অর্থ্যাৎ রাজনৈতিক নিরাপত্তা দিতে ব্যার্থ হয়েছেন তিনি। সেই সাথে কর্মীদেরকে নিজ দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ক্রিমিনাল মামলায় যুক্ত করে দিয়েছেন। যা তাদের ভবিষ্যতের পথ দুর্গম করে তুলেছে।

রাজনৈতিক বোদ্ধারা বলছেন, বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় মামলা ত্যাগী কর্মী হিসেবে চিহ্নিত করলেও দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় মামলা চিহ্নিত করে অপরাধী হিসেবে। সুলতান মাহমুদ নিজের পাশাপাশি তার কর্মীদেরও সেই পথে ঠেলে দিয়েছেন। যা নেতা হিসেবে তার জন্য ব্যর্থতার। 

তবে বিতর্কে এবারই প্রথম নয়। পাঁচ আগস্টের পর এনসিপির এক কর্মী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির সমালোচনা করায় রাতে সেই কর্মীর বাসায় লোকজন নিয়ে হাজির হন সুলতান। এরপর সেই এনসিপি কর্মীর বাবাকে শাসিয়ে আসেন তিনি। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়। এই ঘটনায় দল থেকে শোকজ করা হয় সুলতানকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে রাজনৈতিক ভাবে নিজেকে ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছেন তিনি। বিতর্কের কারণে ঢাকা পরে যাচ্ছে তার অতীত কর্মকাÐ। অথচ শুরু থেকেই যদি উদারপন্থি রাজনীতির পথ বেছে নিতেন, তাহলে এনসিপি সহ আওয়ামী বিরোধী নেতাকর্মীরা তাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে উল্টো তাকে এবং তার অনুসারীদের ছাত্রলীগের সাথে তুলনা হতে হচ্ছে। যা একই সাথে রূপগঞ্জ বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের কাছে বিব্রতকর।