News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দুর্বল নেতৃত্বে বিতর্কিত হচ্ছে বিএনপি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম দুর্বল নেতৃত্বে বিতর্কিত হচ্ছে বিএনপি

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির দুর্বল নেতৃত্বে একের পর এক ঘটনায় বিতর্কিত হয়ে মূল দল বিএনপি সহ তাদের অঙ্গ সহযোগি সংগঠন। বিশেষ করে মূলদল বিএনপির নেতাদের অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপড় কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বিএনপি নেতাদের নূন্যতম মান্য করে চলা কিংবা তাদের কোনো নির্দেশনার ধার ধারিনা যেন তাদের অঙ্গ সহযোগ সংগঠনের নেতাকর্মীদের। শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সামনেই তারা সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন। যা পুরো নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।

সবশেষ নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের কার্যালয় প্রাঙ্গণে বিএনপির একজন সিনিয়র নেতাকে যুবদল কর্মীদের মারধর নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে অনেক বেশি সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা এসকল নেতারা কোনো রকমের অপমান অপদস্থের শিকার না হলেও এবার নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের দ্বারাই নির্যাতন নীপিড়নের শিকার হচ্ছেন।

জানা যায়, গত ৪ জুন দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহŸায়ক কমিটির সদস্য ও সিটি কর্পোরেশনের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি অকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার ওপর যুবদল কর্মীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় বিএনপি নেতা অকিল উদ্দিন ভূঁইয়াকে ব্যাপক মারধর করা হয়। সেই সাথে তার পড়নে থাকা জামা কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়। পরে অন্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি  জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিলো-স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষ মেলা, বই মেলা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও জিয়াউর রহমানের দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনী।

আর এই কর্মসূচি উপলক্ষ্যে জেলা পরিষদে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আসেন। আর এই কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠান চলাকালে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি ও বিএনপি নেতা ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার তর্ক বিতর্কে ঘটনা ঘটে। এসময় মশিউর রহমান রনি উপস্থিত সকলের সামনেই ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়াকে উদ্দেশ্য বিরূপ মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে আবার এই তর্ক বিতর্কের জের ধরেই ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়াকে কার্যালয় প্রাঙ্গনে একা পেয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। পরে অন্যরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বিএনপি নেতা ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, অনুষ্ঠানের শুরুতে মশিউর রহমান রনির সাথে আমার তর্ক বিতর্ক হয়। পরে জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ সহ অন্যান্য নেতারা একত্রে বসে আমাদের মিলিয়ে দেন। এরপর আমি জেলা পরিষদের কার্যালয় প্রাঙ্গনে আসার সাথে সাথেই আমার ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করা হয়। আমি এই ঘটনায় মামলা দায়ের করবো।

তবে এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, প্রথমে আমাদের দুইজনের মাঝে একটা ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিলো। পরে আমরা এ বিষয়ে উভয়পক্ষ মিলে সমাধান করি। কিন্তু অতি উৎসাহী কিছু কর্মী কার্যালয় প্রাঙ্গনে গিয়ে এই ঘটনা ঘটায়। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যুবদল থেকে বহিস্কার করে দেয়া হয়েছে।

কিন্তু এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির অভিভাবক হিসেবে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহŸায়ক মামুন মাহমুদের কার্যত কোনো ভূমিকা পরিলক্ষিত হয়নি। সেই সাথে ঘটনাস্থলে উপস্থিত মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুও তেমন ভূমিকা রাখতে পারেনি। তবে সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছে অধ্যাপক মামুন মাহমুদের ভূমিকায়। তিনি এখন পর্যন্ত যুবদলের কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি। তিনি শুধু বিবৃতির মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। অথচ ভুক্তভোগী অকিল উদ্দিন ভূঁইয়া দীর্ঘ সময় ধরে মামুন মাহমুদের সাথে রাজনীতি করে আসছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই এভাবে নারায়ণগঞ্জজুড়ে একের পর এক ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই নারায়ণগঞ্জের কোথাও না কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। কিন্তু মূলদল বিএনপি সহ তাদের অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে কার্যতপক্ষে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। সর্বোচ্চ দল থেকে বহিস্কার করেই ক্ষান্ত হয়ে পড়ছেন। কিন্তু এই বহিস্কারে অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের কোনোভাবেই দমানো যাচ্ছে না।

সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলো আওয়ামী লীগ। আর এই ক্ষমতায় থাকাবস্থায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেক নির্যাতন নীপিড়নের শিকার হয়েছেন। দিনের পর দিন মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে পরিবার পরিজন ছেড়ে দিন যাপন করতে হচ্ছে। সেই সাথে তারা আন্দোলন সংগ্রামেও অংশ নিতে পারতেন না। ব্যবসা বাণিজ্যেও নানাভাবেই বাধার শিকার হয়েছেন। সব মিলিয়ে তাদের যেন স্বাভাবিক জীবন যাপন ছিলো না।

এরই মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। আর এই পতনের সাথে সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গাঁ ঢাকা দিয়েছেন। এই অবস্থায় একদম খালি মাঠে রয়েছে বিএনপি। দীর্ঘদিন পর খালি মাঠে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি যেন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। কেউ কাউকে মানছেন না। অনেক সময় নিজেরাই নিজেদের সাথে প্রভাব আধিপত্যের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হচ্ছেন।

বিএনপির নেতাকর্মীরাই যেন বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতিদ্ব›দ্বী হিসেবে আবির্ভাব হয়েছেন। প্রতিনিয়তই নারায়ণগঞ্জের কোনো না কোনো এলাকায় কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্ব›দ্বীতার খবর পাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা নির্দেশনা দিয়েছেন একরকম কিন্তু অধস্তন নেতাকর্মীরা করছেন আরেকরকম।

এদিকে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। আর এই ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জ বিএনপি সহ তাদের অঙ্গ সহযোগি সংগঠনগুলো আরও বেশি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছেন। কেউ কাউকেই মানতেই চাচ্ছেন না। যেন বিএনপির ও তাদের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনে সকলেই নেতা। আর তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না শীর্ষ পদধারী সিনিয়র নেতারা। যা দিন দিন বিএনপিকে বিতর্কিত করে তুলছে। বিএনপিকে সাধারণ মানুষের মাঝে হাসির পাত্র হিসেবে পরিণত করছে।