News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মানবতা বিরোধী মামলায় ১২ আসামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম মানবতা বিরোধী মামলায় ১২ আসামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় শামীম ওসমান, অয়ন ওসমানসহ ১২ আসামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে।

বুধবার মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দেন আবুল বাশার। তিনি ৫ আগস্ট শহরের চাষাঢ়ায় গুলিতে নিহত ছোটভাই আবুল হাসান স্বজনের বড়ভাই।

জবানন্দীতে তিনি জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে তৎকালীন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমানের গুলিতে মো. আবুল হাসান স্বজনের মৃত্যু হয়।

আবুল বাশার বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার কুশিয়ারা গ্রামের বাসা থেকে তিনি ও স্বজন বের হন। আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য তাঁরা নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া মোড়ের উদ্দেশে রওনা দেন। চাষাঢ়া মোড়ে আন্দোলনে যোগ দিলে বিজিবি, পুলিশ, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা তাঁদের ধাওয়া করে। পরবর্তী সময়ে তাঁরা চাষাঢ়া মোড়ে অবস্থান নেন। চাষাঢ়া মোড় থেকে মিশনপাড়ার দিকে মিছিল নিয়ে যান তাঁরা। আবার মিছিল নিয়ে চাষাঢ়া মোড়ের দিকে আসতে থাকেন, তখন ল্যাবএইড হাসপাতাল গলিতে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমীরী ওসমান, শ্যালক তানভীর রহমান টিটু, শাহ নিজাম, আবদুল করিম বাবু (ডিস বাবু), কামরুল হাসান মুন্না, ছাত্রলীগ নেতা শুভ, রিয়াদ, সোহানুর রহমান শুভ্র, মেহেদী, ফরহাদসহ ১০০–২০০ জন অস্ত্রধারী তাঁদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি করা শুরু করেন। অয়ন ওসমানের পিস্তল থেকে ছোড়া গুলি তাঁর ভাই আবুল হাসানের বুকের বাঁ পাশে বিদ্ধ হয়।

জবানবন্দি আবুল বাশার বলেন, গুলিবিদ্ধ আবুল হাসানকে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা না দেওয়ার জন্য শামীম ওসমানের নির্দেশ ছিল। তাই ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে তাঁর ভাইকে ভর্তি করানো হয়নি, চিকিৎসাও দেয়নি। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন। ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁর ভাইকে দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টায় তাঁর ভাইকে অস্ত্রোপচারকক্ষে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচার শেষে তাঁকে পর্যবেক্ষণকক্ষে (অবজারভেশন রুম) নেওয়া হয়। ঘণ্টাখানেক পর তাঁর ভাইয়ের জ্ঞান ফেরে। তিনি পর্যবেক্ষণকক্ষে দেখা করতে যান। তাঁর ভাই তাঁকে দেখে প্রথমে জানতে চান, হাসিনার পতন হয়েছে কি না। হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেছেন এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ভাই মুচকি হাসি দেন। ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে তিনি চুপ হয়ে যান। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট বিকেল ৫টার সময় তাঁর ভাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

এ মামলায় সব আসামিই পলাতক রয়েছেন। শামীম ওসমান ছাড়া অন্যরা হলেন শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, অয়নের শ্যালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবের সাবেক সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটু, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি রাজু আহমেদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সাজনু, ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সোহানুর রহমান শুভ্র।

এর আগে ১৩ মে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে ১২ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। একইসঙ্গে সূচনা বক্তব্যসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়।

তিনটি অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাঢ়া, ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ডসহ আশপাশের এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল, ছয় বছরের শিশু রিয়াসহ ছয়জনকে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগ অনুযায়ী ২১ জুলাই ফতুল্লা থানাধীন ভূইগড় বাসস্ট্যান্ডের সামনে আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিবকে হত্যা করা হয়। এছাড়া তৃতীয় অভিযোগে ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান ও আবুল হাসানকে হত্যার কথা উল্লেখ করে প্রসিকিউশন।

চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের দাখিলকৃত ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। তবে পলাতক থাকায় আসামিদের অনুপস্থিতিতেই চলছে বিচারকাজ। তাদের পক্ষে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।