News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আইভীর জামিনে নাখোশ ওসমানপন্থীরা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম আইভীর জামিনে নাখোশ ওসমানপন্থীরা

নাসিকের সাবেক মেয়র আইভীর জামিনকে ঘিরে বেশ উচ্ছ¡াসিত দেখা যাচ্ছিলো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। কিন্তু বাস্তবে জামিনে বেরিয়ে নিজ বাড়িতে উঠার পর দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বিশেষত বর্তমান সরকারের প্রতি তার ধন্যবাদ ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পর চটে উঠতে দেখা গেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। বিশেষত ওসমানপন্থী আওয়ামী লীগ কর্মীরা উল্টো আইভীর সমালোচনা করছেন। 

গত বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগে নিজ বাড়িতে ফিরেন আইভী। ফিরেই সাংবাদিকদের সামনে বলেন, ‘‘আমি বর্তমান সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যাঁরা আমার জন্য দোয়া করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পাশাপাশি বিচার বিভাগের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি চাই মানবিক সরকার গঠিত হোক। জেলে আমার মতো আরও অনেক নিরপরাধ মানুষ আছেন, আশা করি সরকার তাঁদের প্রতিও সদয় হবে।’

তার এই বক্তব্যকে ঘিরে সমালোচনা শুরু হয় ওসমানপন্থী নেতাদের মাঝে। ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান সম্রাট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, ‘যেই বিচারবিভাগ আমার নেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনাকে ফাঁসির রায় দিয়েছে সেই বিচারবিভাগকে আপনি কিভাবে ধন্যবাদ দিতে পারেন আমাদের প্রশ্ন রইল মেয়র আইভি আপনার প্রতি।

যেই বিএনপি সরকারের হাতে আমাদের শত-শত ভাইয়ের রক্ত লেগে আছে। যেই বিএনপি সরকারের আগ্রাসনে আমাদের তৃণমূলের ওয়ার্ড লেভেল পর্যন্ত ঘরছাড়া। সেই বিএনপি সরকারকে আপনি কিভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করলেন আমাদের জিজ্ঞাসা রইল আপনার কাছে মেয়র আইভি। লক্ষ লক্ষ তৃণমূল নেতাকর্মীর মত আমাদেরও অনেক প্রত্যাশা ছিল আপনার মুক্তি নিয়ে, আমরাও প্রতিবাদ করেছিলাম আপনার গ্রেফতারের মুহূর্তে। বর্তমান সরকারের আঘাতের রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি মেয়র আইভি, আপনি কিভাবে আওয়ামী লীগের নেত্রী হিসেবে ওদের ধন্যবাদ জানালেন। 

অনেক সুশীল হয়তো আমাকে জ্ঞান দিবেন এটাকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে মেনে নেওয়ার জন্য। শুনে রাখেন সুশীলগণ সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরিন শারমিন চৌধুরীরাও মুক্তি পেয়েছে। তারা কি এই বিচারবিভাগ আর বিএনপির সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে? তৃণমূল নেতাকর্মীদের পালস না বুঝে সুশীলতা ও তেলেসমাতি দিয়ে নেতৃত্বের সম্মান অর্জন করা যায় না। আপনার মুক্তি পরবর্তী এই বক্তব্য শেখ হাসিনা'র কর্মীদের মনে আঘাত করেছে। আমরা আর কোনো কম্প্রোমাইজড বা সুশীল নেতৃত্ব চাই না। আওয়ামী লীগ রিফাইন্ড হয়ে না, তার চিরচায়িত রূপেই ফিরবে ইনশা'আল্লাহ্।’

তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে আইভীর বক্তব্য ভালোভাবে গ্রহণ করেনি কট্টরপন্থী আওয়ামী লীগ কর্মীরা। বিশেষত যারা অস্ত্র হাতে মানুষ হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত ছিলো এবং যারা এর সমর্থক ছিলো। কিন্ত আইভী বারবারই বলেছেন ‘আমি কোন গণহত্যা চালাইনি’। অর্থ্যাৎ তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট রেখেছেন আগেই। সেই সাথে জুলাই অভ্যুথানে আওয়ামী লীগের ভুমিকা নিয়েও তিনি ছিলেন অসন্তুষ্ট। সরাসরি পক্ষে অবস্থান না নিলেও নিজে এবং নিজের কর্মীদের বিরত রেখেছেন আন্দোলন দমনের কার্যক্রম থেকে।

এছাড়া আইভীর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দর্শন বরাবরই ছিলো মূল আওয়ামী লীগ থেকে একেবারেই বিপরীত। তিনি মেয়র থাকা অবস্থায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতি অন্যায় আচরণ করেছেন এমন উদাহরণ খুজে পাওয়া যায় না। উলটো তার কারনেই বিএনপিপন্থী অনেক ঠিকাদার নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে পেরেছেন বৈধভাবে। একক ভাবে কেবল আওয়ামী লীগের কর্মীরা টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করবে এমন পলিসি থেকে বেরিয়ে আসায় ওসমানপন্থী নেতাকর্মীরা তাকে বিএনপি জামায়াতের দোসর আখ্যা দিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আইভী তার পুরোনো অবস্থান বদলাননি। বরং গত ২০ বছরের বেশী সময় ধরে যেভাবে তিনি রাজনীতি করে গেছেন, সেটিই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান। মানুষের জন্য কাজ করে এবং মানুষের পালস বুঝে রাজনীতি চালিয়ে নিতে চান। দলান্ধ আচরণ না করার ফলেই বিগত দিনে হয়ে উঠতে পেরেছিলেন গণমানুষের নেত্রী। আর সেটিই তিনি অব্যাহত রাখতে চান।