News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাড়ছে বিস্ফোরণ, আতঙ্ক ফতুল্লাজুড়ে


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম বাড়ছে বিস্ফোরণ, আতঙ্ক ফতুল্লাজুড়ে

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা যেন এখন আতঙ্কের আরেক নাম। একের পর এক গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ। ঘুম ভাঙছে বিকট শব্দে, মুহূর্তেই আগুনে পুড়ে ছারখার হচ্ছে ঘর, দগ্ধ হচ্ছেন পরিবারের একাধিক সদস্য। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার পর ফতুল্লা জুড়ে সাধারণ মানুষের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাসিন্দাদের প্রশ্ন, আর কত বিস্ফোরণ হলে নড়বে তিতাস কর্তৃপক্ষ?

ফতুল্লায় পরপর কয়েকটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা সামনে এসেছে। গিরিধারা এলাকায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হন। সবাই মারা গেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিষ্ফোরনে পুরো ঘর মুহূর্তে আগুনে ঢেকে যায়। 

এর রেশ কাটতে না কাটতেই ফতুল্লায় আরেকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এবার দগ্ধ হন বাবা ও তার তিন ছেলে। বিকট শব্দে বিষ্ফোরণ ঘটে ফ্ল্যাট বাসায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় গ্যাসের তীব্র গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেই গ্যাস জমে থাকার খেসারত দিতে হয়েছে চারজনের দগ্ধ হবার মধ্য দিয়ে। ঘটনার পর আশেপাশের বাসিন্দারাও সরে যাচ্ছেন এলাকা থেকে।

শুধু ফতুল্লাই নয়, নারায়ণগঞ্জ শহর, সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। যেসব ঘটনায় দগ্ধের সংখ্যা প্রচুর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরোনো গ্যাসলাইন, অবৈধ সংযোগ, নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাব এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলছে। অনেক এলাকায় বছরের পর বছর ধরে পাইপলাইন সংস্কার হয়নি। কোথাও কোথাও গ্যাস জমে ঘরের ভেতর ‘ডেথ ট্র্যাপ’তৈরি করছে। সকালে চুলায় আগুন, বৈদ্যুতিক স্পার্ক কিংবা সিগারেটের আগুন থেকেই ঘটছে বিস্ফোরণ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকাজুড়ে প্রচুর লিকেজ বাসা বাড়ির আশেপাশে। পাইপগুলো পুরাতন এবং কখন কখনও অবৈধ সংযোগ নেয়ার কারনে পাইপে লিকেজ তৈরী হয়েছে কয়েকগুন। এসব পাইপ থেকে গ্যাস বের হয়ে জমা হতে থাকে বাসা বাড়িতে। সারারাত গ্যাস জমে তা সকালে দুর্ঘটনা ঘটায়। শুধু রাতেই এমন ঘটনা ঘটছে তা নয়। কর্মজীবী নারী পুরুষ সকালে কর্মস্থলে গিয়ে দুপুরে লাঞ্চ টাইমে বাড়ি এসেও এমন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। প্রায় প্রতিটি ঘরই এখন বিস্ফোরণ আতঙ্ক। ভয়ে সকালে অনেকেই রান্নাঘরে বৈদ্যুতিক সুইচ পর্যন্ত অন করতে সাহস পান না। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলার দিকে ঝুঁকছেন।

ফতুল্লার বাসিন্দারা বলছেন, প্রতিটি দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন হয়। কিন্তু গ্যাস পাইপ লিকেজ সারানো এবং এই সমস্যা থেকে উত্তরণে স্থায়ী কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না। ঝুঁকি কমাতে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই তিতাস ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের। ফলে প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়েই বসবাস করতে হচ্ছে হাজারো পরিবারকে।

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এখনই জরুরি ভিত্তিতে গ্যাসলাইন পরীক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং পুরোনো পাইপলাইন প্রতিস্থাপন না করলে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে। ফতুল্লাজুড়ে মানুষের আতঙ্ক এখন পরবর্তী বিষ্ফোরনের শিকার কে হতে যাচ্ছে! আর কত বিষ্ফোরণ হলে এখানকার গ্যাস পাইপ ও লিকেজ সারানোর উদ্যোগ নিবে তিতাস?