দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পতন হয়। আর এই পতন হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে কর্মী সমর্থক পর্যন্ত সকলেই পলাতক রয়েছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাতে হয়েছে। সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী নেতারাও দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়েছেন।
কিন্তু নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী সমর্থকরা দেশেই রয়ে গেছেন। ফলে আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এই তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। আর এই তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাই দলীয় ঘোষিত আন্দোলন কর্মসূচিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। কর্মসূচির ডাক আসলেই তারা যে কোনো মূল্যে সফল করার লক্ষ্যে মাঠে নেমে পড়েন। নিজেদের জীবনের মায়া তারা করছেন না।
অথচ দীর্ঘ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাবস্থায় তারা সুযোগ সুবিধার বাইরে ছিলেন। সুযোগ সুবিধার তালিকায় তারা অনেক পিছিয়ে ছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় বাইরে থাকাবস্থায় আবার তারাই দলীয় কর্মসূচিতে এগিয়ে আসছেন। যে কোনো কর্মসূচির ডাক আসলেই তারা নিজের জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্র করেও তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব ভূমিকায় ছিলেন।
আগামী ২৩ জুন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও নাশকতার পরিকল্পনা রয়েছে। যা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান দিয়ে আসছে। তাদের নেতারা বিভিন্নভাবে লোকজনকে জড়ো করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
জানা যায়, মঙ্গলবার (২৩ জুন) নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো।
গত ২০ জুন সচিবালয়ে পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক দল হিসেবে গণ্য করে না, বরং এটি একটি ‘মাফিয়া দল’। দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ। এই অবস্থায় তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ নজরদারি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসূত্রে জানা গিয়েছিলো, সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে জড়ো হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। জেলা ও শহরের বিভিন্ন জায়গায় তারা জড়ো হওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। বিশেষ করে প্রয়াত নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের অনুসারীরা অনেক বেশি তৎপর ছিলেন। তারা যে কোনো উপায়েই হোক কর্মসূচি পালন করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। সেই সাথে তাদের অনুসারীরা মিছিলও করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে।
এর আগে গত ১৯ জুন শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে প্রকাশ্যে নারায়ণগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ সমাবেশ করার প্রতিবাদে আজমেরী ওসমানের নির্দেশনায় যুবলীগের পক্ষে বিক্ষোভ মিছিল কলেছিলেন। তাদের এই মিছিলটি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু করে কিছুক্ষণ পরই সমাপ্তি করা হয়।
তার আগে গত ২১ মে যুবলীগের নেতাকর্মীদের মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেই সাথে পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২০ মে মহানগর যুবলীগের ব্যানারে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলে অংশগ্রহণকারী সকলেই ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের সমর্থক।
এদিন মিছিলে অংশ নেওয়ার সকলের মুখে ছিলো লাল কাপড়। মহানগর যুবলীগের নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন দাবি করে লেখা সম্বলিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের ছবি দেওয়া ব্যানারটি নিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি মুখে লাল ও সাদা কাপড় বেধে হাতে ছোট ছোট বেশকয়েকটি বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে মিছিল করতে করতে শহরের খাজা সুপার মার্কেটের সামনে থেকে রাইফেলস ক্লাবের সামনে দিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রুটের দিকে ঢুকতে দেখা গেছে। এ সময় তারা জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনার ফিরে আসার স্লোগান দেন।
আর এই বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। নারায়ণগঞ্জ মডেল থানার এসআই মো. ফিরোজ আল মামুন বাদী এই মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সাফায়েত আলম সানী, জামির হোসেন রনি ও মো. কায়কোবাদ রুবেল সহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩০ জনকে আসামী করা হয়েছিলো।
এই মামলার পর নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কিছুদিনের জন্য নিরব ভূমিকায় থাকলেও আবারও তারা সরব হয়েছেন। নেতৃত্বে থাকা দেশের বাইরে কিংবা গোপনে থাকলেও তাদের অনুসারীরা যেন থামছেন না। সুযোগ পেলেই আওয়ামী লীগের ব্যানার দিয়ে কর্মসূচিতে নেমে পড়ছেন। অথচ আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থাকাবস্থায় তারা কোনো পদ পদবীতে ছিলেন না।


































আপনার মতামত লিখুন :