News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

মহানগর যুবদলের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম মহানগর যুবদলের শীর্ষ পদপ্রত্যাশী সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা

নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। এরই মধ্যে মেধা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগ এবং ক্লিন ইমেজের বিবেচনায় আলোচনায় উঠে এসেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান। তিনি মহানগর যুবদলের সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী।

নতুন কমিটির নেতৃত্ব নির্বাচনে সাংগঠনিক দক্ষতা, শিক্ষাগত ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ এবং ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্ব পেতে পারে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। এসব বিবেচনায় সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে হাসানকে এগিয়ে রাখছেন তার সমর্থক ও ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহকর্মীরা। বিশেষ করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা তার নেতৃত্বের দাবিকে জোরালো করেছে বলে তাদের অভিমত।

সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিলপাড়ার বাসিন্দা মো. হাসান ২০১০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় ছাত্রদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

হাসান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহকর্মীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্ররাজনীতি থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসা হাসান একজন মেধাবী, পরিশ্রমী ও ত্যাগী সংগঠক। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজের ক্লিন ইমেজ ধরে রাখার পাশাপাশি সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। এসব কারণে মহানগর যুবদলের নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় তার অবস্থান গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করেন তারা।

ছাত্ররাজনীতিতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামেও সক্রিয় ছিলেন হাসান। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে গিয়ে তাকে একাধিক প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা। রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার, কারাবরণ ও একাধিক মামলার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় টিম প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন হাসান। এ ছাড়া ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের নির্বাচনী প্রচারণা টিমেরও টিম প্রধান ছিলেন তিনি।

যুবদলের নেতৃত্বে আসার প্রত্যাশার বিষয়ে হাসান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় পর্যায়ে রাজনীতি করলেও দিন শেষে নিজের এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। এটি আমার জন্মস্থান। এখানে রাজনীতি করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।’

নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি যুবদলের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালনের জন্য কাজ করার চেষ্টা করছি। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায়ও দায়িত্ব পালন করেছি। আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম, রাজপথে ছিলাম। গ্রেপ্তার হয়েছি, জেল খেটেছি। আমার নামে কয়েকটি মামলাও হয়েছে। এসব বিবেচনায় যুবদলের সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশা করছি। তবে বাকিটা দল যেটা ভালো মনে করবে।’

রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত রয়েছেন হাসান। নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। সংগঠনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নারায়ণগঞ্জের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত।

এ ছাড়া ‘স্বপ্নের নারায়ণগঞ্জ’ নামের একটি সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। উদ্যোগটিকে সাংগঠনিক কাঠামোয় রূপ দিতে কাজ চলছে বলে জানান হাসান।

স্থানীয় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে হাসান বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেও তিনি বিভিন্ন সময়ে নারায়ণগঞ্জের মানুষের জন্য কাজ করেছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন সংকট ও দুর্যোগের সময়ে স্থানীয় পর্যায়ে সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। বন্যার সময় নিজের সংগঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও জানান তিনি।

মহানগর যুবদলের নতুন কমিটি ঘিরে সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় মেধা, ক্লিন ইমেজ, রাজনৈতিক ত্যাগ ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে হাসানকে একজন সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে দেখছেন তার অনুসারীরা। তাদের মতে, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের রাজনীতিতে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সম্পৃক্ততা তাকে অন্য পদপ্রত্যাশীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখতে পারে।

তবে মহানগর যুবদলের নতুন কমিটিতে শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসবেন, তা নির্ভর করছে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর।