নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি, মডেল গ্রæপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিএনপি নেতা মাসুদুজ্জামান মাসুদের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচিত হচ্ছে। বর্তমান ক্ষমতায় রয়েছে বিএনপি। আর এই বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তিনি কাদেরকে উদ্দেশ্য করে এই বক্তব্য রেখেছেন সেটা নিয়েই চলছে আলাপ আলোচনা।
সাম্প্রতিক সময়ে শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি বক্তব্য মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেন, অনেকেই অনেক বড় বড় কথা বলেন। আপনাদের টাকা না দিলে শ্রমিকদের বেতন ৩০ হাজার নয় শুধু ৪০ হাজার টাকা দিতে পারবো। আমাদের ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেন; শ্রমিকের কত টাকা বেতন দিতে হয় আমরা দিবো। অমুকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী; অমুকের জন্মদিন; কাস্টমের অমুক টাকা; এনবিএআরের অমুক টাকা; যেখানেই কাগজ লাগে সেখানেই টাকা দিতে হয়। এত টাকা দিতে দিতে মালিকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। যে কারণে আমরা দিতে পারি না। আমাদের কোথায় টাকা দিতে না হয়। বছরে কোটি কোটি টাকা দিতে হয়। এই টাকা আমার শ্রমিকদের দিতে পারতাম।
৫ নভেম্বর দুপরে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এদিন নারায়ণগঞ্জ জেলার চলমান শ্রমিক অসন্তোষ বিষয়ে জাতীয় ও স্থানীয় সকল ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
আর তার এই বক্তব্য নিয়ে সর্বমহলেই চলছে আলাপ আলোচনা। বিশেষ বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা বিএনপির বিরোধী পক্ষ মাসুদুজ্জামান মাসুদের বক্তব্যে যেন সুযোগ পেয়ে গেছেন। তারা এই বক্তব্যেকে লোপে নেয়ার চেষ্টা করছেন।
এর আগেও নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কাছে চাঁদা দাবি ও আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন তৎকালিন চেম্বারের সভাপতি মাসুদুজ্জামান। ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আপনারা জানেন গত কয়েকদিন কিভাবে চাঁদাবাজি হয়েছে। কীভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। আমার চেম্বারও আক্রান্ত। ১০ লাখ টাকার দাবি ছিল, তিন লাখ টাকায় মিটিয়েছি। সাত লাখ টাকার জন্য চাপ আছে। আমাদের প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান বিকেএমইএ পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দিয়েছে বাধ্য হয়ে।
তিনি আরও বলেছিলেন, এ চাঁদার টাকা ফেরত দিতে হবে। আমি নাম উল্লেখ করলাম না, সময় দিলাম। প্রয়োজনে শহীদ মিনারে গিয়ে এদের লাল কার্ড দেখাবো, প্রয়োজনে শহর থেকে বের করে দেব। দলীয় প্রধানদের লিখিত অভিযোগ দেব।
পরবর্তীতে আবার নিট গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স থেকে চাঁদা হিসেবে নেওয়া আট লাখ টাকা উদ্ধার হয়েছিলো। এর মধ্যে তিন লাখ টাকা নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস থেকে এবং বাকি পাঁচ লাখ টাকা বিকেএমইএ থেকে চাঁদা হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। তবে কে বা কারা এই চাঁদা নিয়েছিল সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
২০২৪ সালের ১ অক্টোবর শহরের চাষাড়া বিকেএমইএ’র প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টাকা উদ্ধারের কথা জানান বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। ওই সময় টাকা উদ্ধারে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোঃ মাসুদুজ্জামান বলে জানানো হয়েছিলো। কিন্তু সেবারও কারও নাম প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে একজন আলোচিত চরিত্র হলো নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ও মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুজ্জামান মাসুদ। তিনি নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে আলোচনায় এসেছিলেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর।
সেই সাথে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে নাটকীয়ভাবে উত্থান ঘটে মাসুদুজ্জামান মাসুদের। রাজনীতিতে তার প্রভাব আধিপত্য বেড়ে যায়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ দেখান। তারই অংশ হিসেবে তিনি বিএনপির বিভিন্ন কার্যক্রমে শরীক হন। তিনি নিজে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে বিএনপিতে একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে উঠে। মাসুদুজ্জামানও তার অবস্থান জানান দিতে থাকেন।
সেই সাথে ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন মাসুদুজ্জামান। একই সাথে ওই বছরের নভেম্বর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে তার নাম ঘোষণা করেন।
এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। সেই সাথে তফসিল ঘোষণার পর নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে একটা ঐক্যের সুর বইছিলো। সকলেই এক প্লাটফর্মে আসার মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিলো। কিন্তু এরই মধ্যে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মাসুদুজ্জামান। যা অনেক নেতাকর্মীদের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মতো অবস্থা ছিলো।















(1)-20261105094442.jpg)
(5)-20261106124722.jpg)








(6)-20261106125255.jpg)


-20261104095621.jpg)





আপনার মতামত লিখুন :