News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

উস্কানির পেছনে পলাশ বাহিনী


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম উস্কানির পেছনে পলাশ বাহিনী

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে গার্মেন্ট শ্রমিকদের আন্দোলনের পরেই স্থানীয় শ্রমিক নেতা হাফিজুল ইসলাম, এম এ শাহীন ও ইকবাল হোসেনরা সাফ জানিয়ে দেন আন্দোলন তাদের নিয়ন্ত্রনে নেই। শ্রমিকেরা তাদের কথা শুনছেন না। এর পরেই বিষয়টি নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরব হয়ে উঠে। কারা পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে তা শনাক্ত করতে বেশ ঘাম ঝরাতে হয়। প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের লোকজনও দাবী করেন এ সহিংশতার পেছনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইন্ধন রয়েছে। কিন্তু দলের নেতাদের বেশীরভাগ আত্মগোপনে, কেউ দেশের বাইরে। তাহলে কারা সেই উস্কানিদাতা সেটা নিয়ে রয়ে যায় নানা প্রশ্ন। তবে একটি সংস্থার কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের অনেকের নামে মামলা হলেও পুরো ঘটনার পেছনে শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ ও তার অনুসারী শাহাদাত হোসেন সেন্টু সহ অন্যদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

এরই মধ্যে পলাশ ও সেন্টু সহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন পাগলায় বসবাসরত শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ। তবে সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির একটি গ্রুপ পলাশের সঙ্গে বৈঠক করেন। জমিয়তের প্রার্থী মনির কাসেমীর পক্ষে নিরবে কাজ করবেন এ শর্তে তাকে এলাকায় ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়। সেখানে পলাশ অনুসারীদের কেউ কেউ সরাসরি বিএনপি জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। ওই সুযোগে এলাকাতে ফিরে আসেন পলাশ। পাগলায় নিজের একাধিক বাসাতেই তিনি বসবাস শুরু করেন।

এক বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তিনি বেশ সরব। নিয়মিত পোস্ট দিচ্ছেন। এরই মধ্যে পলাতক আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একাধিক ভিডিও আলাপচারিতে ভিডিও তিনি পোস্ট করেছেন নিজের ফেসবুক পেজে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ভার্চুয়ালী যোগ দেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানাতে পলাশের আগে যাতায়াত ছিল। সেখানকার শ্রমিক ও মালিকদের সাথেও তার ভালো সম্পর্ক। সে সুযোগটা তিনি কাজে লাগিয়েছেন।

শুধু এখন না বরং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও তিনি ছিলেন বেশ আগ্রাসী। পলাশ ও তার বাহিনীর চাঁদাবাজির উৎপাত সহ্য করতে না পেরে পঞ্চবটিতে রফতানিমুখী গার্মেন্ট কারখানা পাইওনিয়ার ও পোস্ট অফিস রোডের বিপরীতে হামিদ ফ্যাশনসহ শিবুমার্কেট এলাকায় আরও একটি গার্মেন্ট বন্ধ হয়ে গেছে।

‘এক পলাশেই সর্বনাশ’ শিরোনামে ও  নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকলীগের নাম তাণ্ডব, চাঁদার জন্য ৩৬ শিল্প-কারখানা বন্ধ, এলাকা ছাড়ছেন ব্যবসায়ীরা’ বিশেষণে বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয় যা নিয়ে রীতিমত তোলপাড় হয়। ওই সংবাদটিতে বলা হয়েছে, অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন ফতুল্লার শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ। সরকার, প্রশাসন, দল- কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করেন না তিনি। দেশের বৃহত্তম রপ্তানি খাত নিটশিল্পের প্রধান কেন্দ্র ফতুল্লার বিসিক পল্লীর শত শত গার্মেন্ট মালিক শ্রমিক অসন্তোষের আড়ালে পলাশের চাঁদাবাজির কাছে জিম্মি। আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা তার (পলাশ) বাড়িতে আসার পর থেকে যেন বাদশাহ হয়ে উঠেছেন তিনি।

তার আগে কাউসার আহাম্মেদ পলাশের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে অভিযোগ প্রদান করেছিলেন বিকেএমইএ’র সাবেক প্রথম সহসভাপতি ও ক্রোনি গ্রুপের মালিক এএইচ আসলাম সানি। পলাশের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে কারখানা বন্ধের পায়তারার অভিযোগ করেছেন তিনি। বর্তমানে কাউসার আহমেদ পলাশকে এসকল কর্মকাÐের সবকিছু ত্যাগ করতে হবে মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। তবেই তার ভবিষ্যত উজ্জ্বল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

৪ নভেম্বর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে ফতুল্লার কাঠেরপুল, শিবু মার্কেট ও ইরান টেক্সটাইল এলাকার আবির ফ্যাশন, পলমল গার্মেন্টস, মাইক্রো ফাইবার, মেট্রো গার্মেন্টস, টাইম সোয়েটার ও মডার্ন গার্মেন্টসসহ আশপাশের বিভিন্ন শিল্পকারখানার প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ শ্রমিক একত্রিত হয়ে কাঠেরপুল থেকে শিবু মার্কেট পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রথমে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের একটি অংশ সড়কে টায়ারসহ বিভিন্ন সামগ্রীতে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় অবরোধের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সামনে এগোনোর চেষ্টা এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে বিভিন্ন যানবাহনের কাচ ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বাধা দিলে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

পুলিশের দাবি, এসব সরঞ্জাম ব্যবহারের পর বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন দিকে সরে যান। পরে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় শিবুকে গ্রেপ্তার করা হয়।