News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

১২৫০০ টাকায় সংসার চলে কীভাবে?


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৬, ০৯:২০ পিএম ১২৫০০ টাকায় সংসার চলে কীভাবে?

১২ হাজার ৫০০ টাকা মাসিক বেতনে একটি পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানো কতটা কঠিন, তা বোঝা যায় নারায়ণগঞ্জের দিগুবাবুর বাজার, খানপুর বৌ বাজার, হাজীগঞ্জ বাজার, পাঠানটুলী বাজার, চৌধুরীবাড়ি, এনায়েতনগর সহ বিভিন্ন এলাকার বাজারের পণ্যমূল্যের দিকে তাকালেই।

এলাকাভেদে এই দাম সিন্ডিকেট বানিয়ে আরো বাড়িয়ে বিক্রি করা হয়। অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা বলেন, চাঁদাবাজদের চাঁদার টাকার যোগান দিতেই এই দাম উৎপাদনকারী থেকে পাইকারদের সিন্ডিকেট থেকে খুচরা সিন্ডিকেট পর্যন্ত এসে ১ টাকার জিনিস ২০ টাকা হয়ে যায়।

চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস থেকে শুরু করে প্রতিদিনের শাকসবজি সবকিছুর খরচ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সীমিত আয়ের মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি কেবল আন্দোলনের বিষয় নয়, বরং জীবনধারণের বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত একটি যৌক্তিক দাবি।

সা¤প্রতিক বাজারদরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দিগুবাবুর বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, নতুন আলু ৮০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে। পটল, ঢেঁড়স ও চিচিঙ্গার দাম ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। গাজরের দাম ছিল ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি।

এর আগের ১৬ অক্টোবর একই বাজারে শিমের দাম ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং নতুন আলু ২০০ টাকা কেজি। বেগুন বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং টমেটো ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে। অর্থাৎ দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েকটি সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও সব পণ্যের দাম কমেনি। মাছ, মাংস, ডিম ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের ব্যয়ও পরিবারের বাজেটে চাপ তৈরি করছে।

শুধু সবজির দাম দিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বিচার করা যায় না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ, যা সেপ্টেম্বরে বেড়ে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশে দাঁড়ায়। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও ৭ দশমিক ০২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ২২ শতাংশ হয়েছে।

এবার হিসাব করা যাক একজন শ্রমিকের সংসারের। মাসিক ১২ হাজার ৫০০ টাকা বেতনকে ৩০ দিনে ভাগ করলে দৈনিক আয় দাঁড়ায় প্রায় ৪১৭ টাকা। মাসে ২৬ দিন কাজ করলেও দৈনিক আয়ের হিসাব হয় প্রায় ৪৮১ টাকা। এই অর্থ থেকে বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল, খাবার, যাতায়াত, চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা এবং পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে হয়। ফলে পুষ্টিকর খাবার কেনা কিংবা জরুরি চিকিৎসার জন্য অর্থ সঞ্চয় করা অনেক শ্রমিক পরিবারের কাছেই কঠিন হয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে পোশাকশ্রমিকদের সর্বনি¤œ মাসিক মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরই মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করা হোক। ৪ নভেম্বর নতুন মজুরি কাঠামো ডিসেম্বর থেকে কার্যকরের বিষয়ে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা সম্মত হলেও মজুরি বৃদ্ধির পরিমাণ এখনো নির্ধারিত হয়নি।

সবজি বা কোনো একটি পণ্যের দাম সাময়িকভাবে কমে যাওয়া মানেই জীবনযাত্রার ব্যয় কমে যাওয়া নয়। কারণ একটি পরিবারের ব্যয় নির্ভর করে খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতসহ সামগ্রিক খরচের ওপর।

সুতরাং শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি আবেগনির্ভর নয়; এটি বর্তমান বাজারদর, মূল্যস্ফীতি ও ন্যূনতম জীবনধারণের প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত। শ্রমিকের শ্রমে দেশের রপ্তানি আয় ও শিল্পের চাকা সচল থাকলেও তাঁর নিজের পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ না হলে সেই উন্নয়নের সুফল অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাই শ্রমিকের জীবনমান, উৎপাদনশীলতা এবং শিল্পের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাস্তবসম্মত ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন মজুরি কাঠামো এখন সময়ের দাবি।