ফেব্রুয়ারীতে সংসদ নির্বাচনের পর সাম্প্রতিক সময়ে গার্মেন্ট শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় রাজধানীর পাশের নারায়ণগঞ্জ জেলাতে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। দেখা দেয় এক ভয়াবহ সঙ্কট। এটা কাটাতে প্রশাসনকে যেমন ধকল পোহাতে হয়েছে তেমনি রাজপথে থাকতে হয়েছে বিএনপিকেও। দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নারায়ণগঞ্জে এ সঙ্কটের সময়ে সমাধানের পথ না খুঁজে উল্টো দোষারোপের রাজনীতি করে নিজের অবস্থান নষ্ট করেছেন এনসিপির এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিল্টরা। এরই মধ্যে ব্যবসায়ী নেতা থেকে শুরু করে সকলেই এটা নিয়ে সংশয় ও ক্ষোভ ঝেরেছেন।
একাধিক গার্মেন্ট মালিক জানান, গত ২ নভেম্বর থেকে আন্দোলন শুরু হয়। প্রথমদিন কিছুটা শান্ত থাকলেও ৩ ও ৪ তারিখে ফতুল্লায় সহিংশতা ঘটে। শ্রমিকদের আড়ালে থাকা দুর্বৃত্তরা জড়ো হয়ে হামলা করে। পুলিশও পাল্টা অ্যাকশনে যায়। শ্রমিক ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ে। তখন মাঠে জোর দিয়ে নামেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
সঙ্কট কাটাতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দফায় দফায় বৈঠক হয়। সেখানে এমপি আবুল কালাম, নজরুল ইসলাম আজাদ, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান, এনডিএ চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব সহ বিভিন্ন দপ্তরের লোকজন ছিলেন।
কিন্তু কোন সভাতেই দেখা যায়নি এমপি আবদুল্লাহ আল আমিনকে। অথচ ফতুল্লা তার নির্বাচনী এলাকা। তিনি ভোটে নির্বাচিত এমপি। তার অনুপস্থিতিতে জন্ম দেয় নানা প্রশ্নের। অনেকেই অভিযোগ করেন এ আন্দোলনের পেছনে এনসিপি ও জামায়াতের মৌন সমর্থন ছিল। পেছন থেকে উস্কানি ও সহিংশতা করে আওয়ামী লীগ।
নিজের এলাকাতে এত বড় সহিংশতা, সঙ্কট দেখা দিলেও তার উপস্থিতি মিলেনি ২ হতে ৪ নভেম্বর এ তিনদিনেও। অথচ কয়েকদিন আগে বক্তাবলীতে এনসিপির এক নেতার উপর হামলার ঘটনায় তিনি দলবল নিয়ে ছুটে যান ফতুল্লা মডেল থানায়। এক উশৃঙ্খল নেতা সেদিন থানার ইট খুলে আনার ঘোষণা দেন প্রকাশ্যে।
গার্মেন্ট আন্দোলনে আলামিনকে দৃশ্যমান দেখা না গেলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে উপস্থাপন করেন তিনি। শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে দোষারোপ করেন। বলেন, নারায়ণগঞ্জের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সুযোগ পাওয়ার কারণ, বিকেএমইএ সভাপতি মো.হাতেম। একজন লীগের দোসর ওসমানদের দালালকে পদে বসিয়ে রেখে লীগকে ঠেকাবেন কিভাবে? সে নিজেই-আওয়ামী লীগ। প্রশাসন যদি জুলাইয়ে খুনী হাসিনার পক্ষ নেয়া হাতেমের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয় তাহলেই লীগের ইন্ধন কমে যাবে। সর্ষের মধ্যে ভ‚ত বসায়া রেখে রাজপথে লীগ খোঁজার কোনো মানে হয় না। আমি বিএনপির নেতৃবৃন্দকেও বারবার বলেছি, শিল্প মালিকদের সংগঠনে হাতেমের মতো লীগের দোসর বসায়া রাখলে সরকারই বিপদে পড়বে। কারণ ভিতর থেকে সাবোট্যাজ হবে। অথচ দুঃখের বিষয়, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ গার্মেন্টের ঝুটের ভাগ আর চাঁদার জন্য হাতেমের মতো ওসমানদের দোসরের সাথে আঁতাত করেছেন, শেল্টার দিচ্ছেন। আপনারাই কোনমুখে আবার আন্দোলনে লীগের জুজু দেখান? লজ্জাও করে না? গোড়া কেটে আগায় পানি দিয়ে লাভ হবে না। ঝুট আর চাঁদার জন্য লীগের সাথে আতাত করে আন্দোলনে লীগের ঠেকানোর লোক দেখানো রাজনীতি বন্ধ করলেই নারায়ণগঞ্জ স্থিতিশীল হবে। এনসিপি শ্রমিকের ন্যায্য মজুরী বৃদ্ধির পক্ষে। কতো বাড়বে তা সরকারকেই আলোচনা করে নির্ধারণ করতে হবে দ্রুত। দেশের স্বার্থে শিল্পও বাঁচাতে হবে আবার শ্রমিককেও বাঁচাতে হবে। শিল্প ও শ্রমিক একে অপরের পরিপুরক, শত্রু নয়। মালিকও শ্রমিকদের উপর জুলুম করবে না, শ্রমিকও ধংসাত্মক কিছু করে দেশ ও শিল্পের ক্ষতি করবে না; এমন সমাধানে আসতে হবে। আন্দোলনে সুযোগ নিতে বা সাবোট্যাজ করতে আসলে নিষিদ্ধ লীগকে অবশ্যই কঠোরভাবে দমন করতে হবে। কিন্তু সমস্যা সমাধান না করে ঝুলিয়ে রাখলে দেশ এবং শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দায় সরকারকেই নিতে হবে।















(1)-20261105094442.jpg)
(5)-20261106124722.jpg)








(6)-20261106125255.jpg)


-20261104095621.jpg)





আপনার মতামত লিখুন :