নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শিবু মার্কেট, কাঠেরপুল ও কায়েমপুর এলাকায় গত সপ্তাহে টানা কয়েক দিন পোশাক শ্রমিক অসন্তোষ ও সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। স্বাভাবিক হয়েছে অধিকাংশ কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমও।
শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য বিভিন্ন কারখানার সামনে ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁরা শিল্পাঞ্চলে সতর্ক অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানা গেছে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহবায়ক মনিরুল ইসলাম সজল ও আহবায়ক কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম আপনকে দেখা গেছে ফতুল্লা ফকির নীট এ্যাপারেলসের সামনে অবস্থান নিতে। তাদের ছাড়া দলের শতাধিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলো। এ সময় শ্রমিকদের প্রবেশ ও বের হওয়ায় তাদের তৎপরতা চোখে পড়ে।
এর আগে গত ২ নভেম্বর থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ শুরু হয়। শিবু মার্কেট, কাঠেরপুল, জালকুড়ি ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যান চলাচল ব্যাহত হয়। সাধারণ মানুষকেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম সহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা আন্দোলনস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে দাবি উপস্থাপনের আহŸান জানান।
গত ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিকরা কাজে ফিরতে শুরু করেন। তবে নতুন করে আন্দোলন বা সংঘর্ষের আশঙ্কায় শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীরাও সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। গতকাল রোববারও শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার মধ্য দিয়ে শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসার চিত্র দেখা গেছে। তবে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, কর্মপরিবেশ ও অন্যান্য দাবির বিষয়ে স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অসন্তোষের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা।
শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদের কারখানার সামনে অবস্থানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা চলছে। শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের স্বাভাবিক কর্মজীবন নিশ্চিত করাই এখন সংশ্লিষ্টদের সামনে প্রধান বিষয়।













(12)-20261108104635.jpg)

(1)-20261105094442.jpg)
(5)-20261106124722.jpg)








(6)-20261106125255.jpg)

-20261104095621.jpg)






আপনার মতামত লিখুন :