News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

বন্দরে অবৈধ ড্রেজার পাইপের হিড়িক


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | বন্দর প্রতিনিধি প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম বন্দরে অবৈধ ড্রেজার পাইপের হিড়িক

নারায়ণগঞ্জের বন্দরজুড়ে অবৈধ ড্রেজার পাইপ স্থাপনের হিড়িক পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি সড়কের ওপর দিয়ে লোহার ও পিভিসি পাইপ বসিয়ে বালু পরিবহনের সংযোগ নেওয়া হচ্ছে। কোথাও সড়কের ওপর পাইপ উঁচু করে রাখা হচ্ছে, আবার কোথাও রাস্তা বোরিং করেও পাইপ স্থাপন করা হচ্ছে। এতে একদিকে সরকারি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও যানবাহনকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বন্দর ইউনিয়নের মিরকুন্ডি ও তিনগাঁও, মুছাপুরের লাঙ্গলবাজার মসজিদ সংলগ্ন এলাকা ও কালীবাড়ি, চিড়াইপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা, মদনপুরের মুরাপাড়া, ইস্টাউন ও কুড়িপাড়া, সাবদী, কান্দিপাড়া থেকে মাধবপাশা সড়ক, জিওধরা, নরপদী, মদনগঞ্জ ও শান্তিনগরসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কের ওপর দিয়ে ড্রেজারের পাইপ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি সড়ক এবং ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিটি মসজিদ সংলগ্ন সড়কেও একই চিত্র দেখা গেছে।

এসব পাইপের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন তিন চাকার অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালকরা। সড়কের ওপর উঁচু করে রাখা পাইপ এবং সংযোগস্থলে ব্যবহৃত আলগা ইট-পাথরের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাইপের ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে গিয়ে যাত্রী ও চালকরা আহত হচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, এলাকার কিছু লোক বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে এসব কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। বন্দরে এমনিতেই বিভিন্ন সড়কে স্পিড ব্রেকার রয়েছে। এর ওপর ড্রেজারের পাইপ উঁচু করে রাখায় যানবাহন চলাচলে চরম অসুবিধা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, ড্রেজার ব্যবসাকে কেন্দ্র করে অতীতেও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নতুন সরকারের আমলেও এসব কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। বরং এ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রতিপক্ষ তৈরি হচ্ছে। সামনে শীত মৌসুমে ড্রেজার কার্যক্রম বাড়লে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। সম্প্রতি চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে বন্দরে ড্রেজার শ্রমিকদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া ও মারধরের অভিযোগও উঠেছিল।

এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকার জানান, বন্দরে কোনো বৈধ বালুমহাল নেই। ফলে এখানে কোনো ড্রেজিং কার্যক্রমই বৈধ নয়। লোহার কিংবা পিভিসি পাইপের মাধ্যমে কোথায় কোথায় সড়কের ওপর দিয়ে এসব সংযোগ নেওয়া হচ্ছে, তা খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে। জনভোগান্তির কারণ হয়, এমন কোনো কর্মকাÐই বরদাস্ত করা হবে না।