একসময় ক্রেতাদের পদচারণে মুখর থাকত নারায়ণগঞ্জের বহুতল বিশিষ্ট শপিং মলগুলো। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলত কেনাকাটা। বিক্রি কমেছে ৩০ থেকে ৬০%। এখন দোকান খুলে দিনভর ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও মিলছে না আশানুরূপ ক্রেতা। কোথাও বিক্রি না থাকায় কর্মচারী ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছেন মালিকরা। লোকসানে দোকান ছাড়ছেন ব্যবসায়ীরা। অথচ জমজমাট চাষাঢ়ার সমবায় মার্কেট ভেঙ্গে বহুতল মার্কেট নির্মাণের পাঁয়তারার খবরে ক্ষুব্দ দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।
শনিবার নারায়ণগঞ্জের একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ বিষয়ে প্রতিবাদ সভাও করেছেন সমবায় মার্কেটের দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা।
জানা গেছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব, দেশে ম‚ল্যস্ফীতি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অনলাইন কেনাকাটার প্রসারে নারায়ণগঞ্জের শপিং মলগুলোতে ক্রেতাসংকট তীব্র হয়েছে। দোকানভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কেউ ঋণ করে ব্যবসা টিকিয়ে রাখছেন, কেউ বিকল্প পেশায় যাওয়ার কথা ভাবছেন। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আরো অনেক দোকান বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের হক প্লাজা, মার্ক টাওয়ার, বেইলী টাওয়ার, লুৎফা টাওয়ার, সায়াম প্লাজাসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানে কমবেশি একই চিত্র দেখা গেছে। দীর্ঘদিনের ব্যাবসায়িক মন্দা, ক্রেতাসংকট ও আর্থিক লোকসানের কারণে ধুকছে ব্যবসায়ীরা। খুচরা বিক্রি ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। অনেক ব্যবসায়ী পণ্যের ওপর ছাড় দিয়েও আশানুরূপ বিক্রি পাচ্ছেন না।
শহরের চাষাঢ়া হক প্লাজার এক দোকান মালিক জানান, মাঝেমধ্যে ক্রেতা আসে, তবে আগের মতো বিক্রি নেই। ঈদ ও বিভিন্ন উৎসবকেন্দ্রিক লোকজনের আনাগোনা দেখা গেলেও অন্যান্য সময়ে বেচাকেনা একেবারেই তলানীতে এসে ঠেকে।
মার্ক টাওয়ারের এক দোকানদার বলেন, ‘বিক্রির অবস্থা খুবই খারাপ! আগে যে পরিমাণ বিক্রি হতো এখন তার ধারেকাছে নেই।
মার্ক টাওয়ারের একটি মোবাইলের দোকানের বিক্রয়কর্মী বলেন, চার-পাঁচ মাস ধরে মোবাইল ফোন সেটের বিক্রি কমেছে। ছয় মাস আগে যে ফোন ২৩ হাজার টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা বিক্রি করতে হচ্ছে ৩৩ হাজার টাকায়। মোবাইল ফোনের চিপ ও র্যামের দাম বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দাম বেড়েছে। আগে প্রতি মাসে যে পরিমাণ ফোন বিক্রি হতো এখন তার অর্ধেকেরও কম বিক্রি হচ্ছে।
হক প্লএক দোকান মালিক জানান, ‘এখন অনেক দোকানে কর্মচারীও নেই। বিক্রি না থাকায় তাদের বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মন দিনও যায়, কোনো বিক্রিই হয় না। কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিলসহ নিয়মিত ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’
এদিকে নারায়ণগঞ্জের বহুতল শপিং মলগুলো যেখানে ধুকছে রাজধানীতে একের পর এক বহুতল মার্কেট বন্ধ হওয়ার খবর বেরুচ্ছে সেখানে নারায়ণগঞ্জের জমজমাট সমবায় মার্কেট ভেঙ্গে বহুতল মার্কেট নির্মাণের পায়তারার খবরে ক্ষুব্দ সমবায় মার্কেট দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতি। শনিবার সমিতির পক্ষ থেকে একটি কমিউনিটি সেন্টারে প্রতিবাদ সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নেতা ও সমবায় মার্কেটর দোকান মালিক অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে পোষ্টে লিখেছেন, ১৯৯৫ সালে সমবায় মার্কেটটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রথমে একতলা নির্মাণের পর কয়েক বছর বিরতি দিয়ে দ্বিতীয় তলার কাজ করা হয়। এরপর আরও কয়েক বছর বিরতি দিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ তলার কাজ সম্পন্ন করা হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালের পঞ্চম তলার কাজ করা হয় এবং দোকান গুলো বরাদ্ধ দেয়া হয়। কিন্তু পঞ্চম তলার কাজ শেষ হতে না হতেই, মাত্র ছয় বছরের মাথায় সমবায় ব্যাংক ও অধিদপ্তরের কতিপয় মহল মার্কেটটি ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের বায়না ধরেছে। এটি যেন অনেকটা ‘মামার বাড়ির আবদারের’ মতো। অনেকের আশঙ্কা, এখানে হয়তো রূপপুর বালিশকাÐের মতো কোনো লুটপাটের মহাপরিকল্পনা নিয়ে কোনো মহল মাঠে নেমেছে। অথচ ভবনটি কোনোভাবেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়নি। মাত্র ছয় বছর আগে যেখানে একটি তলা বর্ধিত করা হয়েছে, সেখানে আস্ত একটি ভবন ভেঙে ফেলার কোনো যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে না। এই মার্কেটে তিন শতাধিক দোকান পজিশন হোল্ডার, অসংখ্য ব্যবসায়ী, কর্মচারীসহ দেড় হাজারের অধিক পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।
এদিকে অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলুর ওই পোষ্টের নিচেই স্ট্যাটাসে মহানগর বিএনপির নেতা ও নাসিকের সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ লিখেছেন, সুউচ্চ ভবন নির্মাণ করে নতুন দোকান ও ফ্ল্যাট বিক্রির ধান্দা।
জুবায়ের সাগর নামে একজন লিখেছেন, এটা করলে এখন যারা আছে তারা সবাই পথে বসে যাবে। কারণ যে সময় লাগবে তারা এই সময়ে কি করে জীবনযাপন করবে।
এ বিষয়ে জানতে সেন্ট্রাল কোঅপারেটিভ ব্যাংকের পরিচালক আবুল কালাম আজাদের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি জানান, অধিদপ্তর থেকে সারাদেশের ন্যায় আমাদেরকেও চিঠির মাধ্যমে সমবায় সমিতিগুলোকে গতিশিল করার জন্য বলেছে। যেহেতু আমাদের এই মার্কেটর আশেপাশের ভবনগুলো সুউচ্চ বহুতল মার্কেট হয়েছে এবং আমাদের এই সমবায় মার্কেটের নিচতলা বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। এজন্য আমরা চিন্তাভাবনা করছি এটিকে সুউচ্চ মার্কেটে পরিণত করার। তবে এখনো কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা সমবায়ের সমিতির সকল সদস্য, সকল দোকান মালিক স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলে ইজিএম করে তারপর সিদ্ধান্ত নিব।




















(12)-20261108104635.jpg)

(1)-20261105094442.jpg)
(5)-20261106124722.jpg)








(6)-20261106125255.jpg)

-20261104095621.jpg)






আপনার মতামত লিখুন :