শামীম ওসমানের কারণে আলোচনায় নারায়ণগঞ্জ-৪। বিগত সবগুলো নির্বাচনেই এ আসন আলোচিত সমালোচিত থাকতো। শামীম ওসমানের কারণেই এ জনপদ এক সময়ে সন্ত্রাসের নিরাপদ স্থান হয়ে উঠে। গত দেড় দশকে এ ফতুল্লাতে সন্ত্রাসীদের দাপট ছিল প্রচন্ডভাবে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ও শামীম ওসমান সহ সকলের পলায়নের পর অনেকেই মনে করেছিল সন্ত্রাস বিনাস হয়ে গেছে। কিন্তু আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসীরা গত দেড় বছরের ব্যবধানে ফিরতে শুরু করেছে। অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসন করছে বিএনপির কেউ কেউ। আর এতে করে চরম চ্যালেঞ্জে পড়বেন এনসিপির নবাগত এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন। যদিও তিনি দাবী করেছেন জনতাকে নিয়েই অস্ত্রবাজ, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের কবর রচনা করবেন তিনি।
খালিদা হাসান রবিন সন্ত্রাসীদের একজন। বিগত সময়ে ফতুল্লায় একাধিকবার বিপুল অস্ত্র ও মাদক সহ গ্রেপ্তার হন তিনি। সহযোগি ছিলেন সোহেল ওরফে ইয়াবা সোহেল। এ দুইজনের নিয়ন্ত্রনে ছিল ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলের ওয়েস্টেজ, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা। আওয়ামী লীগ পতনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে ছিল। সম্প্রতি সালাউদ্দিন রানা ও আরিফুর রহমান আরিফের ছত্রছায়ায় এ দুইজন এলাকাতে ফিরেছে। কেউ প্রতিবাদে টু শব্দ করলেই চলে রাউন্ডে রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক এসকে শাহীনের কায়েমপুরের অফিসে নির্বাচনের কয়েকদিন আগে এসকে শাহীনের অফিসে একাধিক গুলিবর্ষণ করে কয়েকশত সদস্যের কিশোরগ্যাং নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠে রবিন ও সোহেল গংদের বিরুদ্ধে। কাঠেরপুল শিল্পাঞ্চলটি মূলত ২টি ইউনিয়নের আওতাধীন যার একাংশ কুতুবপুরের ৯ নাম্বার ওয়ার্ডে অপর অংশটি ফতুল্লা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবী রবিন সোহেল গং এর অস্ত্র ও মাদকের প্রভাবের কারণে তাদের অসহায় সাধারণ বিএনপি নেতাকর্মীরা।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপি থেকে নব নির্বাচিত এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, নারায়ণগঞ্জে যেকোন ধরণের চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী প্রতিহত করুন। আমরা আপনাদের পাশে আছি। সন্ত্রাসীদের প্রশ্নে আমরা কোন ছাড় দিব না। আমরা মানুষের ম্যান্ডেট অর্জন করেছে। এই প্রতিশ্রুতি রাখতে আপনারা আমাদের মাঠে পাবেন। যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। যারা ভিন্ন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তাদের প্রতি নূন্যতম বৈষম্য করার অধিকার আমাদের নাই। প্রত্যেক নাগরিক তার মর্যাদা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করে মাদক ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি কিছু রাজনৈতিক নেতা যারা চাদাবাজির জন্য কিশোর গ্যাংকে শেল্টার দেয়। এখানে ব্যবসায়ী ও সাধারন মানুষ নানান ভাবে হয়রানীর শিকার হয়েছিলো। তারা সম্মিলিতভাবে সেই গ্রুপকে নির্বাচনে প্রতিহত করেছে। আমি সকলের সহযোগিতা নিয়ে আমি এসব সমস্যা নিরসনে কাজ করতে চাই।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার আওয়ামী লীগের পলাতক সন্ত্রাসীদের ফেরানো হয়েছে। এতে এলাকাতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের কেউ কেউ আবার ক্ষমতাধর নেতাদের সঙ্গে ছবি পোস্ট করেছেন। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের এ প্রস্থানে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে।
ফতুল্লা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদ হাসান সবুজ এলাকায় ফিরেছেন। তিনি ছাত্র জনতার বৈষম্যবিরোধী একাধিক মামলার আসামী। এলাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। বিএনপি নেতার কৌশলে তিনি এলাকাতে ফিরেই খেজুর গাছের পক্ষে ফতুল্লার কোতালেরবাগ সহ আশপাশ এলাকাতে ব্যানার ফেস্টুন সাটিয়েছেন। অভিযোগ আছে থানা বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা তাকে এলাকায় নিয়ে আসেন।
ছাত্র জনতার উপর প্রকাশ্য গুলি ছোড়া নারায়ণগঞ্জের সাবেক সাংসদ শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানের সহোযোগি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা ইউপি সদস্য আব্দুল বাছেদ ওরফে বাছেদ মেম্বারকে আবারো এলাকাতে দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ আছে থানা বিএনপির একজন শীর্ষ নেতার সমঝোতায় তিনি এলাকাতে ফিরেছেন। তাকে পুলিশ আটক করবে না প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাছেদকে ফেরানো হয়।
এর আগে ২৯ জুলাই বাছেদকে ফতুল্লা পোস্ট অফিস রোডস্থ ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষধ কার্যালয়ের সামনে থেকে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। সে ফতুল্লা ইউনিয়ন ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। ওই মামলায় কারাভোগ করে তিনি জামিনে মুক্তি পেলেও এলাকাতে দেখা যায়নি। পরে তাকে বিএনপির একজন নেতা এলাকাতে ফিরিয়ে আনেন।
স্থানীয়রা জানান, বাছেদ অয়ন ওসমানের অন্যতম সহযোগী এবং তারা বহু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া সম্প্রতি একটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র ও সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন তারা। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুব্ধ ছিলেন।


































আপনার মতামত লিখুন :