নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার হত্যায় জড়িত কারা সেটা আর জানা গেল না। কারণ ইতোমধ্যে মামলার রায় ঘোষণা হয়ে গেছে। ১৮ ফেব্রুয়ারী ২৩ বছর পূর্ণ হবে এ হত্যাকান্ডের। সময়ের এ বিবর্তনে পরিবারও যেন এখন কার্যত অসহায়। মামলার কূটচালে একটি হত্যার প্রকৃত চিত্র আড়ালেই থেকে গেল। অজানা রয়ে গেল ঘাতকদের নাম পরিচয়।
২০০২ সালের ২২ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাস, চাঁদা ও মাদক মুক্ত করার জন্য নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সে অনুষ্ঠিত জেলার ৩২ টি ব্যবসায়ী সংগঠনের সাথে সেনাবাহিনীর মত বিনিময় সভায় “আমার জানাযায় অংশ গ্রহণ করার আহবান জানিয়ে বক্তব্য শুরু করছি” বক্তব্যে সন্ত্রাসীদের নাম বলার চার মাসের মাথায় ২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী খুন হন ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার। সাব্বির সেদিন নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের নাম, ঠিকানা ও তাদের গডফাদারদের নাম প্রকাশ করেন এবং সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে নারায়ণগঞ্জবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন। তখন শহীদ সাব্বিরের ব্যাপক তৎপরতায় ঝুট সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে জিম্মি গার্মেন্ট ব্যবসায়ী, চুন ফ্যাক্টরী ও নারায়ণগঞ্জবাসী নিস্তার লাভ করে।
১৮ ফেব্রুয়ারি আলোচিত ব্যবসায়ী সাব্বির আলম খন্দকার হত্যা মামলায় তার বড় ভাই অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বাদি হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রথমে ৭ জনকে এজাহারনামীয় আসামী করা হয়। ওই মামলায় জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের নাম ছিলনা। পরে জাকির খানসহ ৮ জনের নামে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
হত্যাকাণ্ডের পর সুরতহাল ও ময়না তদন্তের রিপোর্টের সূত্র ধরে তখনকার গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সবগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছিল সাব্বিরের শরীরে ২১টি বুলেটের দাগ রয়েছে। শুরুতে আদালত সূত্রে জানা গেছে মামলায় এজাহারনামীয় আসামী ছিলেন ৭ জন। তারা হলেন জিকু খান, মামুন খান, জঙ্গল ওরফে লিটন, মোক্তার, শাহীন, মনিরুজ্জামান শাহীন, সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনের শ্যালক জুয়েল। পরে তদন্তকারী অফিসার সিআইডির পরিদর্শক নুরুল আফসার ভূইয়া ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। তারা হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খান, তার ভাই মামুন খান, জিকু খান, জঙ্গল ওরফে লিটন, মোক্তার হোসেন ওরফে মোক্তার, মনিরুজ্জামান শাহীন, নাজির আহাম্মদ ওরফে নাজির, মোঃ আব্দুল আজিজ ওরফে বাচ্চু। নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সর্বমোট ৩৩টি মামলা আদালতে বিচারাধীন ছিল
৫২ জন সাক্ষীর মধ্যে ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারী আদালত জাকির খানসহ সকল আসামীকে বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন। খালাস পেয়েছেন মামলার এজাহারভুক্ত ও পুলিশের দেওয়া চার্জশীটভুক্ত সকল আসামী। ফলে প্রশ্ন উঠেছে কারা ছিল সেই আততায়ী যাদের ২১ বুলেটে নিথর হয়ে যায় সাব্বিরের দেহ। দেখা দেয় এক নতুন প্রশ্নের। তাহলে সাব্বিরকে হত্যা করলো কারা ? কারা ছিল সেই খুনী? যদি সাব্বির নিহত হয়ে থাকে কেন কারা তাকে হত্যা করেছিল। এর দায়ভার তাহলে কার। পরিবারের মামলা নাকি পুলিশের প্রতিবেদন।
সাব্বির আলম খন্দকার খুন হয়েছে এটা নিয়ে কারোই সন্দেহ নাই। খুনের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন অনেকেই। তখন হাবিবুর নামের একজন গণমাধ্যমে সে বর্ণনাও তুলে ধরেন।
প্রথম আলো, জনকণ্ঠ ও ডেইলি স্টারের সংবাদে বলা হয়, ফেব্রুয়ারী সকালে মাসদাইরে নিজ বাড়ির অদূরে মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত রোকেয়া খন্দকার স্কুল থেকে বের হওয়ার ৫ থেকে ৭ গজ দূরেই আক্রান্ত হন সাব্বির আলম খন্দকার। কালো গেঞ্জি ও ট্রাউজার পরিহিত দুই যুবক প্রথমে সাব্বিরকে লক্ষ্য করে ২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। সাব্বির তখন দৌড় দিলে সন্ত্রাসীরা পেছন থেকে খুব কাছ থেকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গুলি ছোড়ে। পিঠে, পেটে, মাথায় ও হাতে ২১টি গুলির চিহ্ন রয়েছে। মাথায় গুলি করা হয়েছে তিনটি। একটি গুলি ডান চোখ দিয়ে ঢুখে মাথা দিয়ে বেরিয়ে যায়। আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা দ্রুত পায়ে হেঁটে মাসদাইরের দিকে চলে যায়। তখন একজন রিকশাচালকও গুলিবিদ্ধ হয়।


































আপনার মতামত লিখুন :