ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পণ্য বিক্রিতে অতিরিক্ত ১০ টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। তাদের অভিযোগ টিসিবি পণ্য এবার ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও নেয়া হচ্ছে ৬১০ টাকা। বন্দরের ২৩নং ওয়ার্ড এলাকায় ডিলার বিসমিল্লাহ এন্টার প্রাইজের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন ভোক্তারা। তবে ডিলারের প্রতিনিধির দাবি প্যাকেটের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে এবারে টিসিবি পণ্যের প্যাকেজে জনপ্রতি ২লিটার পুষ্টির সয়াবিন তেল, ১ কেজি খোলা চিনি, ২ কেজি খোলা মসুরির ডাল, ১ কেজি ছোলা বুট ও ৫ কেজি চাল। যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০০ টাকা। প্রতিটি ট্রাকসেল স্পট থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ভোক্তার কাছে পন্য বিক্রি করা হয়।
অতিরিক্ত ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগে সরেজমিনে ২৩নং ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে টিসিবি ট্রাক সেলে মূল্য তালিকা সহ পণ্যের বিস্তারিত তালিকা ও ডিলারের নাম ঠিকানা সহ ব্যানার লাগানোর নিয়ম থাকলেও সেখানে ওই ব্যানার ব্যবহার করা হচ্ছে।
টিসিবি কার্ডধারী ভোক্তাদের এক স্থান থেকে টিসিবি কার্ড স্ক্যান করে টোকেন ধরিয়ে দিয়ে কয়েকশ গজ দূরে অন্যত্র গিয়ে ওই টোকেন দেখিয়ে টাকা জমা দিয়ে মালামাল নিতে হচ্ছে।
অতিরিক্ত ১০ টাকা নেওয়ার ব্যাপারে বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স এর প্রতিনিধি সোহাগ জানান, যেহেতু রমজান মাস উপলক্ষ্যে এক কেজি করে ছোলাও দেওয়া হচ্ছে, আর চিনি এবং ডাল রয়েছে এগুলো দিতে গিয়ে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। অনেকেই আলাদা আলাদা ব্যাগ নিয়ে আসেনা। তাই চিনি, ছোলা ও ডাল আলাদা আলাদা পলিতে প্যাকেট করে দেওয়া বাবদ অতিরিক্ত ১০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে আলাদা করে কর্তৃপক্ষের কোন অনুমতি নিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন এমন কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি, আর ব্যানার না টানানোর বিষয়টি তাদের ভুলক্রমে হয়েছে বলে স্বীকার করেন ডিলারের প্রতিনিধি ও দায়িত্বপ্রাপ্তরা।
এমন অতিরিক্ত ১০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ২২নং ওয়ার্ডের ডিলারের বিরুদ্ধেও।
তবে এ ব্যাপারে অন্যান্য ওয়ার্ডের দায়িত্বরত সচিবদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, যেহেতু চিনি, ডাল এখন খোলা দেওয়া হচ্ছে এগুলো ভোক্তাদের দিতে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। অনেকেই ব্যাগ নিয়ে আসেন তখন নিজেদেরকে পলিথিন কিনে দিতে হয়। এ জন্য এবার যখন টিসিবির চেয়ারম্যান পরিদর্শনে এসেছিলেন তখন ওনার কাছে মৌখিক ভাবে জানানো হয় বিষয়টি। ৩টি পণ্য আলাদা করে প্যাকেট করা সময় এবং শ্রমের ব্যাপার রয়েছে, তাছাড়াও প্যাকেট করার জন্য পলিথিনও কিনে আনতে। ফলে এসব আগে থেকে মেপে পলিথিনে প্যাকেট করে রাখার জন্য ৫ থেকে ১০টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে কোন অবস্থায় এটি গ্রাহকদের কাছ জোড় করে চাপিয়ে দেওয়া বা বাধ্যতা মূলক করা যাবেনা। আর এই অতিরিক্ত ১০টাকা নেওয়ার ব্যাপারে অফিসিয়ালি কোন অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স এর মালিক আল আমিন এর বক্তব্য জানতে তার প্রতিনিধি কর্তৃক দেওয়া মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তার দেওয়া মোবাইল নাম্বারে একাধিক যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নাম্বারটি ব্যবহৃত হচ্ছে না বলে জানিয়ে দেয় মোবাইল কোম্পানির স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম।
তবে এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা কে এম ফরিদুল মিরাজ যার অধীনে এই টিসিবি পন্য তদারকির দায়িত্ব নিউজ নারায়ণগঞ্জকে তিনি জানান, কোন ডিলার গ্রাহকদের কাছ থেকে কোন অবস্থাতেই অতিরিক্ত কোনো টাকা নিতে পারেননা।
চিনি, ডাল এবং ছোলা পলিথিনে করে দেওয়ার জন্য ১০টাকা করে অতিরিক্ত নিতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই কোনো ডিলার গ্রাহকের কাছ থেকে এক টাকাও বেশি নিতে পারেন না। কোনো কোন ডিলার এমন করেছে নিদিষ্ট করে বলতে পারলে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।








































আপনার মতামত লিখুন :