News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

কারাগারে নূর হোসেনের সঙ্গী ৭ সহযোগী


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ১০:২০ পিএম কারাগারে নূর হোসেনের সঙ্গী ৭ সহযোগী

একসময়ের ট্রাক ড্রাইভার থেকে ভিন্ন এক রাজ্যের রাজা বনে গিয়েছিলেন নরঘাতক খ্যাত নূর হোসেন। তবে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ৭ খুনের ঘটনার পরে তার সেই সাম্রাজ্য ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়।  নিম্ন আদালতে নূর হোসেনের ৯ সহযোগীরই ফাঁসির রায় ঘোষণা করা হলেও পরবর্তীতে তাদেরকে যাবজ্জীবন দন্ডে দন্ডিত করেছেন হাইকোর্ট। কারাগারে নূরের সঙ্গে ৭ সহযোগী থাকলেও এক যুগেও খোঁজ মেলেনি অপর দুই সহযোগীর। তারা বর্তমানে কোথায় আছে তা জানে না কেউই।

জানা গেছে, ৭ খুনের মামলার প্রধান আসামী নাসিকের ৪ নং ওয়ার্ডের বরখাস্তকৃত কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের বহিস্কৃত সহ সভাপতি নূর হোসেনের চলাফেরাও ছিল অনেকটা রাজকীয় স্টাইলে। নূর হোসেন যেখানেই যেতো সঙ্গে থাকতো তার বিশাল গাড়িবহর। যাতে থাকতো অন্তত ১৫ থেকে ২০টি গাড়ি। সঙ্গে বৈধ-অবৈধ অস্ত্রের বিশাল ভান্ডার। নূর হোসেনের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হাতে ছিল অন্তত ১২টি বৈধ অস্ত্র। নিজের অনুগত ক্যাডার বাহিনীর সঙ্গে প্রশিক্ষিত গানম্যানতো থাকতোই। তার সাম্রাজ্য অভিযান চালানোতো দূরের কথা বরং প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই সবকিছু চলতো। সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়, ট্রাক স্ট্যান্ড, সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিং, কাঁচপুর সেতু সংলগ্ন বালুর ঘাট, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের ১৮টি জেলার প্রায় ৬৫টি রুটের যানবাহন, ১৭টি চুন উৎপাদনকারী কারখানা, মহাসড়কের পাশের ফুটপাতসহ সব সেক্টরেই চলতো নিরব চাঁদাবাজি। তবে ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল আলোচিত ৭ খুনের ঘটনায় নিহতদের লাশ উদ্ধারের পরপরই তছনছ হয়ে যায় নূর হোসেনের সাম্রাজ্য। বিক্ষুব্দ জনতা নূর হোসেনের কার্যালয় ভাংচুর করে বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেয়। ৭ খুনের মামলায় একের পর এক গ্রেফতার হতে থাকে নূর হোসেনের অনুগামী ক্যাডাররা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে নূর হোসেন ভারতে পালিয়ে গেলেও একবছর পরে গ্রেফতার হয়।

৭ খুন মামলায় জড়িত ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত নূরের ৯ সহযোগীর প্রত্যেকেই ছিল দুর্ধর্ষ। তাদের বেশীরভাগের নামেই অস্ত্রের লাইসেন্সও নিয়েছিল নূর হোসেন। যার মধ্যে আলী আহাম্মদ, ওয়াহিদুজ্জামান সেলিম ওরফে কিলার সেলিম, জামালউদ্দিন, মিজানুর রহমান দিপু, রহম আলী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ প্রচার সম্পাদক আবুল বাশার, নূর হোসেনের প্রধান বডিগার্ড মোর্তুজা জামান চার্চিলসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে আলোচিত ৭ খুনের পর এক যুগ ধরেই পলাতক রয়েছে দুর্ধর্ষ কিলার বরিশাইল্যা শাহজাহান ও সানাউল্লাহ সানা। তারা বর্তমানে কোথায় আছে তা জানে না কেউই। শাহজাহান ওরফে বরিশাইল্যা শাহজাহান ও সানাউল্লাহ ছিল সিদ্ধিরগঞ্জের মূর্তিমান আতঙ্ক। মাদকব্যবসা, চাঁদাবাজি, মারপিট, খুন, গুম, অপহরণসহ সব ধরনের অপরাধে ছিলেন সিদ্ধহস্ত। ফলে এই দুই অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি এলাকাবাসী ও নিহতদের স্বজনদের।