News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩

জলাবদ্ধতার সমাধান সিটিতে অন্তর্ভুক্তি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম জলাবদ্ধতার সমাধান সিটিতে অন্তর্ভুক্তি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা এখনও প্রকট আকারে রয়ে গেছে। বহু বছর ধরে ভোগান্তিতে থাকা এ অঞ্চলের বাসিন্দারা আশায় ছিলেন, ডিএনডি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পরও জলাবদ্ধতা সমস্যা আগের মতোই বিদ্যমান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্ষা মৌসুম এলেই ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে থাকে দিনের পর দিন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও বসতবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুম ছাড়াও সারাবছরই পানির নিচে থাকে এই অঞ্চলের বহু সড়ক। আর বর্ষায় মানুষের ভোগান্তি বাড়ে কয়েকগুন। গত ১৭ বছর ইচ্ছাকৃত ভাবেই মানুষকে কষ্ট দিয়ে গেছে আওয়ামী সরকার। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অভাবে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

দীর্ঘ ভোগান্তি ও ক্ষোভ থেকেই এবার পরিবর্তনের লক্ষ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা নির্বাচনে বেছে নিয়েছেন তাদের পছন্দের এমপিকে। তবে নির্বাচনের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও স্থায়ী কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। যদিও এমপি আল আমিন দাবী করেছেন, এই বিষয় নিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন তিনি। তবে কবে নাগাদ এই সমস্যা সমাধানে প্রকল্প নেয়া হবে সেই সম্পর্কে স্পষ্ট কোন বার্তা দেননি।

এ পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা বলছেন, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তন জরুরি। তাদের মতে, ফতুল্লাকে দ্রুত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন-এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে এ সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের যুক্তি, সিটি করপোরেশন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা যেমন জাইকা এবং এডিবি এর মতো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা পেয়ে থাকে। এসব সহায়তার মাধ্যমে বড় আকারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব, যা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে করা প্রায় অসম্ভব।

বর্তমানে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের সীমিত জনবল ও বাজেট দিয়ে এ ধরনের জটিল নগর সমস্যার সমাধান করা যাচ্ছে না। এমনকি পৌরসভায় উন্নীত করা হলেও প্রয়োজনীয় বাজেট ও সক্ষমতার ঘাটতি থেকেই যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের দাবি, জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল পুনরুদ্ধার এবং আধুনিক পানি নিষ্কাশন প্রকল্প জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে হবে। আর এসব বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো ও বড় বাজেট।

এমন মতের সাথে সমর্থন জানিয়েছেন খোদ এমপি আল আমিন। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের সমস্যা সমাধানের জন্য সিটি করপোরেশনের বিকল্প নেই। কারন ইউনিয়ন পরিষদের যেই বাজেট তা দিয়ে এই সমস্যা সমাধান করা যাবে না। ইউনিয়ন পরিষদ মূলত গ্রামীণ এলাকার জন্য। কিন্তু এই অঞ্চল ইতোমধ্যে শহরে পরিণত হয়েছে। এখানে প্রচুর ঘনবসতি। তাই সমস্যা সমাধানের জন্য অবশ্যই সিটি করপোরেশনে যুক্ত হতে হবে। সিটি করপোরেশন প্রতিবছর শত কোটি টাকার বাজেট প্রনয়ন করে। তাদের দ্বারাই এই উন্নয়ন সম্ভব। তাই আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত এই অঞ্চলকে সিটিতে যুক্ত করতে।

সব দিক বিবেচনায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফতুল্লা, কুতুবপুর, এনায়েতনগর, কাশিপুর ইউনিয়নগুলো দ্রুত সিটি করপোরেশনের আওতায় আনা গেলে তবেই দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব হবে। সেই সাথে মিলবে স্থায়ী সমাধান ও সঠিক ব্যবস্থাপনা। এখানকার নাগরিক সমস্যা থেকেও মুক্তি মিলবে।