নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের সামনে ফুটপাত ও ড্রেনের জায়গা দখল করে স্থাপিত দোকান ভাঙ্গার কথা থাকলেও সেই দোকানগুলো পুনরায় স্থাপনের জন্য নানান স্থান থেকে চলছে তদবির। শহরের বিবি রোডের ফুটপাতে থাকা সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে জোড়ালো দাবি থাকলেও বিপুল অর্থের উৎস হওয়ায় এই দোকান ফের চালু করার পায়তারা চালাচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। সেই সাথে যুক্ত হয়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ। যারা সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের কাছে সুপারিশ করে ফের দোকান বসানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের সামনের ফুটপাতের উপর স্থাপিত যাত্রী ছাউনিকে ধীরে ধীরে দোকানে রুপান্তরিত করা হয়। যেগুলো লিজের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। তবে বহু আগেই এই দোকানের লিজ বাতিল করে দ্রুত তা অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এসব দোকান সরিয়ে ফেলার নির্দেশনা থাকলেও সেগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি। বরং নানান স্থান থেকে তদবির করে দোকান চালু রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি মাসখানেক ধরে বন্ধ রয়েছে হাসপাতালের সামনে থাকা দোকানগুলো। জানা গেছে, মামলা মোকাদ্দমার মাধ্যমে অপসারন করা হয়েছে ব্যবসায়ীদের। ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে দোকানগুলোর পেছনের অংশ। তবে সামনের অংশ এখনও অক্ষত থাকায় ফের শুরু হয়েছে তদবির। চলতি সপ্তাহেই সাবেক কাউন্সিলর বিভা হাসান এই দোকানগুলো পুনরায় স্থাপন ও লিজের জন্য সিটি করপোরেশনে উপস্থিত হয়ে সুপারিশ করেছেন বলে শোনা গেছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সড়ক ও ফুটপাত দখল করে এসব দোকান কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য না।
জানা গেছে, শুরুর দিকে দোকানের সংখ্যা কম থাকলেও ধীরে ধীরে সেগুলো বাড়ানো হয়েছে। এমনকি ৮ ফুটের জায়গা বৃদ্ধি করে ১২ ফুট দখল করা হয়েছে। ভাড়ার টাকা হাতবদল হয়ে সুবিধা নিয়েছে অন্যকেউ। এভাবে বছরের পর বছর আয়ের খাত বানিয়ে রাখা হয়েছিলো দোকানগুলোকে। ড্রেনের কাজ করার স্বার্থে এই দোকানগুলো সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হলেও তা বাস্তবায়নে সময় ক্ষেপন করা হয়েছে মাসের পর মাস।
সূত্র বলছে, ৫ আগস্টের আগে মেয়র আইভীর অনুসারীরা এই দোকান থেকে সুবিধা ভোগ করতো। ময়লার গলি বন্ধ করে জায়গা সম্প্রসারণ করে দখল করে রাখা হয়েছে। শুরুতে ২ টি দোকান থাকলেও ধীরে ধীরে ৮ টি দোকান বানানো হয়। প্রশাসকের সময় এসব লিজ বাতিল করা হলেও সাখাওয়াত হোসেন খান দায়িত্ব নেয়ার পর নতুন করে চলছে তদবির। শঙ্কা করা হচ্ছে, তদবিরের কারনে আবারও হাত বদল হতে পারে এসব দোকান। অথচ এসব দোকান উচ্ছেদ করে ফুটপাত ও দখল করা জায়গা পরিস্কার করার দাবি সকলের। সবশেষ হকার উচ্ছেদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বৈঠকেও এই দোকানগুলোর কথা উঠে এসেছিলো সিটি করপোরেশনের সভায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ১৩ তারিখ এসব দোকান ভেঙ্গে স্থান পরিস্কার করার কথা থাকলেও তা এখনও পুরোপুরি অপসারন করা হয়নি। এই সুযোগে চলছে নানান তদবির। তবে নতুন প্রশাসক এসব তদবির আমলে না নিয়ে অবৈধ এসব দখলদারিত্ব ভেঙ্গে পরিস্কার করে দিবেন এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।






































আপনার মতামত লিখুন :