নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর পাঁচ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন নিয়ে আগামী ৩ মে আদেশ দেবেন আপিল বিভাগ। সোমবার ২৭ এপ্রিল বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই দিন নির্ধারণ করেন।
অপরদিকে গত ২৬ এপ্রিল সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে একের পর এক মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাকে নতুন মামলায় হয়রানি বা গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন এবং অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।
অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, সেলিনা হায়াৎ আইভী হাইকোর্ট থেকে ১০ মামলায় জামিন পেয়েছেন। আবার নতুন দুই মামলায় তাকে শ্যোন দেখানো হয়েছে। শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়।
উচ্চ আদালতে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা আদেশে সাবেক মেয়র আইভীকে নতুন করে কোনো মামলায় আসামি অথবা পুরনো কোনো মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট না দেখাতে বলা হয়েছে। এতে করে কারাগারে থাকা সাবেক মেয়র আইভীর আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে জামিনে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময় ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অনেক আওয়ামী লীগ নেতাই জামিনে মুক্তি পেয়েছে। আবার অনেকেই জামিন পাওয়ার পর শ্যোন এরেস্ট হয়েছে। সাবেক মেয়র আইভীর বেলাতেও তাকে অন্য মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। তবে এবার যেহেতু তাকে নতুন করে শ্যোন এরেস্ট বা আসামি না করতে উচ্চ আদালত থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে তাই এখন মেয়র আইভীর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে নারায়ণগঞ্জে ফিরে আসার সম্ভাবনা উকি দিয়েছে। এখন আইনী লড়াইয়ে জামিন পেলেই সাবেক মেয়র আইভীর আর নতুন করে মামলায় আসামি হয়ে কারাগারে থাকার সম্ভাবনা নেই।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এসব মামলার মধ্যে পাঁচটিতে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও তা আপিল বিভাগে স্থগিত হয়ে যায়।
পরবর্তীতে ১৮ নভেম্বর আরও ৫ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এসব মামলায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তাকে অন্তবর্তীকালীন জামিন দেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৫ মার্চ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ওই জামিন স্থগিত করেন এবং নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আদমজী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন পোশাক-শ্রমিক মিনারুল ইসলাম। পরে শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয় তাকে।
এ ঘটনায় ২৩ সেপ্টেম্বর নিহত মিনারুলের ভাই নাজমুল হক বাদী হয়ে শেখ হাসিনা-সহ ১৩২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় এজাহারভুক্ত ১২ নম্বর আসামি সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে তার বিরুদ্ধে আরও মামলা করা হয়।



































আপনার মতামত লিখুন :