নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে প্রস্তুতি শুরু করেছে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। ইতোমধ্যে জামায়াত এবং এনসিপি একাধিক সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন। নারায়ণগঞ্জে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে দলের মহানগরের আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার এবং এনসিপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে আছেন মহানগরের আহবায়ক শওকত আলী।
তবে বিএনপি এখনও স্পষ্ট ভাবে কারও নাম ঘোষণা করেনি। তবে গুঞ্জন রয়েছে, বর্তমান প্রশাসকই হবেন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে যেতে পারলে এই পদে পরিবর্তন হবার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আর সেই কারণেই নিজেকে প্রমাণ করতে এবং সঠিকভাবে সেবা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন বর্তমান প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান।
তবে বিরোধী প্রধান দুই দলের মধ্যে এগিয়ে আছে জামায়াতের প্রার্থী। এনসিপির নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানান আলাপ আলোচনা তৈরি করলেও বাস্তবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে জামায়াত। এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী এখনও সেভাবে মাঠে নামতে পারেননি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জামায়াতের মহানগরের আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার বেশ কোমড় বেধেই নেমেছেন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীতা করতে। ইতোমধ্যে তিনি সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে জামায়াতের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে বৈঠক করছেন। সেই সাথে এলাকায় এলাকায় নিজের পরিচিতি বৃদ্ধি, প্রচার প্রচারণা, পোস্টারিং এবং নির্বাচনী বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে এনসিপি এখনও নারায়ণগঞ্জে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। সম্ভাব্য হিসেবে শওকত আলীকে এগিয়ে রাখলেও তিনি এখনও দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ নেননি। মহানগরের আহবায়ক পদ পাওয়ার পরেও নিজের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যেই। ওয়ার্ড পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি কিংবা নির্বাচনী গণসংযোগও শুরু করেননি। নেই নির্বাচনী সালাম জানিয়ে পোস্টারিং। সব মিলিয়ে একেবারেই আলোচনার বাইরে শওকত আলী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে প্রস্তুতি প্রয়োজন লম্বা সময়ের। এরমধ্যে প্রার্থীকে নিজ নির্বাচনী এলাকায় পরিচিত করে তুলতে হয়। সেদিক থেকে এগিয়ে আছে জামায়াতের প্রার্থী আবদুল জব্বার। তিনি প্রচার প্রচারণার পাশাপাশি পোস্টারিং করে নিজেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে জানান দিয়েছেন। সেদিক থেকে আলোচনার বাইরে শওকত আলী। ভোটারদের কাছে নিজেকে উপস্থাপনই শুরু করতে পারেননি তিনি।
এই বিষয়ে মহানগর জামায়াতের নেতা হাফেজ মোমিন বলেন, ‘জামায়াত জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই মেয়র নির্বাচনের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মাওলানা আবদুল জব্বারকে সামনে রেখে নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে কাউন্সিলর প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করেছে। এসব কাজ আমাদের অনেক আগে থেকেই প্রস্তুত। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে পুরোদমে নির্বাচনী কাজ শুরু হয়ে যাবে।‘
অন্যদিকে এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী শওকত আলী বলেন, ‘আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে কমিটি দেয়ার কাজ চলছে। সেজন্য আমাদের যোগাযোগ শুরু হয়েছে। তাছাড়া এনসিপি এখনও প্রার্থী ঘোষণা করেনি। নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করা হলে এবং নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হলে আমরা সেই অনুযায়ী কাজ শুরু করবো।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনী মাঠে ঢের পিছিয়ে আছে এনসিপি। জামায়াতের প্রার্থী সেদিক থেকে এগিয়ে। জোটগত ভাবে নির্বাচন করলে প্রার্থীদের সমর্থন দেয়ার আগে একই চিত্র থাকলে সেক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেতে পারে জামায়াত। আর এই অবস্থা নিয়ে নির্বাচন পর্যন্ত একক ভাবে এনসিপি অংশ নিলে ফলাফল সুখকর হবে না। তাই প্রার্থীদের আরও জোড়ালো ভূমিকা প্রয়োজন এখন থেকেই।



































আপনার মতামত লিখুন :