দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে নারায়ণগঞ্জ নৌপথে পণ্য পরিবহনে প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে জাহাজ ও বাল্কহেড চলাচলে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। সার্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
নৌপরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ডিজেল ঘাটতির কারণে অনেক জাহাজ ও বাল্কহেড নির্ধারিত সময়ে যাত্রা শুরু করতে পারছে না। ফলে নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর থেকে পণ্য পরিবহন বিলম্বিত হচ্ছে। অনেক জাহাজ বাড়তি টাকা চাইছে পণ্য পরিবহনে। যা বিপাকে ফেলেছে ব্যবসায়ীদের।
নারায়ণগঞ্জে নৌপথে বিপুল পরিমান পণ্য আমদানি রফতানি হয়। বিশেষত গম, তেল, চাল, সিমেন্ট কাচামাল, সার ইত্যাদি জাহাজে করে নিয়ে আসা হয়। তবে চট্টগ্রাম থেকে পণ্য পরিবহনে এখন জাহাজ সংকট দেখা দিয়েছে। বেশ কিছু জাহাজ জ্বালানি তেলের অভাবে সময়মত ছাড়তে পারছে না। যারা তেল নিয়ে নদীতে সচল আছে, তারাও রিফুয়েলিং সিরিয়ালের কারনে বিলম্বে পৌছাচ্ছে গন্তব্যে। খোলা বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে পরিবহন খরচ বাড়ছে। অনেক মালিক বাধ্য হয়ে জাহাজ বসিয়ে রেখেছেন।
জ্বালানি তেল সরবরাহকারী ডিলার রাফতার পেট্রোলিয়ামের মালিক মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমাদের প্রতি মাসে ৩ লাখ লিটার ডিজেল চাহিদা থাকে। কিন্তু এখন আমরা মাসে পাচ্ছি ৮০ হাজার লিটার। এর ফলে অন্তত ৬০শতাংশ পন্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রেখে বসে আছে। নদীতে প্রচুর জাহাজ নোঙ্গর করে বসে আছে। এভাবে চলতে থাকলে পন্য পরিবহনের খরচ বাড়বে।
চট্টগ্রাম থেকে নরসিংদীতে সারবাহী কার্গো জাহাজ এম ভি জামাল এর সুকানি সাগর বলেন, আগে চট্টগ্রাম থেকে নরসিংদী আসতে দুইবার তেল রিফুয়েলিং করতাম। এখন পর্যন্ত ৪ বার রিফুয়েলিং করেছি। কেউ চাহিদামতো তেল দিতে পারছে না। ডিজেলের দামও বেশি চায় কোন কোন ডিলার।
বাল্কহেড মালিক মাহফুজা বেগম বলেন, আমার বাল্কহেড এক মাস আগেও নিয়মিত চলাচল করত। ডিজেলের রেশনিং করার পর এখন তা সপ্তাহে এক বা দুইবার চলছে। আমার তো শ্রমিকদের ঠিকই বেতন দিতে হচ্ছে। অথচ আমার আয় কমে গেছে।
নারায়ণগঞ্জ সেন্ট্রাল খেয়াঘাটের ইজারারার দিদার খন্দকার বলেন, আমার প্রতিদিন ১৩০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। অন্তত ৩ দিনের ডিজেল স্টকে থাকতো। এখন একদিনের তেল আনতেই ৪/৫ জায়গায় যেতে হয়। খোলা বাজারে দামও বেশি চায়। বেশ ঝামেলা হচ্ছে খেয়া পারাপারে। কখনও কখনও ৪ টা ট্রলারের মধ্যে ১ টা ট্রলার বসিয়ে রাখা লাগে।
জাহাজে পন্য আনা নেয়ার উপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিকভাবে মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সহ জরুরী পরিবহন খাতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

































আপনার মতামত লিখুন :