নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে নিউ লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিলস্ এর নীরিহ শেয়ার হোল্ডারদের মালিকানা আত্মসাৎ, অবৈধ উচ্ছেদ ও শ্রমিক শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানাধীন জমি দখলের অপচেষ্টা রোধকরণের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে আন্দোলনরত শেয়ারহোল্ডাররা।
বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসকের হাতে স্মারকলিপিটি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে শেয়ারহোল্ডাররা উল্লেখ করেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১০ নং ওয়ার্ডের গোদনাইল এলাকায় ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীনারায়ণ কটন এই মিলটির অবস্থা অত্যান্ত করুন। একটি স্বার্থান্বেষী মহলের লুটপাটের কারনে মিলটি আজ ধ্বংশের দ্বারপ্রান্তে। লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলটি ২০০১ সালে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৫১০ জন স্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। মিলের দায়িত্ব গ্রহণের পর সামসুদ্দিন প্রধান ও তার সহযোগীরা অনিয়মের মাধ্যমে অতিরিক্ত শেয়ার বিতরণ, সম্পদ আত্মসাৎ, বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) বন্ধ রাখা এবং শেয়ারহোল্ডারদের হিসাব-নিকাশ ও লভ্যাংশ প্রদান থেকে বিরত রয়েছেন।
পরবর্তীতে মিলের অবৈধ চেয়ারম্যান সামসুদ্দিন প্রধান নিজের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে স্থানীয় দুই এমপি প্রয়াত নাসিম ওসমান ও শামীম ওসমানের সন্ত্রাসীবাহিনীর যোগশাজশে তাদের ঘনিষ্ঠ শিল্পপ্রতিষ্ঠান নীট কনসার্ন গ্রুপে মাধ্যমে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাদের মালিকানা কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করে। সেই ধারাবাহিকতায় কতিপয় শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগকারী নিয়োগের কথা বলে অবৈধভাবে মালিকানা কেড়ে নিতে অপচেষ্টা চালায়। যদিও সরকারি গেজেট ও চুক্তিপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ আছে শেয়ারহোল্ডার ব্যতিত কেউ মালিক হতে পারবে না, পাশাপাশি একজন শেয়ারহোল্ডার সর্বোচ্চ ১০টির বেশি শেয়ারের মালিক হতে পার বেনা। এসব ষড়যন্ত্রের ব্যপারে সচেতন শেয়ারহোল্ডারগণ অবগত হওয়া পর প্রতিবাদ করলে নীট কনসার্ন গ্রুপ শামীম ওসমানের সন্ত্রাসীবাহিনীর মাধ্যমে নিরীহ শেয়ারহোল্ডারদের উপর নির্যাতনের স্টীম রোলার চালায় যা এখনও অব্যহত আছে।
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পতনের পর শামীম ওসমান ও তার গুন্ডাবাহিনী পালিয়ে গেলেও নীট কনসার্ন গ্রুপ তার নিজস্ব গুন্ডবাহিনীর মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের হয়রানি ও মালিকানাধীন জমি কেড়ে নিতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এক্ষেত্রে নীট কনসার্ন গ্রুপ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী বর্তমান শ্রমিক বান্ধব সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন করতে ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করছে।
এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং- ১২৬৯৬/২০১৯ এখনও বিচারাধীন। পরবর্তীতে রিট পিটিশন নং-১৩৮৯২/২০২৩-এর একটি আদেশকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে মো. তোফাজ্জল হোসেন মুকুল মিলের ভেতরে বিভ্রান্তিকর সাইনবোর্ড স্থাপন করেন এবং বৈধ শেয়ারহোল্ডার ও বাসিন্দাদের উচ্ছেদের চেষ্টা চালায়। এর প্রতিবাদে শেয়ারহোল্ডার গন হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং-১৬৬২৩/২০২৩ দায়ের করে যার প রিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত অবৈধ পর্ষদ ও নীট কনসার্নের সকল কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যা এখনও বলবৎ আছে। এসব মামলার জবাবে মিলের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বিটিএমসি নিজেই পরিস্কার করে শেয়ার ক্রয় বিক্রয় প্রক্রিয়া অবৈধ বলে আদালতকে জানায়।
উচ্চ আদালতকে বিদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে অবৈধভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় স্থানীয় প্রভাবশালী, সন্ত্রাসী ও নিজস্ব বা হিনী মাধ্যমে নিরীহ শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা কেড়ে নিতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এসব কারণে মিলের অভ্যন্তরে বসবাসরত প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারগণ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। শেয়ারহোল্ডারদের জানমালে নিরাপত্তা ও মালিকানা রক্ষায় এবং নীট কনসার্ন গ্রুপ ও তার বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ একান্ত আবশ্যক।



































আপনার মতামত লিখুন :