নারায়ণগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ বেশ কিছু স্থানে ঝটিকা মিছিল করেছে গত কয়েকমাসে। অধিকাংশ মিছিলই অনুষ্ঠিত হয়েছে ভোর সকালে কিংবা রাতের অন্ধকারে। বেছে নেয়া হয়েছে ফাঁকা সড়ক, অর্থ্যাৎ যেখানে সাধারণত মানুষের চলাচল থাকে খুবই কম। মূলত জনরোষ এড়াতেই এমন সময় ও স্থান বেছে নেয় তারা। তবে নতুন করে এসব মিছিলের সাথে নাশকতামূলক কার্যক্রম চালাতে দেখা গেছে তাদের। বিশেষত ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক তৈরী করে আসছে তারা।
সম্প্রতি মিছিল করতে গিয়ে এনসিপি ও ছাত্রদলের দ্বারা ধাওয়ার শিকার হয়েছে আওয়ামী লীগ। সেই সাথে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে উঠে এসেছে তাদের মিছিল ও নাশকতা চালানোর কৌশল। এর মাধ্যমে মিছিল ও নাশকতা চালিয়ে দ্রুত সরে যাচ্ছে তারা। পুলিশের পাশাপাশি জনরোষ থেকেও বেঁচে যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝটিকা মিছিল ও নাশকতা করার জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বর্তমানে মাইক্রোবাস ভাড়া করছে। একাধিক মাইক্রোবাস ভাড়া করে ভোরে বা রাতে সড়ক পর্যবেক্ষন করে। এরপর অপেক্ষাকৃত ফাঁকা স্থান বেছে নিয়ে সেখানে শুরু হয় ঝটিকা মিছিল। এসব মিছিলের সময় ত্রিশ সেকেন্ড থেকে এক মিনিট স্থায়ী হয়। দ্রুত ব্যানার বের করে মিছিল শুরু করে তারা। নিজেরাই মুঠোফোনে ধারণ করে সেই মিছিলের ভিডিও। এরপর দ্রুত মাইক্রোবাসে উঠে পরে পালিয়ে যায় তারা।
প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে মহানগর ছাত্রশক্তি নেতা নাজমুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি আমি রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে বাসায় ফেরার পথে দেখতে পাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পাঁচটি মাইক্রো এবং চারটি প্রাইভেটকার নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। এরপর দ্রুত তারা মিছিল করে গাড়িতে উঠে পালিয়ে যায়। এভাবেই মূলত জেলার বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করে আসছে তারা।
এদিকে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জেও নাশকতা করার শঙ্কা রয়েছে। জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের ঘটনায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। সেই সাথে আওয়ামী লীগের পক্ষ নিয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালানো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জোড়ালো পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।
মাইক্রো গাড়িতে করে নাশকতা চালানোর বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, ‘এই বিষয়ে আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি। বিশেষত গাড়ির স্ট্যান্ডে আমাদের বাড়তি নজরদারি থাকবে। কারা গাড়ি ভাড়া নিচ্ছে, কারা এই ধরনের কাজের সাথে যুক্ত সেই বিষয়ে খোঁজ নেয়া হবে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সংগঠক লুবনা রহমান বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের নাশকতা কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান দেখছি না। পুলিশের উচিত এই বিষয়ে আরও সরব অবস্থান নেয়া। ইতোপূর্বে আমাদের পক্ষ থেকে নানান তথ্য দেয়া হলেও ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে দেখেছি শৈথল্য। দিনশেষে এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম সরকারকেই বিপাকে ফেলবে। তাই পুলিশ প্রশাসনকে আরও তৎপর হওয়ার বিকল্প নেই।





































আপনার মতামত লিখুন :