নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আবার সময় চেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা র্যাব। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১২ আগস্ট পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা র্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক চন্দ্র মজুমদার লিখিতভাবে সময়ের আবেদন করেন।
শুনানি শেষে আদালত ৩০ কার্যদিবস সময় বাড়িয়ে দেন। এ নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে ১০৫তম বারের মতো সময় নেওয়া হলো।
এর আগে গত ১ জুন আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ১ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর আগে ২৬ এপ্রিল মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে চেয়ে আবেদন করা হলে তা মঞ্জুর করেন আদালত।
বুধবার আদালতে হাজিরা দেন আসামি জামসেদ, ইউসুফ হোসেন, কাজল হাওলাদার, সাফায়েত হোসেন, ইয়ার মোহাম্মদ পারভেজ ও রিফাত বিন ওসমান। জামিনে মুক্তির পর পলাতক আছেন সুলতান শওকত ভ্রমর, সালেহ রহমান ও আবদুল্লাহ আল মামুন।
এ ছাড়া তায়েব উদ্দিনের পক্ষে আইনজীবী সময় বাড়ানোর আবেদন জানালে শেষবারের মতো সময় বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর করা হয়।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রদীপ ঘোষ বলেন, ২ জুন তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে সালেহ রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন। বুধবার শুনানি থাকলেও আসামি পলাতক থাকায় এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর না হওয়ায় আদালত জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ নেই বলে আদেশ দেন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ কার্যদিবস সময় বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আবদুস সামাদ বলেন, ত্বকী হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে তদন্তকারী কর্মকর্তার আরও এক মাস সময় চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১২ আগস্ট পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
তিনি বলেন, সালেহ রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনটি আসামি পলাতক থাকায় আদালত অপেক্ষমাণ রেখেছেন।
২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খাঁ সড়কের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সুলতান শওকত ভ্রমর ও ইউসুফ হোসেন লিটনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১১। এর মধ্যে সুলতান শওকত ভ্রমর ও ইউসুফ হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয় বলে তাঁরা জানান।
২০১৪ সালের ৫ মার্চ তদন্তকারী সংস্থা র্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চার সেলে আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। শিগগিরই তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবে; কিন্তু সেই অভিযোগপত্র আজও আদালতে পেশ করা হয়নি। ত্বকী হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট প্রতি মাসের ৮ তারিখে ঘাতকদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মোমশিখা প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে।


































আপনার মতামত লিখুন :