News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

হকার : আরো এক ব্যর্থতার গল্প অপেক্ষায়


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২৬, ১০:২৪ পিএম হকার : আরো এক ব্যর্থতার গল্প অপেক্ষায়

নারায়ণগঞ্জবাসীর কপালে ফুটপাতের এই হকার যেন এক অভিশাপে পরিণত হচ্ছে। হকার সমস্যার সমাধান যেন হয়েও হচ্ছেনা। দীর্ঘ সময় ধরে নগরবাসী ললাটে হকার নামক এই দুর্ভোগ লেগে আছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর হকারের সংখ্যা যেন রাতারাতি দ্বিগুন হয়ে যায়। ফুটপাত দখলের পর তারা বঙ্গবন্ধু সড়ক দখল করেও দিনভর দোকানপাট বসাতে থাকে। নগরবাসীকে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান গত এপ্রিল মাসে হকার উচ্ছেদ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সে মোতাবেক গত ১৩ এপ্রিল সফল ভাবে হকার উচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। কিন্তু এর কিছুদিন পরেই হকারদের পুনর্বাসনের দাবি উঠতে শুরু করে। কিছুদিন নগরীর ফুটপাত হকারদের দখলমুক্ত থাকলেও নতুন করে আবারো পুরোনো রূপে ফিরতে শুরু করে নগরীর চিত্র।

তবে হকারদের পুনর্বাসনের জন্য একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছিলেন নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান। কিন্তু সেই উদ্যোগও যেন ভেস্তে যেতে বসেছে। ফলে হকার ইস্যুতে নাসিক প্রশাসকের সামনে অপেক্ষা করছে আরো একটি ব্যর্থতার গল্প।

জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই থেকে নগরীর বিবি রোড, শহীদ সোহরাওয়ার্দী সড়ক, শায়েস্তা খান সড়ক ও নবাব সিরাজদৌলা সড়কের ফুটপাতে থাকা হকারদের পুনর্বাসনের জন্য ২নং রেলগট থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত রেলসড়কের পাশের জায়গায় স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে। এসব জায়গায় জমে থাকা আবর্জনা পরিস্কার এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শেষে সেখানে ২২ ফুট চওড়া জায়গা নিয়ে হকারদের বসার জন্য সুব্যবস্থা করা হচ্ছে।

২৭ জুলাই দুপুরে শহরের গলাচিপা এলাকায় চলমান কাজের পরিদর্শন করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, রাষ্ট্র ও সরকার, সিটি কর্পোরেশন জনগণের জন্য। এখানে বিভিন্ন পেশার জনগণ আছে। সকলের স্বার্থের কথা চিন্তা করে যাতে আমরা একটি সুষম উন্নয়ন করতে পারি সেটার দিকে লক্ষ্য রেখেই নারায়ণগঞ্জের হকার সমস্যাকে সমাধান করতে চাই। সে সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা অস্থায়ী ভাবে এখানে বসার সুব্যবস্থা করে দিচ্ছি। সবাই পেটের জন্য কাজ করে থাকে। সে দিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করে থাকি। প্রথমে আমরা হকারদের একটি লিস্ট করবো। যাকে তাকে হকার হিসেবে গন্য করা হবেনা। পূর্বে যাদেরকে হকার মার্কেটে দেওয়া হয়েছে তাদেরকে আর দেয়া হবেনা। যারা প্রকৃত হকার তাদের তালিকা করে আমরা এখানে বসার ব্যবস্থা করে দিবো। এখানে বিশাল বড় জায়গা হবে সকল হকার স্বাচ্ছন্দে বসতে পারবে। এখানে যদি পরিবেশটা উন্নয়ন করতে পারি তাহলে সকল ক্রেতারা এখানে আসবে। জায়গাটি ফরোওয়ার্ড হবে, সামনে দিয়ে রাস্তা হবে, খুব সুন্দর ভাবে তারা এখানে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে। সিটি কর্পোরেশন সকলের জন্য কাজ করবে। সবাই ধৈর্য্য ধরে সিটি কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করবেন এই প্রত্যাশা রাখবো।

তিনি আরো জানা, এখান মোট জায়গা পরিমাপ করে নির্দিষ্ট জায়গা দেওয়া হবে। প্রত্যেকের জন্য জায়গা নাম্বারিং করে দেওয়া হবে। নাম্বার অনুযায়ী এখানে হকাররা বসবে।

হকার এবং ক্রেতাদের নিরাপত্তায় রেল চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ছেড়ে দিয়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ করে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। আপাতত সেখানে বাঁশ দিয়ে সাময়িক বেড়া নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।

তবে কাজ শেষ না হতেই হকারদের এই পুনর্বাসনের কাজ বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। রেলওয়ে থেকে আপত্তি জানিয়ে আগামী সাতদিনের মধ্যে এসব সরিয়ে নিয়ে রেলওয়ের জমি ফেরত দিতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের এস্টেট বিভাগের ফিল্ড কানুনগো সেখানে অভিযান পরিচালনা করে ৭দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার কামরুল ইসলাম খান জানান, নাসিক যেখানে রেলওয়ের জমিতে হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টি আমরা অবগত নই। তবে নাসিককে অবশ্যই সেই জমি ছেড়ে দিতে হবে। যেখানে হকারদের পুনর্বাসনের জন্য কাজ করা হচ্ছে সেখানে নারায়ণগঞ্জ-কমলাপুর সড়কে ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় আরো একটি রেললাইন বসবে। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে সেই কাজ শুরু হয়ে গেছে। তাই সেখানে কোনো অবস্থাতেই হকারদের পুনর্বাসন সম্ভব নয়। নাসিককে অবশ্যই যে জমি ছেড়ে দিতে হবে। যতটুকু কাজ করেছে সেটি সরিয়ে নিতে হবে।

এদিকে হকারদের নেতা রনি জানিয়েছে, আমাদের সেখানে পুনর্বাসন করার কথা বলা হলেও আমাদের সাথে কোনো আলোচনা করা হয়নি। তবে আমাদেরকে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব টিপু ভাই বেশ কয়েকবার ফোন করেছে। আমাদেরকে সেখানে বসার কথা বলেছে। আমরা বলেছি আমাদেরকে সেখানে কতদিনের জন্য বসতে দিবে। বসার পর দুই মাসের মধ্যে আবার তুলে দেওয়া হলে আমরা তখন কই যাবো। রেলওয়ে থেকে সেখানে বসার কোন অনুমতি দিয়েছে কিনা এমন কোন কাগজ রেলওয়ে থেকে দিয়েছে কিনা আমরা জানতে চেয়েছি। টিপু ভাই আমাদের বলেছে আপাতত ওখানে বসতে বাকিটা পরে দেখবেন। তবে আমরা জানিয়েছি আমরা এভাবে বসবো না। যতদিন আমাদের পুনর্বাসনের জন্য নিদিষ্ট কোন জায়গা না দেওয়া হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত আমরা বিকাল ৫টার পর শৃঙ্খলা ভাবে ফুটপাতে বসতে চাই বলে তাকে জানিয়েছি।