গত ৩০ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বাজেট ঘোষণা করেছেন। সিটি কর্পোরেশনের এই বাজেট নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরী আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার এক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আমরা সিটি কর্পোরেশনের ঘোষিত বাজেটকে নগর উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করি। বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যানজট নিরসন, মশক নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, নগর অবকাঠামোর উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেয়া।
তিনি আরো বলেন, আমরা সিটি কর্পোরেশনের ঘোষিত এ বাজেট গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছি। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, উচ্চাভিলাষী এ বাজেট নগরবাসীকে হতাশ করেছে। নগরবাসীর প্রত্যাশা ছিল, প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে বর্তমান প্রশাসক মহোদয় পূর্ববর্তী প্রশাসকদের নিকট নগরবাসীর জন্য যে সকল সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাশা ও দাবি করতেন সেগুলোকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে বাস্তবায়নের তালিকায় রাখবেন। কিন্তু তিনি যে বাজেট ঘোষনা করেছেন সেখানে তা প্রতিফলিত হয়নি। বাজেটে বেশ কিছু বড় প্রকল্পের ঘোষণা থাকলেও নাগরিকদের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানের বাস্তবসম্মত কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখার উল্লেখ নেই।
বছরের পর বছর ধরে যানজট নিরসন, মশক নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, নগর অবকাঠামোর উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় দুরবস্থা বিদ্যমান থাকলেও এবারের বাজেটেও এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর ও সময়োপযোগী পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট।
এছাড়া গত-২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও এ অর্থ বছরেও বাজেটে রাজস্ব আহরণের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অর্জনের বাস্তবসম্মত কোন কৌশল উপস্থাপন করা হয়নি। অতীতের বছরগুলোতে বাজেট বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে গণআকাক্সক্ষা পূরণ না হওয়া সত্ত্বেও একই ধরনের প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি জনগণকে আশাহত করেছে। আমরা মনে করি বাজেট প্রণয়নে নাগরিক, বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের মতামত না নেয়ার কারণে বাজেটে নাগরিক ভাবনা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
আমরা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই, বাজেট বাস্তবায়নে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হোক এবং নাগরিকদের মৌলিক সমস্যা, বিশেষ করে যানজট নিরসনে ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ, সম্ভাব্য ক্ষেত্রে লিংক রোডের ব্যবস্থা করা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত, মশক নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা, নগর অবকাঠামোর উন্নয়ন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য নতুন পাইপলাইন নির্মাণসহ নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হোক। অন্যথায় এই বাজেট অতীতের মতো কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে, আর নগরবাসী কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হবে।



































আপনার মতামত লিখুন :