News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

শায়েস্তা খান সড়কে অবৈধ বাজার বসিয়ে কোটি টাকার চাঁদাবাজি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম শায়েস্তা খান সড়কে অবৈধ বাজার বসিয়ে কোটি টাকার চাঁদাবাজি

নগরীর অন্যতম বৃহৎ কাঁচাবাজার দ্বিগুবাবুর বাজারের ইনস্টিটিউট রোড পার্শস্থ অস্থায়ী কাঁচা বাজার সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন থেকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। যেখানে সিটি কর্পোরেশন থেকে সুনিদিষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এই ইজারা মীরজুমলা সড়ক ব্যতিত। পাশাপাশি দরপত্রের দিন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করেছেন যে মীরজুমলা সড়কটি এর সাথে সম্পৃক্ত নয়। যদি ইজারাদার শর্ত ভঙ্গ করে তাহলে এই ইজারা বাতিল করা হবে।

তবে নাসিকের এমন সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মীরজুমলা সড়ক সহ যান চলাচলকারী শায়েস্তাখান সড়কেও অবৈধ ভাবে বাজার বসিয়ে বছরে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে কোটি টাকা।

জানা গেছে, প্রতিদিন গভীর রাত থেকে পরদিন সকাল ১১টা পর্যন্ত যান চলাচলের ব্যস্ততম এই সড়কটি হয়ে উঠে অস্থায়ী কাঁচা বাজার। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন এখানে প্রায় ৩০০ এর উপরে পাইকার রাস্তায় তাদের মালামাল নিয়ে বসেন। প্রতিটি দোকান থেকে ২৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নিয়ে থাকেন ইজারাদারের লোকরা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের অনুসারী সনেট নামের একজন এই ইনস্টিটিউট এর পাশ্ববর্তী কাঁচাবাজারের ইজারা প্রাপ্ত হয়েছেন। সবাই তাকে জাকির খানের ভাগিনা হিসেবে চেনেন। মূলত এই সনেট হলেন বাংলাদেশ হোসিয়ারী অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সভাপতি বদিউজ্জামান বদুর ভাগিনা। জাকির খানের অনুসারী হওয়ায় সবাই তাকে জাকির খানের ভাগিনা হিসেবেই চেনে।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, এখানে পাইকারদের বসাতে টাকা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে দারোয়ানের খরচ বাবদ মাসে ২৫০ টাকা করে আদায় করা হয়, অথচ পাইকারদের অভিযোগ এখানে কোন দারোয়ান নিয়োগ করা হয়নি। এছাড়াও প্রতিদিন এখানে মালামাল নিয়ে আসা অটো গুলো থেকেও ৩০টাকা করে নেওয়া হয়, আবার মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের কাছ থেকে ৩০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। সব মিলিয়ে প্রতিদিন শায়েস্তা খান সড়কে রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত কয়েক লক্ষ টাকার চাঁদাবাজি হয়ে থাকে।

এছাড়াও প্রতিদিন এখানে বাজার বসার কারণ এই সড়কটি অধিক বেশি পরিমাণে ময়লা আবর্জনা জমা হয়। ফলে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে আলাদা ভাবে এই সড়কটির ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করার জন্য ময়লা অপসারণে ভেকু ও ট্রাক সহ প্রায় ১০জন পরিচ্ছন্ন কর্মী কাজ করে থাকেন। এতে করে নাসিকেরও যেমন জনবল ব্যবহৃত হচ্ছে যা কিনা অন্য কোথাও জনগণের সেবার কাজ ব্যাহত হচ্ছে অপরদিকে এসব বর্জ্য অপসারণে যে জ্বালানি খরচ হচ্ছে সেটিও জনগণের উপর দিয়ে যাচ্ছে। একটি অবৈধ বাজারের বর্জ্য অপসারণের জন্য জনগণের ট্যাক্সের টাকার ব্যবহার করা হচ্ছে যা জনগণের নাগরিক সেবাকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বাজার কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করে শায়েস্তাখান সড়কে বাজার বসানোর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আমাদের ইজারাতে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে ইন্সটিটিউট সড়কের পাশ্ববর্তী কাঁচাবাজার, সেই সাথে উল্লেখ করা হয়েছে মীরজুমলা সড়ক ব্যতিত। অতত্রব ইন্সটিটিউট ইজারা নিয়ে শায়েস্তা খান সড়কে বাজার বসানো সম্পূর্ন অবৈধ। আর শায়েস্তাখান সড়ক তো বাজারের অংশ নয়।

এ ব্যাপারে বাজারের ইজারাদার সনেটের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।