নারায়ণগঞ্জে রাজনীতির অঙ্গনে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। টানা তিনবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়া এই নেত্রী প্রায় নয় মাসের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি থাকলেও স্থানীয় রাজনীতিতে তার উপস্থিতি এখনো স্পষ্ট। সিটি করপোরেশন নির্বাচন কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা উঠলেই সবার আগে উচ্চারিত হচ্ছে তার নাম।
ডা. আইভী নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বরাবরই ব্যতিক্রমী চরিত্র হিসেবে পরিচিত। জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা অবস্থায়ও তিনি নানা ইস্যুতে নিজস্ব অবস্থান তুলে ধরেছেন। সাবেক সাংসদ শামীম ওসমানের সঙ্গে তার রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ছিল বহুল আলোচিত। একাধিক সময়ে তাকে বিএনপি-জামায়াতের ঘনিষ্ঠ হিসেবে আখ্যায়িত করা হলেও মাঠের রাজনীতিতে নিজের আলাদা বলয় গড়ে তোলেন আইভী।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যখন অনেক আওয়ামী লীগ নেতা আত্মগোপনে যান, তখন নিজ বাসভবনেই অবস্থান করেন আইভী। পরে ২০২৫ সালের ৯ মে শহরের দেওভোগের চুনকা কুটির থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের রাতেও ব্যতিক্রমী অবস্থান নেন তিনি। পুলিশের উপস্থিতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভোরের আগে বাসা ছাড়বেন না। শেষ পর্যন্ত ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনাটি সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এরপর কারাবন্দি অবস্থাতেই তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা যুক্ত হতে থাকে। গত নভেম্বরে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও নতুন কয়েকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি পাঁচটি মামলায় জামিন পেয়েছেন তিনি। তবে আরেকটি মামলায় তাকে শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয়েছে।
এদিকে, কারাগারে থেকেও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন আইভী এমনটাই জানিয়েছেন তার অনুসারীরা। তাদের দাবি, প্রয়োজনে কারাগারে থেকেই নির্বাচনে অংশ নেবেন তিনি। এই বার্তা ইতোমধ্যেই নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন হিসাব-নিকাশের জন্ম দিয়েছে। আইভীর এমন অবস্থান ভাবিয়ে তুলেছে অপরাপর রাজনৈতিক দল এবং মেয়র পদপ্রার্থীদের। বিগত সময়ে বিএনপি এবং জামায়াত একজোট হয়ে নির্বাচন করলেও এবার কয়েকভাগে বিভক্ত হবে তাদের ভোট। যেই কারনে আওয়ামী ও ভাসমান ভোট ব্যাংক কাজে লাগিয়ে শক্ত প্রার্থী হয়ে উঠতে পারেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে বিএনপি ও জামায়াত একজোট হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও এবার ভোট বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সে ক্ষেত্রে সংগঠিত সমর্থন ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে শক্ত প্রার্থী হিসেবে আবারও আবির্ভূত হতে পারেন তিনবারের এই সাবেক মেয়র। সব মিলিয়ে কারাগারের দেয়ালের ভেতরে থাকলেও নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির আলোচনায় এখনো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক সেলিনা হায়াৎ আইভী। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে তার ভূমিকা ও অবস্থানই হয়ে উঠতে পারে নগর রাজনীতির সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর।


































আপনার মতামত লিখুন :