শহীদ তাজুল দিবস উপলক্ষে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির উদ্যোগে ১ মার্চ রবিবার বিকাল ৪ টায় সিদ্ধিরগঞ্জ কদমতলী স্কুলের সামনে এক শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিটির সভাপতি দিলীপ দাস।
বক্তব্য রাখেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এডভোকেট মন্টু ঘোষ, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি দুলাল সাহা, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দাস, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির নেতা আঃ মালেক ও গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য আঃ ছালাম প্রমুখ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ১ মার্চ শহীদ কমরেড তাজুল দিবস। ১৯৮৪ সালের এই দিনে ১ মার্চ এরশাদ সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের ৫ দফা দাবিতে ১১ টি শ্রমিক ফেডারেশন (ঐক্য পরিষদ) দেশব্যাপী শ্রমিক ধর্মঘট আহবান করে। অন্যদিকে ১৫ দল, ৭ দল হরতাল আহবান করে। আগের দিন ২৯ ফেব্রুয়ারি আদমজী জুট মিলে এরশাদ সরকারের গুন্ডা বাহিনী ধর্মঘট বানচালের ষড়যন্ত্র করতে থাকে। সরকারি ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে কমরেড তাজুল আগের দিন রাতেই মিছিল ও শ্রমিক সমাবেশ শুরু করে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে সরকারের লেলিয়ে দেয়া গুণ্ডাবাহিনীর হাতে কমরেড তাজুল গুরুতর জখম হন। পরদিন সকালে ঢাকা মেডিকেল নেবার পথে কমরেড তাজুল শহীদ হন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) আদমজী শাখার সম্পাদক এবং ‘আদমজী মজদুর ট্রেড ইউনিয়নে’র নেতা।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা জেলার মতলব থানার ইছাখালি গ্রামের এক সাধারণ পরিবারের সন্তান তাজুল। শৈশবে মাতৃহারা হয়ে আর্থিক সঙ্কট মোকাবেলার জন্য ঢাকা শহরে গৃহভৃত্য ও আইসক্রিম বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রবল প্রতিকূলতা শিক্ষা গ্রহণের প্রতি তার আগ্রহ কমাতে পারেনি। তিনি পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় কুমিল্লায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯৬৮ সালে তাজুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নে যোগদান করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি গোপন কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে আসেন ও বিভিন্ন গণসংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালে তাজুল মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন, বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্নাতকোত্তর পর্যায়ের অধ্যায়ন শেষে তাজুল সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তির লক্ষ্য নিয়ে ’৭৪ সালে শ্রমিক আন্দোলনে যুক্ত হন। আন্দোলন সংগ্রামের প্রধান কর্মক্ষেত্র হিসেবে দেশের বৃহত্তম জুট মিল আদমজী পাটকলকে বেছে নেন। তাজুল নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা গোপন করে আদমজীতে সাধারণ শ্রমিকের কাজ করতেন। স্ত্রী, দু’সন্তান নিয়ে তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে জীবন যাপন করেছেন তিনি। সচ্ছল জীবনের সুযোগ থাকার পরও তাজুল সে পথে না গিয়ে কষ্টের জীবন বেছে নিয়েছেন, বিপ্লবের পথ বেছে নিয়েছিলেন। ১৯৮৪ সালে কমরেড তাজুলের সেই বীরোচিত মৃত্যু সে সময়ের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তীব্র গতিবেগ সঞ্চার করে। আজও এদেশের শ্রমিকশ্রেণির মুক্তি সংগ্রামে শহীদ তাজুল ইসলাম অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছেন।
বর্তমান শ্রমিক শ্রেণির অবস্থা প্রসঙ্গে নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকদের বাঁচার মত মজুরি নেই। কথায় কথায় ছাঁটাই নির্যাতন করা হচ্ছে। শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নেই। ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন বোনাস নিয়ে তালবাহান করা হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আগামী ২০ রমজানের আগে শ্রমিকদের বেতন বোনাসসহ সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে হবে।





































আপনার মতামত লিখুন :