ঘনিয়ে আসছে বর্ষা মৌসুম। যদিও বসন্তে আবহাওয়া এখনও রুক্ষ। তবে সামান্য বৃষ্টি শুরু হতেই ফতুল্লার নিচু অঞ্চলে দেখা দিবে জলাবদ্ধতা। ইতোমধ্যে শুষ্ক মৌসুমেই বহু স্থানে পানি জমে থাকে সারাবছর। সেখানে বৃদ্ধি নামলে ভোগান্তি আরও বৃদ্ধি পাবে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে জমিয়ে রাখা এই সমস্যার সমাধান করতেই এখানকার মানুষ বেছে নিয়েছেন এমপি আবদুল্লাহ আল আমিনকে। বিশ্বাস রাখছেন, তার দ্বারাই হবে সমস্যার সমাধান।
অন্যান্য সকল প্রার্থীদের মতই আবদুল্লাহ আল আমিনের ইশতেহারে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলো জলাবদ্ধতা নিরসন। এবার নির্বাচিত হবার মাত্র ১৪ দিনের মাথায় জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য চারটি খাল খনন করতে মন্ত্রনালয় বরাবর চিঠি পাঠানোর কথা জানিয়েছেন আবদুল্লাহ আল আমিন। ইতোমধ্যে তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তার অঞ্চলের ভোটার ও বাসিন্দারা। প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার আবদুল্লাহ আল আমিন তার নিজ ফেইসবুক একাউন্টে জানান, ‘নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের অন্যতম প্রধান নাগরিক সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে আমরা কাজ শুরু করেছি প্রথম দিন থেকেই। এর অংশ হিসেবে এনায়েতনগর কাশিপুরের মধ্যবর্তী কল্যানী খাল, এবং ফতুল্লা ইউনিয়নের নলখালী, ওয়াপদা, বাগডোমারী এই চারটি খাল খনন, পাড় বাধাই ও বৃক্ষরোপনের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই সংক্রান্ত প্রজেক্ট প্রপোজাল মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল খাল সংস্কার করা হবে। সাথে থাকুন। ইনশাআল্লাহ জনগনকে নিয়ে ফতুল্লার জলাবদ্ধতা নিরসনে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যহত রাখবো।’
জানা গেছে, ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল দখল ও ভরাট এবং অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ নিচু এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি দাঁড়িয়ে থাকে দিনের পর দিন। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যবসা-বাণিজ্যও।
এই প্রেক্ষাপটে চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাল চিহ্নিত করে সেগুলো পুনঃখনন ও সংস্কার করা হলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যেতে পারবে এবং ড্রেনেজ লাইনে পানির প্রবাহ নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন প্রকৌশলীরা। প্রস্তাবনায় খালগুলোর অবৈধ দখল উচ্ছেদ, পাড় সংরক্ষণ, খনন এবং গাছ লাগানিয়ে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিগত সময়ে জলাবদ্ধতা নিরসনের আশ্বাস মিললেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। তারা চান, এবার কেবল খনন নয়—দখলমুক্তকরণ ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা হোক। সঠিক পরিকল্পনা ও সময়মতো বাস্তবায়ন হলে চার খাল খনন প্রকল্প হতে পারে টেকসই সমাধানের সূচনা। এখন নজর মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের দিকে।
এনসিপির নেতাকর্মীরা বলছেন, আবদুল্লাহ আল আমিন নিজেও এই জলাবদ্ধতার ভুক্তভোগী। এই অঞ্চলের বাসিন্দা হওয়ায় বছরের পর বছর তিনি জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে পড়েছেন। অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা গাড়ি হাকিয়ে চলে গেছেন। ফলে তারা জলাবদ্ধতার ভোগান্তির কষ্ট নিজ থেকে অনুভব করেননি। অন্যদিকে আবদুল্লাহ আল আমিন নিজেই হয়েছেন ভুক্তভোগী। ফলে তিনি যেই ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, এই অঞ্চলের মানুষ সমান ভোগান্তির মুখোমুখী হয়েছে। যেই কারনে এসব সমস্যা সমাধানে তিনি অত্যান্ত আন্তরিক।




































আপনার মতামত লিখুন :